রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২১ পি.এম
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করা তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা ও ফ্যাশন আইকন ছিলেন সালমান শাহ। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি পরপারে চলে যান। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৫ বছর বয়সে, এই নায়কের মৃত্যুর সময় কয়েকটি সিনেমার শুটিং চলছিল।
কিছু সিনেমার অর্ধেক কাজ ছিল বাকি, কিছু সিনেমার ক্লাইম্যাক্স অসমাপ্ত ছিল, আবার কোথাও গান ও ডাবিং শেষ হয়নি। তবে তার সিনেমাগুলোর কাজ থেমে যায়নি।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর নির্মাতাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল; অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কী হবে? কেউ গল্প পরিবর্তন করেছেন, কেউ ডামি ব্যবহার করেছেন। আবার কেউ নতুন নায়ককে পর্দায় এনেছেন। কিছু সিনেমায় সালমান শাহর শুট করা অংশ বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
৩০ বছর পর ফিরে দেখা যাক, সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করেছিলেন কারা এবং কীভাবে।
শাবনূরকে সামনে রেখে শেষ ‘প্রেম পিয়াসী’
সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘প্রেম পিয়াসী’। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে সালমান শাহ গান, ক্লাইম্যাক্সসহ বেশ কয়েকটি দৃশ্যের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ফলে সিনেমাটি শেষ করতে নির্মাতাদের ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হয়।
গানের দৃশ্যে নায়িকা শাবনূরকে সামনে রেখে শুটিং করা হয়। সালমানের উপস্থিতি দেখানোর জন্য কয়েকটি দৃশ্যে ডামি ও দূর থেকে নেওয়া শট ব্যবহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত গল্পের শেষ অংশেও পরিবর্তন আনতে হয় নির্মাতাকে। সালমানের মৃত্যুর পর ‘প্রেম পিয়াসী’সহ কয়েকটি সিনেমা অন্য অভিনেতা ও ডামিশিল্পীদের সহায়তায় শেষ করার তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘স্বপ্নের নায়ক’ শেষ করেন আমিন খান
সালমান শাহকে ছাড়া একটি সিনেমার গল্প কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়; তার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ ‘স্বপ্নের নায়ক’। সিনেমাটির অর্ধেকের কম কাজ করেছিলেন সালমান শাহ। এরপর গল্প পরিবর্তন করে মাঝপথেই তাঁর চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়।
এরপর সিনেমার গল্প এগিয়ে নিতে যুক্ত হন আমিন খান। অর্থাৎ, সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রের জায়গায় সরাসরি কাউকে বসানো হয়নি; বরং গল্পের মধ্যেই তার চরিত্রের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন চরিত্রকে সামনে আনা হয়। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পায় সিনেমাটি।
ডামির সাহায্যে শেষ ‘শুধু তুমি’
‘শুধু তুমি’র অবস্থা ছিল আরও জটিল। সালমান শাহ সিনেমাটির মাত্র ৩০ শতাংশের কম কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে বাকি গল্প এগিয়ে নেওয়া ছিল কঠিন। শেষ পর্যন্ত ডামি ব্যবহার এবং গল্পে পরিবর্তন এনে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়। তবে ডামির ব্যবহার দর্শকদের চোখ এড়ায়নি।
১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তাই সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নির্মাতাদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
‘আনন্দ অশ্রু’: শেষ করেন নির্মাতা শিবলি সাদিক
‘আনন্দ অশ্রু’র বেশির ভাগ শুটিং সালমান শাহর জীবদ্দশাতেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু বাকি ছিল শেষ দৃশ্য, কয়েকটি গানের শুটিং এবং ডাবিং। পরিচালক শিবলি সাদিকের সিনেমাটি পরে সম্পন্ন করা হয় সালমান শাহকে ছাড়াই।
১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা। তার অসমাপ্ত কাজের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সম্পন্ন অবস্থায় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সালমানের জায়গায় এলেন ফেরদৌস
সবচেয়ে অভিনব সমাধানটি আসে ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায়। পরিচালক ও প্রযোজক ছটকু আহমেদের সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি ছিল সালমান শাহর মৃত্যুর সময়। শুধু ডামি ব্যবহার করে সিনেমাটি শেষ করা সম্ভব ছিল না। তখন গল্পেই আনা হয় বড় পরিবর্তন।
কাহিনিতে দেখানো হয়, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে চরিত্রটির চেহারা বদলে গেছে। সেই পরিবর্তিত চরিত্রে পর্দায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ।
এভাবেই সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমা শেষ করতে যুক্ত হন নতুন একজন নায়ক। ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছিল ফেরদৌসের বড় পর্দায় অভিষেকের সিনেমা এবং সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও এটি। সিনেমাটির কাজ শেষ করতে গল্প পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে যুক্ত করার কথা পরিচালক ছটকু আহমেদ নিজেও বলেছেন।
সালমানের দৃশ্য বাদ দিয়ে আসেন রিয়াজ
সব অসমাপ্ত সিনেমা ডামি বা গল্প পরিবর্তন করে শেষ করা হয়নি। ‘মন মানে না’র ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত। সালমান শাহ সিনেমাটির কিছু অংশের কাজ করেছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর পর সেই অংশ বাদ দিয়ে রিয়াজকে নিয়ে সিনেমাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
অর্থাৎ, এখানে সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্র শেষ করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং সিনেমাটিই নতুন নায়ককে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে সালমান শাহর মৃত্যুর সময় সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওমর সানী ও অমিত হাসানের হাতে নতুন করে নির্মাণ
একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েকটি সিনেমার ক্ষেত্রে। সালমান শাহর কিছু অংশের শুটিং করা দৃশ্য বাদ দিয়ে ওমর সানীকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ‘কে অপরাধী’। অন্যদিকে অমিত হাসানকে নিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ‘তুমি শুধু তুমি’।
অর্থাৎ, এই সিনেমাগুলোতে সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজকে জোড়া লাগানো হয়নি। তার শুট করা অংশ বাদ দিয়ে নতুন অভিনেতাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন শুটিং। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কয়েকটি সিনেমা অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে নির্মাণের তথ্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রবিষয়ক সূত্রে পাওয়া যায়।
যে সিনেমাটি শেষই হয়নি
সব সিনেমার ভাগ্য অবশ্য এক ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পন্ন হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি সিনেমাটি। ফলে তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি রয়ে যায় অসমাপ্ত ইতিহাস হিসেবেই।
সবমিলিয়ে সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর গল্পে তাই একাধিক মানুষের নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু ৩০ বছর পরও এসব সিনেমা দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; সালমান শাহর জায়গা কেউ পূরণ করতে পারেননি। নির্মাতারা সিনেমা শেষ করেছিলেন, গল্প বদলেছিলেন, নতুন নায়ক এনেছিলেন, আবার কোথাও কোথাও ডামি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু দর্শক পর্দায় বারবার খুঁজেছেন সেই মানুষটিকেই, যিনি সিনেমাগুলো শুরু করেছিলেন—কিন্তু শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ লেবাননে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়।
এদিকে, আরব সালিম শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসীরা দুটি ড্রোন পাঠিয়েছে। এর জবাবে আইডিএফ এখন দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে।’
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ইসরাইলি কোনো সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) জন্য ফোকালডাটার পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি এফটির জরিপে তার সর্বনিম্ন অনুমোদন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক মাস আগে এই অনুমোদনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। এই ভোটারদের মধ্যে তার কাজের অনুমোদন ৭২ শতাংশে নেমেছে, যা এফটির জরিপে আরেকটি নতুন রেকর্ড সর্বনিম্ন। অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জরিপে।
জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভুল পথে যাচ্ছে। ৫৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্পের শুল্ক এবং বাণিজ্যনীতির বিরোধিতা করেছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ।
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ এবং নতুন শুল্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। এসব শুল্কের ফলে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক ভোটার।
এদিকে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিকা রিপাবলিকানদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরিপে ৪৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের সক্রিয় ভূমিকা রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন করে তুলছে। ৪৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন—এমন কোনো প্রার্থীকে তারা সমর্থন করতে কম আগ্রহী।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের জন্য লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফোকালডাটা ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এই জরিপটি পরিচালনা করে। জরিপে ১ হাজার ৯১৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত হেরফের হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলার মাঠ ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনের (রেজিস্ট্রার ভবন) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের গাফিলতির প্রতিবাদে ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে অভিনব উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণকাজের জন্য আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে যায়। লাইব্রেরির কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন থেকে চার বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এতে দীর্ঘ সময় ধরে হলটির শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এমনকি হলের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংযোগ সড়কও নেই। ফলে বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট চার দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদ। এতে প্রশাসনের সমন্বয়সভাকে ‘দায়সারা ও কালক্ষেপণ’ উল্লেখ করে তা বর্জন করা হয়। একই সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কর্মদিবসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার এবং ওয়াশরুমের পাশে অবস্থিত ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন; হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ-সড়ক নির্মাণ; হলের মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা এবং হলের চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
স্মারকলিপিতে দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হলেও দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবন অবরোধের কর্মসূচি নেন।
আন্দোলনরত ৫০ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমুল হাসান বলেন, লাইব্রেরির কাজের কারণে আমাদের মাঠ নষ্ট হয়েছিল। কথা ছিল কাজ শেষ হলে দ্রুত মাঠ বানিয়ে দেওয়া হবে। হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা বারবার জানানোর পর প্রশাসন টেন্ডার দিতে রাজি হলেও শুধু কালক্ষেপণ ও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সব হলে মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা আছে, শুধু আমাদের হলের মাঠ নেই। এমনকি ভেতরে চলাচলের রাস্তাও নেই। বাইক বা যানবাহন বারান্দা দিয়ে চালাতে হয়। অবিলম্বে আমাদের মাঠ ও সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার হোসেন বলেন, হল সংসদ গঠনের আগে থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা ২৭ আগস্ট উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কারের কাজ শুরুসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে মারধরের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে মো. আলতাব হোসেন (৬০) নামের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার রাতে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশাপাশি তিনি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে একটি টিনশেডের কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মদিনা সিটি এলাকায় তার দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন। পরিবারের দাবি, একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকেও মারধর করা হয়। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
আলতাবের কাছে তার ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এসময় তার বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। পরে আরিফুল ও তার বাবা কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরিবারের ভাষ্য, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
‘সাদা প্রাইভেট কারে এসে নেশা করতেন’
নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটি থাকায় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। শরিফুলের অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে দিয়ে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের কারখানার বাম পাশে একটি জায়গায় বালু ফেলায় সেখানে মাঠের মতো জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই স্থানে ওই ব্যক্তিরা নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গ্রেফতার এক
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ