ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খার্গ দ্বীপে ট্যাংকারে ফের তেল ভরছে ইরান


খার্গ দ্বীপে ট্যাংকারে ফের তেল ভরছে ইরান

ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ফের একটি ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে আল জাজিরার মাধ্যমে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) খার্গ দ্বীপের আজারপাদ জেটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তুলেছে। জুলাইয়ের শেষের পর থেকে এই প্রথম দ্বীপটিতে কোনো সুপারট্যাংকারকে তেল তুলতে দেখা যাচ্ছিল।

খার্গ দ্বীপ হল ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ সাধারণত এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। মার্কিন বিমান হামলার কারণে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

ট্যাংকারট্র্যাকার্স আরও জানিয়েছে, ইরানের সামগ্রিক তেল উৎপাদন বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার কাছাকাছি রয়েছে। তাই দেশটির বিপুল পরিমাণ তেল রফতানির প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ফের নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর পর থেকেই দেশটির তেল রফতানি এবং সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

খার্গ দ্বীপে ফের তেল উত্তোলন শুরু হওয়ার ঘটনা ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার ঘোষণার হুমকি প্রদান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে বাধ্য করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানেরই থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসলামাবাদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত সমঝোতা (এমওইউ) কোনো যুদ্ধবিরতি ছিল না, বরং সেটি ছিল যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য করা একটি চুক্তি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ফলে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রশ্নই আসে না।

অন্য এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় আনসার শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবারের (১৫ আগস্ট) এই হামলায় হতাহতের তথ্য জানানো হয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নতুন দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নতুন দাবি

নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতনে কাটছাঁটের শঙ্কা নিয়ে বিবৃতি বিশেষভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক এবং মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে স্পষ্টভাবে যে, নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও যদি কাটছাঁট করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বৃদ্ধি করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সেই অনুযায়ী বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। এই সুপারিশটি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দাবি হচ্ছে, অতীতে নানা পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ অথবা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব খুবই অপর্যাপ্ত। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির ভিত্তিতে নবম পে স্কেল আসছে। তবে এর মধ্যেই দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেতন বাড়ার আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের জন্য হতাশার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না। তাদের মতে, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানো হবে, সেই তুলনায় দ্রব্যমূল্য অনেক গুণে বেড়ে গেছে, ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকারে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আরো বলেছে যে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত একটি বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু, সেই দাবির তুলনায় কমিয়ে ২০ হাজারটাকায় সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ফলে বৈষম্যের নতুন একটি স্তর তৈরি হচ্ছে। বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, যদি সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশকেও আরও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছেন। একই সাথে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা এবং অভাবও আরও বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা দাবি জানিয়েছেন যে, সচিব কমিটি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

গাজা বিষয়ে একটি পরিকল্পনার উপর মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসরাইল সফর করবেন। শুক্রবার কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

এএফপি’র খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজার জন্য উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভও কুশনারের সঙ্গে ইসরাইল সফর করবেন। এই বোর্ডকে গাজার সাথে সম্পর্কিত চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরকেও সফর করবেন।

ম্লাদেনভ সম্প্রতি ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে হামাস গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুশনার এবং ম্লাদেনভ ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ করতে চান। ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়, যা গাজায় ইসরাইলি হামলা কিছুটা কমায়, তবে পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছেÑআর তা হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা।’

তিনি জানান, উত্থাপিত উদ্বেগগুলো শোনা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑদুই পক্ষের মধ্যে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিয়ে একমত হওয়া এবং অগ্রগতি কীভাবে দ্রুত করা যায়, সে পথে খোঁজা হচ্ছে।

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের কথা জানিয়ে বলা হয়, জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস গাজা পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে সম্মতি দেয়। বোর্ড অব পিসের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে গাজার বড় একটি অংশ থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তবে পরে ম্লাদেনভ তাঁর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার করতে পারবে না। নেতানিয়াহু আগেই সেনা প্রত্যাহার না করার কথা জানিয়েছিলেন। হামাস সত্যিই অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি হলো, হামাসকে এমনভাবে অস্ত্র ধ্বংস করতে হবে যাতে বিষয়টি যাচাই করা যায়।

অন্যদিকে হামাস বলেছে তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলছে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম এএফপিকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে রোডম্যাপ মেনে চলতে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলুচদের ‘কালো দিবস’ ১৪ আগস্ট : বিএনএম মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


বেলুচদের ‘কালো দিবস’ ১৪ আগস্ট : বিএনএম মহাসচিব

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ১৪ আগস্টকে বেলুচ জনগণের জন্য ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের আবেদন জানিয়েছেন বেলুচ ন্যাশনাল মুভমেন্টের (বিএনএম) মহাসচিব দিল মুরাদ বেলুচ।

দিল মুরাদ বেলুচের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ও বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন। এই তথ্যটি এসেছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) সূত্রে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে বলেন, বেলুচ জাতির জন্য ১৪ আগস্ট নিঃসন্দেহে একটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত।

দিল মুরাদ বেলুচ আরও দাবি করেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সীমানা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়।

তিনি বলেন, পাকিস্তান কোনো চিরস্থায়ী রাজনৈতিক বাস্তবতা নয় এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। দিল মুরাদ বেলুচ জানান, ইসলামি দুর্গ প্রতিষ্ঠার মাত্র ২৪ বছর পর এটি ভেঙে পড়েছিল।

তিনি যুক্ত করেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনসহ ইতিহাসে বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্রের উত্থান-পতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোও চিরকাল বিদ্যমান সীমানা ধরে রাখতে পারে না।

দিল মুরাদ বেলুচ বলেন, রাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে সীমানা ধরে রাখতে পারে, কিন্তু কোনো জাতির স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক পরিচয় ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে পারে না।

বেলুচিস্তান নিয়ে বিএনএম মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রশাসনিক অংশ হিসেবে বর্ণনার বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠারও আগে বেলুচিস্তানের স্বতন্ত্র জাতীয়, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক পরিচয় ছিল।

১৯৪৮ সালে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর অঞ্চলটির রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং এটি ছিল ক্ষমতার অসম ভারসাম্যের ফল।

দিল মুরাদ বেলুচ বলেন, স্বাধীন বেলুচিস্তানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের জাতীয় সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ১৪ আগস্ট বেলুচ জনগণকে মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে, ভেঙে যেতে পারে এবং সীমান্তও পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ পাকিস্তান দীর্ঘদিন বেলুচদের আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পারবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৪, অনেকেই আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


সুদানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৪, অনেকেই আহত

সুদানের উম্ম আরদা শহরে এক হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এই তথ্যটি একটি স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) জানিয়েছে।

সংস্থাটি হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে। সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগের দিনের ঘটনা হিসেবে শুক্রবার আরএসএফ দাবি করেছিল যে, তারা সংঘাতপ্রবণ কর্ডোফান অঞ্চলের উম্ম আরদা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাঁরা এই ঘটনাকে ‘মাঠপর্যায়ের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানান, শুক্রবার এল ওবেইদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উম্ম আরদা এলাকায় আরএসএফ হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ‘১৪ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন আহত’ হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বেসামরিক মানুষজনের ব্যাপকভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

সুদানের সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, উম্ম আরদা ও জাবাল আল-হাশাবা এলাকায় আরএসএফের দুটি হামলা সেনাবাহিনী প্রতিহত করেছে। এতে তিনি দাবি করেন, আরএসএফের ‘ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’।

তবে, এলাকাটিতে প্রবেশ করা কঠিন এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত থাকায় এই সংঘর্ষের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।

যুদ্ধে উভয় পক্ষের নৃশংসতার তথ্য নথিবদ্ধ করায় ইমার্জেন্সি লইয়ার্স সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ ও মৌলিক সেবার ঘাটতিতে আগে থেকেই সংকটে থাকা এলাকাগুলোর মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে থাকবে। তাদের মতে, কয়েকটি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, উত্তর কর্ডোফানে চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিশু এল ওবেইদে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে বাস্তুচ্যুতদের জন্য পরিচালিত দুটি শিবিরে শিশুদের অপুষ্টির ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে এবং তীব্র খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানায়।

পানির অভাব পরিস্থিতিটি আরও জটিল করে তুলছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু পরিবারকে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় পানি সংগ্রহে ব্যয় করতে হচ্ছে।

চতুর্থ বছরে প্রবাহিত এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সুদানের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমের দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%