বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ পি.এম
গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম আইয়ুব। তিনি জেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও ছিলেন। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার সময় আহত হন তিনি। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহত অবস্থায় আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাইয়ের শহীদ আশিক হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানা-পুলিশের একটি দল সন্ন্যাসী গ্রামে তার বাড়ি ঘেরাও করে। পুলিশ বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে আইয়ুব ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, ছাদ থেকে নামার সময় টিনের বেড়ার ওপর পড়ে তিনি আহত হন। এতে তার পায়ের আঙুল কেটে যায় এবং হাড় ভেঙে যায়। পরে পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল আহমদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ আশিক হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। সভায় তিনি মাদক, চুরি-ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও কিশোর গ্যাংসহ সকল প্রকার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি থানাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁ থানার হলরুমে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নবাগত ওসি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সচেতন করে এবং অপরাধ দমনে বড় ভূমিকা রাখে। পুলিশ ও সাংবাদিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।
থানাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরাসরি থানায় এসে সেবা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। সোনারগাঁ থানায় কোনো দালালচক্রের স্থান হবে না। জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করবে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল, যানজট নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। ওসি মুহাম্মদ আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের এসব পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূরুঙ্গামারীতে তিন সহযোগীসহ মাদক ও ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত শিপন রহমান (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক হওয়া অন্য তিনজন হলেন মোজাহার আলীর ছেলে শাকিল বাবু (১৯), অপু শেখের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৩২) এবং আলম মিয়ার ছেলে শাকিল আহম্মেদ (১৬)। পুলিশ জানায়, শিপনের কাছ থেকে ৬০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানের খামার এলাকার ধানক্ষেত ও সুপারি বাগানে নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও কেনাবেচা করা হয়—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানের শুরুতে এসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই আল-আমিন সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে ওই এলাকায় অবস্থান নেন। পরে ইয়াবা সেবনের সময় শাকিল বাবু, হাসিবুল ইসলাম ও শাকিল আহম্মেদকে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। সেখান থেকে ৬০টি ইয়াবা, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, শিপন রহমান একজন কুখ্যাত ক্যাসিনো ডিলার। সম্প্রতি একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে জ্যাকপট পেয়ে তিনি ১২ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘শিপন রহমান ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিন সহযোগী ও মাদকসহ তাঁকে আটক করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে উপজেলার মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশোধিত জুয়া আইন-২০২৬ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দাখিল দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা আসাদুজ্জামান কালিগঞ্জ থানায় অপহরণের অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।
অভিযুক্ত মো. মাহবুব আলম উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী (আরবি) পদে কর্মরত।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, গত ২৩ আগস্ট থেকে মাহবুব আলম মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। পরে জানতে পেরেছি, তিনি দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটি ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাহবুব আলম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের হযরত আলী গাজীর ছেলে। এর আগে তিনি জয়নগর আমিনিয়া হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০২৫ সালে তিনি বালিয়াডাঙ্গা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী (আরবি) পদে যোগদান করেন।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য রওশান কাগুজী ও অভিভাবক সদস্য মাওলানা আইয়ুব হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শিক্ষানুরাগী ডা. মাওলানা আয়ুব হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, অপহরণের অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে ‘আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ (এজিসিসি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন সাতজন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে এই আমুরন গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে কাজ করার সময় মূল গ্যাস পাইপলাইনে এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। উপার্জনের আশায় সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমানো জাকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে সূত্রটি আরও জানায়, পাইপলাইনের পরীক্ষামূলক কাজ (টেস্টিং) করার সময় হঠাৎ তা ফেটে গিয়ে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পাইপলাইনের চেক ভালভ পুড়ে গিয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে রুশ, চীনা, বাংলাদেশি, নেপালি, আজারবাইজানি, উজবেক ও তাজিকিস্তানের কর্মীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস হতাহত বাংলাদেশীদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ