শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কওমি অঙ্গনভিত্তিক সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে শুরু হওয়া নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এই দুই প্রধান শরিক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ঐক্যের প্রকৃতি রাজনৈতিক হবে কি না, কিংবা এটি কেবল ইস্যুভিত্তিক থাকবে এবং দলগুলো অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না—এই বিষয়ে উভয় দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ঐক্যের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাতটি দল একত্রিত হলেও যদি তাদের মধ্যে কেউ বিএনপি কিংবা জামায়াতের দিকে নজর দেয়, তাহলে এই ধরনের ঐক্যের রাজনৈতিক সুফল আসবে না। তাঁর মতে, “এতে ঐক্য হয়ে কোনো লাভ নেই এবং তা কোনো ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে আনবে না। একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে হলে এই সমঝোতায় থাকা দলগুলোর অন্য কোনো রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকা চলবে না।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ ঐক্যের ক্ষেত্র ও দলীয় স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এই দলগুলো একত্রিত হয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে পারে।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, “রাজনৈতিক কোনো জোট, মোর্চা কিংবা নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলের আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে।” তাঁর মতে, নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতির বিষয়টি স্ব স্ব দলের নিজস্ব নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর এই সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব।
কওমি ঘরানার এই উদ্যোগ নিয়ে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে যে, হেফাজতের ব্যানারে সাত দলীয় এই ঐক্য চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পূর্বে রাজনৈতিক স্বকীয়তা ও নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণই এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি আনন্দ, সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছেন বলে মন্তব্য করেছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর চিন্তাহরণ সরকারবাড়ি দুর্গামন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে খোকন তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মাত্র দুই বছর সময় দিন। যখন সবার ঘরে সরকারি সহায়তা পৌঁছে যাবে এবং মানুষ ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাবেন, তখন বুঝতে পারবেন আড়াই হাজার টাকা সাধারণ মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের মাসিক কোনো আয় নেই, তাঁদের জন্য এই আড়াই হাজার টাকাও অনেক বড় প্রাপ্তি বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য খোকন তালুকদার মাদারীপুর-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, ঘটমাঝি, ঝাউদী ও খোয়াজপুর ইউনিয়নের ৩৯টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
শ্রী অজয় কৃষ্ণ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য গাউছ-উর রহমান, বিএনপি নেতা রফিক মাতুব্বর, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী এবং কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান কবিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টোবর রাজশাহী সফরে আসছেন। তার আগমনের প্রস্তুতি হিসেবে রাজশাহী শহরে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ স্থানীয় এমপি শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ বিএনপি নগর ও জেলার নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে একের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজশাহী এসেছিলেন। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় তিনি নির্বাচিত হলে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকের সুখ-দুঃখ নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি এই অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল ইক্ষু চাষের উন্নয়নে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
রাজশাহী চিনিকল, গোপালপুর চিনিকল ও নাটোর চিনিকল বর্তমানে আখের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আখচাষের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। আখের সুদিন ফিরিয়ে আনতে এবং প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলে প্রাণ ফেরাতে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সফরের দিন তিনি রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে ইক্ষু চাষীদের মাঝে দ্বিগুণ অর্থপ্রণোদনা প্রদান করবেন। এই সমাবেশে ইক্ষু চাষীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবে।
এছাড়া, সফরকালে তিনি রাজশাহীর একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে আরও গুরুতর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানের এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত ও আগ্রাসনের ফলে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একে 'ইকোসাইড' বা পরিবেশগত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কেবল মানবজীবন ও অবকাঠামো ধ্বংস করে না, বরং এটি বনভূমি জ্বালিয়ে দেয়, জলাভূমি ধ্বংস করে, এবং মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে যায় বহু বছর ধরে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃতি যেন কোনো অবস্থাতেই সশস্ত্র সংঘাতে 'নীরব ও পরাধীন শিকার' না হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে কেবল রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং পরিবেশগত সুরক্ষা এবং শান্তি কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুদ্ধের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ। তিনি গত ডিসেম্বর মাসে পেন্টাগনের বার্ষিক বিশ্বব্যাপী বাহিনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতি বিদ্যমান এবং এই সংকট কাটতে অন্তত পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পূর্বে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সময় মার্কিন থাড (THAAD) ও প্যাট্রিয়ট (Patriot) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা নীতির ত্রুটি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের উৎপাদন ধীরগতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন পেন্টাগনের নির্দেশে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীন ও অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনো বড় সংঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান উৎপাদন হার বজায় থাকলেও পুরোনো মজুত পুনরুদ্ধারে আগামী দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ