০৭:২৭ এম
হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই ছাত্র।
কুমিল্লার এক নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনার খরচ মেটাতে প্রথমে টিউশনি শুরু করেন, পরে একটি অনলাইন কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম স্কুল অব এক্সিলেন্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকাকালীন হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
এটাই তার রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। তিনি সুযোগসন্ধানী, যখন যেমন প্রয়োজন তেমন আকার ধারণ করেন। নিজে ইউটিউবে কাজ করে ভিউ ভালো বোঝেন। মানুষের আকর্ষণ করার জন্য তিনি যা প্রয়োজন তাই করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সবাইকে আকৃষ্ট করতে তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরিধান করে রাস্তায় নামেন, যাতে সবাই তাকে সহজে চিনতে পারে। এভাবেই তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান না রেখেও বড় নেতা বনে যান।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক নেতার অভিযোগ, মাঠে আন্দোলনের চেয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় এবং নেতাদের সঙ্গে দেনদরবারেই বেশি সময় কাটান হাসনাত। দুই বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্ববিরোধিতায় ভরা। আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠার কথা বললেও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন, আবার সংবাদপত্রে সমালোচনা হলে মবের ভয় দেখান।
তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন অথচ এলাকায় তার বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। হাসনাতের রাজনীতির প্রধান উৎস মবসন্ত্রাস। প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয়ার মাধ্যমে রাজনীতির মাঠ দখল করাই তার কৌশল। হাসনাতের মবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়, আবার নিজের স্বার্থে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই হলো বিতর্কিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর চরিত্র। বাইরে সাদা, ভিতরে কালা।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি সংবাদ প্রকাশ করে যাতে অভিযোগ করা হয় সময় টিভিতে কর্মরত পাঁচ গণমাধ্যমকর্মীর একসাথে চাকরি যাওয়ার ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা ছিল। সিটি গ্রুপের ও সময় টিভির পরিচালক মোহাম্মদ হাসান বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১৫ জনের একটি দল তাদের অফিসে গিয়ে কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দিতে চাপ দিয়েছিল। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ সিটি গ্রুপে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও চাপ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে হাসনাত বাহিনী সিটি গ্রুপকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিলে তারা আর কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৫ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী সম্পর্কে সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর অপচেষ্টা করেন। এটি একটি চরম অন্যায় এবং অপরাধ। কিন্তু ইউনূস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত হাসনাতের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পোস্ট ঘিরে আলোচনার পর নেত্র নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, হাসনাতের বক্তব্য ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার’। এভাবেই গুজব আর অপতথ্য ছড়িয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন হাসনাত।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
হাসনাতের বিরুদ্ধে কোনো গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করতেও ভয় পায়। কারণ, হাসনাতের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেই ওই সংবাদপত্রকে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা ভারতের দালাল ট্যাগ লাগিয়ে মবের হুমকি দেওয়া হয়।
গেল বছরের এপ্রিলে ‘বিলাসী জীবনসহ নানা প্রশ্নের মুখে হাসনাত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এই শিরোনামের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম আলোকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন হাসনাত। তিনি বলেন, দিল্লি থেকে লিখে দেওয়া নিউজ করে যদি ভাবেন হাসনাত আবদুল্লাহকে থামাতে পারবেন তাহলে আপনারা এখনও ভুলের জগতে আছেন। হাসনাতের হুমকিতে প্রথম আলো সংবাদটি মুছে ফেলে।
এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও এখন তিনি প্রচণ্ড আওয়ামী লীগ বিরোধী। তার আন্দোলনকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করলেও গোপনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগের কথা ওপেন সিক্রেট। নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিএনপি প্রতিরোধে ‘আওয়ামী দোসর’দের সাথে সমঝোতা করছেন হাসনাত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হাসনাতের ছত্রছায়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হচ্ছে।
নিজের প্রয়োজনে যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলাতে পারেন তার বড় উদাহরণ ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাট্টলি এলাকার মনজুর আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাওয়া হাসনাত আবদুল্লাহ। এ খবর পাওয়ার পর জিলার যোদ্ধা পরিচয়ে কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়। পরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত জনতা হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করে। অনেকেই বলেন, মনজুর আলম ‘আওয়ামী লীগের দোসর’; হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে জুলাই যোদ্ধা, যিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন, তাহলে তিনি কেন মনজুর আলমের বাসায়, সেটিও জানতে চান তারা। পরে হাসনাতের ঘনিষ্ঠরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
দুর্নীতি বিরোধিতায় হাসনাতকে সব সময় সোচ্চার দেখা যায়। গত বছরের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। গণমাধ্যম কর্মীদের হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে এসেছি। আমাদের অভিযোগগুলো আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভেরি কনফিডেনশিয়াল’ (অতিগোপনীয়)। কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হাসনাত বলেন, ‘এটা ভেরি কনফিডেনশিয়াল। এখন কনফিডেনশিয়াল বিষয় বলে দিলে তো আর কনফিডেনশিয়াল থাকল না। তা ছাড়া অপরাধীরা সতর্ক হবে।’ পরে জানা যায়, হাসনাতের দুদক যাওয়ার পেছনে ছিল বড় চাঁদাবাজির পরিকল্পনা। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়ে তাদের আলটিমেটাম দেওয়া হয়, কিন্তু সময়ের মধ্যে শিল্পগোষ্ঠী হাসনাতদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে বিদেশে চলে যায়। হাসনাতের অভিযোগের কি হলো? জানতে চাইলে দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক দিন পরই তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
হাসনাত মাত্র তিন মাসের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এলাকায়।
দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ মুইঙ্গলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দাপূর্ব পাড়া বাইতুল ফালা জামে মসজিদের ঈদগাহ পাকা করার একটি টেন্ডার আসে। সেখানে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় একটি মসজিদের ঢালাই কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ ফুট ইন্টু ৪০ ফুট পাকা কাজের একটি টেন্ডার ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা দিয়ে করা হয়েছে। স্থানীয় রাজমিস্ত্রি অভিযোগ করে বলেন, এ কাজ সর্বাধিক ৩ লাখ টাকাতেই করা সম্ভব। প্রায় ৯ লাখ কোথায় গেল? সেই সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তাদের মতে স্থানীয় এনসিপি নেতারা এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
২০২৪ সালে বন্যার ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ হিসাব দিতে পারেননি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সময় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য জনগণের কাছে টাকা নেয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই টাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।
দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামে কোনো সোলার লাইন না বসিয়েই খরচ দেখানো হয়েছে। প্রেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সোলার লাইটটি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রাজীব মুন্সির বাজেটের। এটাকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার কাজ হিসেবে দাবি করেছেন। তাহলে সোলারের টাকা কোথায় গেল? দেবিদ্বারে সোলার লাইট বসানো নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর একাধিক অভিযোগ হয়েছে।
হোসেনপুর মধ্যপাড়া মোবারক মাস্টারের বাড়ির সামনে নেই কোনো সোলার বাতি। এমনকি, নন্দীবাড়ি সংযোগস্থলে হোসেনপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে তিন রাস্তার মোড়েও নেই কোনও সোলার বাতি। ফেসবুক এবং স্থানীয় অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহর ক্যাডাররা তাদের হুমকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
সম্প্রতি বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন দুই নেতার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারাই বৈষম্য করেছেন’। এ দুই নেতার বিরুদ্ধে মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে।
এই বক্তব্য প্রচারে অভিযোগকারী মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সময় তাদের মধ্যে উচ্চবাচ্য বিনিময় ঘটে। সেই কথোপকথনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেছেন, ‘২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে বিএনপিসহ সারা দেশের ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। অথচ কতিপয় ছাত্রনেতা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গায়ের জোরে অনিয়ম ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন।’
এটি হলো হাসনাত আবদুল্লাহ। বাইরে তিনি স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং গণতন্ত্রের কথা বলেন, কিন্তু ভিতরে বিশ্বাস করেন পেশিশক্তি ও মবে। ভিন্নমত দমন করতে বল প্রয়োগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে সমালোচকদের হুমকি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাতের কর্মকাণ্ড একসময়ের লক্ষ্মীপুরের তাহের, ফেনীর জয়নাল হাজারীর কথা মনে করিয়ে দেয়। রাজনীতিতে তাহের এবং হাজারীর মতো গডফাদাররা বিদায় নিয়েছে, এখন নতুন গডফাদার তৈরির চেষ্টা চলছে?
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন