মোঃ ফারুক সুনামগঞ্জ শাল্লা প্রতিনিধি
০৯:৫২ পি.এম
সুনামগঞ্জের শাল্লা থানা পুলিশ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য তাফাজ্জুল মিয়াকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে।
লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৮ জুলাই (শনিবার) শাল্লা থানার একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তাফাজ্জুল শাল্লা গ্রামের মৃত মো. মদন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশে এবং শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই মো. শাহজাহান ও এসআই ইমাম আরফিনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে।
ভয়াবহ প্রতারণার শিকার ভিকটিম মাসুদ রানা রাকিবকে সুদূর ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এই মানবপাচারকারী চক্র প্রথমে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর সে লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে রাকিবের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে রাকিব মানবেতর জীবনযাপন করার পর, প্রবাসীদের সহায়তায় এবং International Organization for Migration (IOM) ও বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ প্রচেষ্টায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিমানযোগে দেশে ফিরে আসেন।
এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। পলাতক আসামি মো. আকাশ মিয়া (২৭) এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল সমন্বয়ক, যে অপরাপর আসামিদের সহায়তায় অবৈধ পথে ইউরোপে নেওয়ার নামে অসংখ্য মানুষের জীবন সাগরে বিলীন করে দিয়েছে।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, "মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাল্লা থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১১, জিআর নং-৭৭) দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা তাফাজ্জুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি দুই পলাতক আসামি মো. আকাশ মিয়া (২৭) ও গুলজার মিয়াকে (৫২) গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিখোঁজ ও প্রতারিত হওয়া অন্য পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের গণপরিবহনব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর। এই পরিকল্পনার সঙ্গে সারা দেশে একটি সর্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগও রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের পরিবহনব্যবস্থাকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক বাস বহর গঠন করতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাসের প্রকল্পে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্পও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বৈদ্যুতিক বাস ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে দ্রুততা দেওয়া জন্য সরকার ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজ যুক্ত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ বাস বহর থাকবে, যেখানে বাসের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০টিরও বেশি রয়েছে।
সচিব জানিয়েছেন, 'সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।'
তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচিত কিছু রুটে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রূপান্তরকে সফল করার জন্য সরকার একই সঙ্গে সারা দেশে কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলছে। সচিব বলেছেন, চার্জিং স্টেশনগুলো কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। ফলে এটি একটি সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি অপারেটররাও ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরদের জন্যও খোলা হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড তৈরির কাজ করছে। এতে ব্যাটারিব্যবস্থা, চার্জিং প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিকভাবে এসব মানদণ্ড বাসের জন্য প্রযোজ্য হলেও, পরবর্তীতে তা বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের বৃহত্তর পরিবহন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে, বৈদ্যুতিক বাসের পাশাপাশি মেট্রো রেল সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নয় এমন রুটে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
সচিব বলেছেন, সম্ভাব্য মনোরেল রুট এবং এর কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বুয়েটকে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থার উপর একটি সমন্বিত উপস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ খাতে পর্যাপ্ত দেশীয় দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। সরকার বেসরকারি বাস মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তবে, অনেক বেসরকারি পরিবহন অপারেটর বিআরটিসির প্রাথমিক বৈদ্যুতিক বাস বহরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করার আগে বিনিয়োগ করতে চাইছেন। বৈদ্যুতিক বাস প্রযুক্তির তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভর্তুকি ব্যবস্থা ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে।
ড. জিয়াউল হক বলেছেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ পরিবহনের অন্যান্য বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি কওমি মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্রীকে পুলিশের মাধ্যমে সাভার থেকে দুই সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও মাদরাসা সূত্র জানাচ্ছে, উপজেলার জামিয়া জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) সৈয়দা গোলজান বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুদুরী জামাতের দুই ছাত্রী ৩ জুলাই মাদরাসার নিরাপত্তা কর্মীকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে যান। কিন্তু পরে তাদের আর ফিরে না আসার কারণে ৯ জুলাই দুই ছাত্রীর অভিভাবক সাটুরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তাদের নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সন্ধান কাজ শুরু করে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, গত শুক্রবার নিখোঁজ দুই ছাত্রী তাদের এক বন্ধুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আর্থিক সংকটে থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।
ওই বান্ধবী বিষয়টি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোশাররফ হোসেনকে জানালে তিনি অভিভাবকদের অবগত করেন। এরপর অভিভাবকেরা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সাভার থেকে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানাচ্ছে, মাদরাসা থেকে বের হয়ে দুই ছাত্রী সাভারের পপুলার হাসপাতালের নিকটবর্তী একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে শুরু করেন। তারা গার্মেন্টসে চাকরি করে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা চাকরি পাননি। পরে আর্থিক সংকটে পড়ে বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের বিষয়ে জানা গেছে যে, দীর্ঘদিন মাদরাসায় লেখাপড়া শেষ করার পরে তারা ভিন্নভাবে জীবন গড়ার পরিকল্পনা করে সেখান থেকে চলে গিয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর শনিবার দুপুরে তাদের অভিভাবকদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটি সুপারিশমালা প্রস্তুতের কাজ অব্যাহত রেখেছে, তবে বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে গেজেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
এর ফলস্বরূপ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আগস্টে গেজেট প্রকাশ হবে নাকি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, সেই সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, শুরুতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার কথা, দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং শেষ ধাপে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে।
কিন্তু বাস্তব হিসেব-নিকাশে দেখা গেছে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধি হবে না। কিছু ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হলেও সেটিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমান সময়ে আবার নতুন করে তিন ধাপের কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোর সময়ে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ধাপ, আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার কাঠামো, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারের সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।
তবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমছে না। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে সচিব কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত একটি পে স্কেল বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন হলে আরো বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হবে না।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ খুব সুন্দর। তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন, সেটি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় জুলাই আন্দোলনে নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদ ভূঁইয়ার কবর জিয়ারত শেষে খায়রুল কবির খোকন এসব কথা বলেন।
খোকন আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণের পথে রয়েছে বিএনপি সরকার। পৃথিবীর ইতিহাসে ৪ মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘটনা নেই। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ ইতোমধ্যে অনেক দাবী পূরণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টের বাইরে গিয়ে তারা (জামায়াত) রাজপথে গরম দেখালেও জনগণ তাদের মানবে না। জনগণ যে কার সাথে আছে, তা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। জনগণ বিএনপি ও ধানের শীষের পক্ষে রয়েছে। যারা দেশ পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে এবং নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে আন্দোলন করে দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করবে, তাদের জনগণ জবাব দেবে এবং দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।
খায়রুল কবির বলেন, বর্তমানে দেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন নেই, ফ্যাসিস্ট হাসিনা নেই। এখানে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার বিদ্যমান রয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, মাত্র ১ মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় ঘোষণা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, শহীদ তাহমিদের বাবার পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি জলিল, গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ