ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, মধ্যনগরে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আর অভিযোগ


অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, মধ্যনগরে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আর অভিযোগ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, পলমাটি প্রাইমারি স্কুলের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সমূদয় অর্থ আত্মসাৎ, উপকারভোগী তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, জমি-জমার কাগজ সংক্রান্ত হয়রানি, মামলা বানিজ্য, ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য টাকা নেওয়া এবং "ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশ"-এর গরীর অসহায়দের নামের পরিবর্তে নিজেদের নামে অনুদান সামগ্রী তুলে আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুসারে, বিভিন্ন সময় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, অডিও রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, ৯নং ওয়াডের বাসিন্দা বীরসিংহ পাড়ার দরিদ্র মহিলা রাশেদা বেগম, স্বামী মৃত শামছুদ্দিন জানান, "প্রায় ৩ বছর আগে সুজন মেম্বার আমাকে টিউবওয়েল দিবে বলে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন, আমি ও আমার ছেলে ঈসমাইল কতবার সুজন মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করেছি হয় টিউবওয়েল দাও নতুবা টাকা ফেরত দাও উনি কোনটাই দিচ্ছেন না।" তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন সুজন মেম্বার এই ভাবে আরো অনেকের কাছে প্রতারণা করে টাকা নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, "আমরা আপনাদের সহযোগিতায় প্রশাসন কাকে অনুরোধ করবো, তার কাছ থেকে আমাকে টিউবওয়েল বা টাকা উদ্ধার করে দেয়ার জন্য।"

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে আন্তঃস্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইউনিক মডেল স্কুল বিজয়ী

পলমাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা কবি ও সাহিত্যিক আকিকুর রহমান তালুকদার বলেন, "বিদ্যালয়ের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থে এক টাকার কাজও করেনি।" স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে ঐ প্রকল্পের সমূদয় টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তাদের সামনে এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দের পরিমাণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি, মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার এবং প্রকল্পের বাস্তব কাজের পরিমাণ পরিমাপ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, "বিভিন্ন দুর্যোগ ও সরকারি সহায়তার ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে।" তারা অভিযোগ করেন, "২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।" স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও হস্তক্ষেপের পর কয়েকজনকে আংশিক টাকা ফেরত দেওয়া হলেও আরও কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

"ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশ"-এর ত্রাণ বিতরণের তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ৯ নং ওয়ার্ডের ৫ টি গ্রামের প্রকৃত অসহায় পরিবারের পরিবর্তে ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন, শালা-শালী, শমুন্দীসহ নিকটাত্মীয়দের নামে সহায়তার নগদ টাকা, চাউল ও অন্যান্য সামগ্রী উত্তোলন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলমাকান্দায় স্কুল ব্যাগে ভারতীয় মদ, ২ জন আটক

জমির জমার সমস্যা সমাধানের কথা বলে হয়রানি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বীরসিংহ পাড়ার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, "তার পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সুজন মিয়া তার কাছ থেকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে উচ্ছেদ মামলা করার কথা বলে নগদে ও বিকাশে ভিন ভিন্ন সময়ে আরও ৫০ হাজার টাকা নেন।" বিল্লাল হোসেন আবেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার আগে সুজন মেম্বার মইরা গেলে আমি আমার প্রাপ্য টাকার জন্য তার মৃত লাশ ধরে রাখমু।"

পলমাটি গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, "তার কৃষিজমি থেকে রাতের বেলায় মাটি কাটার যন্ত্র (বেকু) দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।" এ ঘটনায় সুজন মিয়ার লোকজন জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে 'মামলা-বাণিজ্য'য়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, "৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে।" সুজন মিয়ার নিজ গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে। পাশের বাড়ির যুবদলের কর্মী মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, "আমি মিথ্যা ও অন্যায় ভাবে যুবলীগের কমিটিতে এডিটিং এর মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুজন মেম্বার গ্রেফতার করাইছে।"

অভিযোগের প্রতিবাদ করলেই হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, "বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা বললে তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা হামলার ভয় দেখানো হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে সাহস পান না।" চাপাইতি গ্রামের কৃতি সন্তান সুইডেন প্রবাসী ও উপজেলা বি এন পির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মাহবুব আলম বলেন, "সুজন মিয়ার কার্যক্রম সীমা অতিক্রম করেছে। তার ব্যাপারে যা শুনলাম ও দেখতেছি তা কোন সভ্য সমাজ মেনে নেওয়া যায় না।"

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে পড়ে চ্যাপ্টা প্রাইভেটকার, মা-ছেলে প্রাণ হারালেন

তিনি আরও বলেন, "তার লুটপাট ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় সে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমাদের এলাকার সন্তান আব্দুল আউয়াল মিছবাহর বিরুদ্ধে যে জঘন্য মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে সেটা নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।" পলমাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, "স্থনীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সাধারণ মানুষ হয়রানির আশঙ্কায় থাকে।"

তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন অনিয়ম, আত্মসাৎ ও লুটপাট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহর বিরুদ্ধেও ডিসির বরাবর জঘন্য মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে সুজন মিয়া।"

অনুসন্ধানে কথা বলা কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, "এসব অভিযোগের সরজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।" প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। এতগুলো অভিযোগ থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো এসব বিষয়ে কার্যকর তদন্ত কেন করছেন না —তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নথিপত্র যাচাই করা হোক।

বিশেষ করে— সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদনপত্র ও বরাদ্দ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির নথি, মাস্টাররোল, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ ও বাস্তব অগ্রগতি, উপকারভোগীদের তালিকা ও ভূক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাই, "ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশ"-এর বিতরণ তালিকা ও গ্রহণের প্রমাণ, জমি ও নামজারি সংক্রান্ত নথি, অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন। যাচাই করলে এসব অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বনাথ-ওসমানী নগরের কোন এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত থাকবে না: এমপি তাহসিনা রুশদীর

অভিযোগ গুলোর বিষয়ে সুজন মেম্বারের বক্তব্য জানতে বার বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অননোন নম্বরে ফোন করিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ফোন কেটে বন্ধ করে দেন।

এই প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হলো - সরেজমিন অনুসন্ধান, ভোক্তভোগী ও উপকারভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের কাজের অনুসন্ধান ও এ সংক্রান্ত নথি যাচাই, অর্থ লেনদেনের প্রমাণের (অডিও রেকর্ড) এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যের সমন্বয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবি অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


ঢাবি অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়ে গেছে। আজ সোমবার চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় তিনি অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন। এরপর পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আলীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রদর্শনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রাকিন নাওয়ার।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, চারুকলার বহু শিক্ষক আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, বর্ষবরণ উদ্যাপনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে চারুকলা অনুষদ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চারুকলা অনুষদ অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা করেন যে, যেকোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চারুকলার এই ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উদ্যোমী ও পরিশ্রমী করে তোলে। তিনি শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক কাজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, আনোয়ারুল হক পুরস্কার, সৈকত কুমার মিস্ত্রী, নিহা রানী দাস, মোছা. মোমেনুন নেছা সুরমা, অভিজিৎ চন্দ্র দে, তাসনিম তারেক তূর্ণা, মো. ফাহিম চৌধুরী, আল-ফুরকান নয়ন, নৈঋতা পাল কৃষ্ণা, মং সোনাই রাখাইন, দেবাজ্যোতি বর্ষণ, শাশ্বত মজুমদার কাব্য, প্রিয়াস দাস।

উল্লেখ্য, অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বিএফএ এবং এমএফএ-এর ৭২ জন শিক্ষার্থীর শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জয়নুল গ্যালারিতে এই প্রদর্শনী চলতে থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন গুলোর তৎপরতায় ছাত্রশিবিরের নিষ্ক্রিয়তা, নেপথ্যে কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদন | আরমান খান ছামির

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন গুলোর তৎপরতায় ছাত্রশিবিরের নিষ্ক্রিয়তা, নেপথ্যে কি?

রাজধানীর অন্যতম কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্ররাজনীতির চিত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম, শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ, সাংগঠনিক কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার পর কয়েকটি সংগঠনের কার্যক্রম আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে একসময় নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকারী কিছু সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রমও তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য সাংগঠনিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক কার্যক্রমে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সম্প্রতি নতুন কমিটি ঘোষণার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা পলিটেকনিক শাখা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মারকলিপি প্রদান, সাংগঠনিক সভা, সামাজিক কার্যক্রম এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সংগঠন দুটি ক্যাম্পাসে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

এদিকে, গত ১লা আগস্ট আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণসভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ, কর্মী সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির সভাপতিও বক্তব্য দেন। তবে ছাত্রশিবিরের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হলে, অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির সক্রিয় উপস্থিতির বিপরীতে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের দৃশ্যমান অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম এমন চিত্রই ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা পলিটেকনিক শাখার প্রকাশ্য কার্যক্রমে দৃশ্যমানভাবে ভাটা পড়েছে। গত বছর সংগঠনটির উদ্যোগে ক্যাম্পাসে নবীনবরণ অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক, বিজয় কুইজ প্রতিযোগিতা, ফুটবল টুর্নামেন্ট, মধ্যাহ্নভোজ ও ফ্রি কোরআন শিক্ষা কর্মসূচিসহ ১৫টিরও বেশি বড় পরিসরের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসব কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।

তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যভাবে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ‘জুলাই রচনা প্রতিযোগিতা’ ছাড়া গত বছরের মতো বড় পরিসরের আর কোনো শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি চোখে পড়েনি। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর সংগঠনটির প্রকাশ্য সাংগঠনিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক কার্যক্রমের পরিমাণ কমেছে বলে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হচ্ছে।

শুধু ছাত্রশিবির নয়, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা পলিটেকনিক শাখারও প্রকাশ্য কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির বড় কোনো ক্যাম্পাসভিত্তিক অনুষ্ঠান বা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ক্যাম্পাসে বর্তমানে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির দৃশ্যমান উপস্থিতি অন্য সংগঠনগুলোর তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা পলিটেকনিক শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সংগঠনটির অনেক প্রশিক্ষণমূলক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হয়, যেগুলো সবসময় প্রকাশ্যে প্রচার করা হয় না। তাদের দাবি, বর্তমানে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান পর্ব সমাপনী পরীক্ষা শেষ হলে পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারা।

এদিকে, গত ১ আগস্ট আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণসভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ জানান, স্মরণসভা অনুষ্ঠানে স্থানীয় ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে অতিথি হিসেবে রাখা হয়নি। এ কারণে তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠানকে দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে এমন অভিযোগও তারা করেন।

ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে সব সংগঠনের কাছ থেকেই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। তাদের মতে, যে সংগঠন শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করবে, দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলবে এবং নিয়মিত ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই সেই সংগঠনের প্রতি আস্থা রাখবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ততা একটি সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক নীতিমালা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও একটি সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অন্যতম ভিত্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ছাত্রসংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সেগুলো হচ্ছে:

১. সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস

২. নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া

৩. কৌশলগত কারণে সীমিত প্রকাশ্য কার্যক্রম

৪. প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বাস্তবতা

৫. ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির প্রকাশ্য তৎপরতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রকাশ্য সাংগঠনিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমেছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তবে ছাত্রশিবিরের দাবি, এটি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার চিত্র নয়; বরং অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ফল। পর্ব সমাপনী পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত: আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত: আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে, তাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যেকোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষকের মূল দায়িত্ব হলো এই লক্ষ্য অর্জন করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এমন মন্তব্য করেছেন।

আজ (সোমবার) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অনুষ্ঠিত চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

ড. আনোয়ারউল্লাহ বলেছেন, ‘যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মঙ্গল দেখতে পান না, তিনি ভালো শিক্ষক হতে পারেন না। শিক্ষকদের বিপদে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে, বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে, এবং তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা রাখতে হবে।’

তিনি উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের জন্য দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানচর্চা ও বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হিট প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) অভিনন্দন জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব এবং বাউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।

ড. মামুন মন্তব্য করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষকদের আচার-আচরণে সংযত হতে হবে।

তিনি আরও জানান, হিট প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম চলছে এবং শিক্ষকদের জন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার কাজও চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং কোর্স পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হানও বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, ইউজিসি আয়োজিত এই চার মাসব্যাপী পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ক বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ৩৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করতে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করতে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এভাবে বাহিনীটিকে আরও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৮তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর অধীনে গঠিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে অধিক জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করে বাংলায় ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানাচ্ছে, প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, বিদ্যমান অধ্যাদেশকে রহিত করে এ অধ্যাদেশের অধীনে কার্যক্রমের হেফাজতের বিধান রাখা হয়েছে এবং বাংলায় আইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর অধীনে এ ব্যাটালিয়নকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এ ব্যাটালিয়নকে জননিরাপত্তা রক্ষা করা, ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, সরকার ঘোষিত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা প্রদান করা, সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন প্রতিপালন-সাপেক্ষে ইউনিটের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই আইনে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন ও বিচার পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%