ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্যে এক বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

আজকের দিন, সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি জানিয়েছেন, ‘একই সময়ে সরকার আগামী নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে অংশগ্রহণ করবে, যেটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এই সময়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা অন্ধত্ব ভোগ করছেন। এই বিশাল জনগণের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রধান লক্ষ্য।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই ১০ লাখ মানুষের জন্য আমরা দেশব্যাপী সুলভ মূল্য এবং বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের উদ্যোগ নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ইতোমধ্যে বাজেটে চোখের ছানি অপারেশনের জন্য লেন্সের ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে চোখের ছানি অপারেশনের খরচ নির্ধারিতভাবে অনেক কমে যাবে, যা দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।’

নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিটের প্রসঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে এই প্রথমবারের মতো একটি বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন হতে যাচ্ছে এবং এই সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।’

এছাড়া, গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখের সুরক্ষার বিষয়েও সরকারের নতুন পরিকল্পনার খবর জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে অনেক শিশু চশমা ও চোখ পরীক্ষার অভাবে সঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছে না, যা তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে এবং তিনি আইএপিবি-কে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিও আমাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, ‘২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই গ্লোবাল সামিট, যা বিশ্বনেতাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উপস্থিত হবেন।’

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার অগ্রণী হিসেবে উল্লেখ করে, পিটার হল্যান্ড জানান, ‘বিশ্বজুড়ে চোখের দৃষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি বাংলাদেশ স্পন্সর করেছে। দশকের পর দশক ধরে এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।’

আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী এই বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। বিশেষত, দেশের ছানি অপারেশন সেবার মান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছানোর মত প্রোগ্রামে গুরুত্বের সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চলমান রয়েছে।’

আগামী নভেম্বরের গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও সহ-আয়োজকের ভূমিকা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পিটার হল্যান্ড।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুর পৌরসভা দুর্নীতি ও কোন্দলে বিপর্যস্ত, অচল ২৬০ কিমি সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


পিরোজপুর পৌরসভা দুর্নীতি ও কোন্দলে বিপর্যস্ত, অচল ২৬০ কিমি সড়ক

দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় কোন্দলের কারণে বিগত কয়েক বছরে পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানে অধিকাংশ সড়ককে দেখে মনে হবে গ্রামের কোনো কাদা-মাটির রাস্তা। বড় বড় খানাখন্দে পানি জমে রাস্তাগুলো এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পৌরসভার মোট ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৬০ কিলোমিটার সড়কই বর্তমানে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে লক্ষাধিক পৌরবাসীকে, এবং সড়কে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায় যে, ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয় পিরোজপুর পৌরসভা। তবে সময় অনেক গড়ালেও নাগরিক সুবিধা এখানে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে আছে। পৌরসভায় মোট ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ রাস্তাই ভাঙা এবং বেহাল। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ আর ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী পৌর এলাকায় বসবাস করা লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে।

বর্তমানে এই ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক রয়েছে ৩৫-৪০ কিলোমিটার এবং চলাচলের উপযোগী মাত্র ৯০ কিলোমিটার রয়েছে। বাকি ২৬০ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

পৌরসভার রায়েরকাঠি এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'পৌরসভার ভিতরে যতগুলি রাস্তা রয়েছে, অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দে ভরা। আমরা পৌরবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করি। ভাঙা রাস্তায় রিকশা কিংবা অটোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। কবে নাগাদ রাস্তাগুলি ভালো হবে, তা হয়তো আমরা দেখে যেতে পারব না।'

একই ধরনের ভুক্তভোগী পৌরসভার পালপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডিম ব্যবসায়ী সিরাজুল। তিনি কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে পাইকারিভাবে ডিম সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ভাঙার কারণে ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে প্রতিদিন ৮-১০টা ডিম ভেঙে যায়। যার ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খারাপ থাকায় প্রতিনিয়ত ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়। ফলে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছি না।'

পৌরসভার এই বেহাল দশার জন্য কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন সাধারণ পৌরবাসী। তবে এই বিষয়ে পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন জানান, পর্যাপ্ত ফান্ড কিংবা বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি নাগরিক সুবিধা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, 'বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সুবিধা। নতুন বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিনেমা নিষিদ্ধের পর ডাউনলোড কপি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান দিলেন দিলজিৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


সিনেমা নিষিদ্ধের পর ডাউনলোড কপি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান দিলেন দিলজিৎ

চার বছরের প্রচেষ্টার পর সিনেমাটি বানিয়েছেন দিলজিৎ। তিন বছর সেন্সরে আটকে থাকার পর, মুক্তি দিতে লাগল সাত বছর। কিন্তু এত সময় অপেক্ষার পর মুক্তির পর সিনেমাটি সাত দিন চলল না। তিন দিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ করা হলো পাঞ্জাবী গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের সিনেমা ‘সাতলুজ’। এর ফলে এই সিনেমার ডাউনলোড কপি ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বললেন দিলজিৎ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, গত ৩ জুলাই ওটিটি মাধ্যম জি ফাইভে মুক্তি পায় দিলজিতের ‘সাতলুজ’। মাত্র তিন দিন না যেতেই রবিবার ভারতে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ওটিটি মাধ্যম একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি’র কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ‘সাতলুজ’ প্রদর্শন করতে পারছে না।

এদিকে, দিলজিৎ এই বিষয়টি নিয়ে হতাশ নয়। তিনি মনে করেন, ইতোমধ্যে অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে ‘সাতলুজ’। অনেকেই সিনেমাটি ডাউনলোড করে রেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে এই গায়ক ও অভিনেতা সিনেমাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে হতাশ না হলেও দিলজিৎ ক্ষুব্ধ। তার অভিযোগ, ১৯৯৫ সাল থেকে পাঞ্জাবের কণ্ঠ রোধের প্রচেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালে এসেও চিত্র বদলাল না। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন ‘সাতলুজ’ সরিয়েও কণ্ঠ থামানো যাবে না। কারণ, সিনেমার গল্প অনেকের কাছে পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার বছর ধরেই এই ছবি মুক্তির জন্য লড়াই করছি। আমি কারও কাছে গিয়ে সমর্থন চাইনি। পঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রি বা বলিউডের কাউকেই বলিনি, আমাদের সিনেমার মুক্তিতে সাহায্য করুন। এই লড়াই আমরা নিজেরাই লড়েছি।

মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিংহ খালরার জীবন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই সিনেমা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ। এছাড়া আরও আছেন অর্জুন রামপাল, সুবিন্দর ভিকি, কানওয়ালজিৎ সিং প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করছে: নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করছে: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিলেও, সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি বলেই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না করে বর্তমান বিএনপি সরকার জাতির সাথে গাদ্দারি ও বেইমানি করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দলটির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত 'জুলাই বিপ্লবীদের মহাসমাবেশ'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনের এলাকা থেকে 'জুলাই পদযাত্রা' শুরু হয়।

বিদ্যুৎ খাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'এই সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করবে; কিন্তু এই বাজেটের মাধ্যমে আমরা তার প্রতিফলন দেখতে পাইনি।'

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, 'দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক এসে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করুন।'

মহাসমাবেশে অর্ন্তভুক্ত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে না। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি চলছে। সরকারকে জানাতে চাই, মাদক ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য অচিরেই নির্মূল করতে হবে।'

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, 'আমাদের মধ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো মতপার্থক্য থাকবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জনগণের বিপক্ষে না যাব। বিএনপি যদি একটি ভালো কাজ করে, তাহলে আমাদেরও তাদের প্রশংসা করার মতো মানসিকতা থাকতে হবে। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল যদি এমন কোনো কাজ করে যা জনগণ বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তবে তা নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা করার মতো সৎ সাহস আমাদের থাকতে হবে।'

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা এনসিপির সভাপতি এম এম সোয়েব, জাতীয় যুবশক্তির নেতৃবৃন্দসহ এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি মিলল অপহৃত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি মিলল অপহৃত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিকের

কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকার একটি রাবার বাগান থেকে অপহৃত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিককে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

 

অপহরণকারীরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকায় মোহাম্মদ কায়সারের মালিকানাধীন একটি রাবার বাগানে ঢুকে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সেখানে কর্মরত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

 

পরদিন সকালে বাগানের ম্যানেজার রহমত করিম কর্মস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি রাবার বাগানের মালিকের মাধ্যমে অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন।

 

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগড় উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বদরুজ্জামান বদরুর বাড়ি থেকে অপহৃত ৬ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানান, অপহরণকারীরা তাদের মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের পরিবার থেকে টাকা পরিশোধ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা হলেন— মো. জমির উদ্দিন (২৬), মো. ইসহাক (২২), মো. জাকারিয়া (১৯), মো. মুবিন (২৪), মো. ইয়াসিন (২৭) এবং মোহাম্মদ নুর। তারা সবাই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ক্যাম্প-৪ (ইস্ট), ব্লক-বি/১-এর বাসিন্দা।

 

কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মামুন উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঈদগড়ে নিয়ে যান।

 

রাবার বাগানের ম্যানেজার রহমত করিম বলেন, ঘটনার রাতে শ্রমিকরা ঈদগড় বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাগানে ফিরে আসেন। পরদিন সকালে গিয়ে তাদের ব্যবহৃত মালামাল পড়ে থাকতে দেখলেও শ্রমিকদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অপহরণের বিষয়টি জানতে পারেন।

 

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান জানান, অপহৃত ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%