প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা উপসাগরীয় দেশের মার্কিন একাধিক স্থাপনায় পাল্টা ড্রোন এবং মিসাইল ছুড়েছে।
সান্ধ্যকাল ২৮ জুন তারিখে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের সূত্র মতে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের হামলা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর, এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এর পরবর্তিতেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে রোববার ভোরে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সেন্টকম একটি বিবৃতিতে বলেছে, 'ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, নতুন হামলাগুলো হলো 'বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব'। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণ এবং মাইন স্থাপন সংক্রান্ত স্থাপনাসমূহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'আমরা যে কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, প্রয়োজনে তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করব।'
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার পোর্ট সালমানে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, 'শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া।'
এছাড়াও বিবৃতিতে আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে এবং তারা বলেছেন, 'এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন