প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতনে কাটছাঁটের শঙ্কা নিয়ে বিবৃতি বিশেষভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক এবং মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে স্পষ্টভাবে যে, নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও যদি কাটছাঁট করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বৃদ্ধি করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সেই অনুযায়ী বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। এই সুপারিশটি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দাবি হচ্ছে, অতীতে নানা পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ অথবা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব খুবই অপর্যাপ্ত। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির ভিত্তিতে নবম পে স্কেল আসছে। তবে এর মধ্যেই দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেতন বাড়ার আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের জন্য হতাশার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না। তাদের মতে, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানো হবে, সেই তুলনায় দ্রব্যমূল্য অনেক গুণে বেড়ে গেছে, ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকারে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আরো বলেছে যে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত একটি বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু, সেই দাবির তুলনায় কমিয়ে ২০ হাজারটাকায় সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ফলে বৈষম্যের নতুন একটি স্তর তৈরি হচ্ছে। বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, যদি সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশকেও আরও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছেন। একই সাথে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা এবং অভাবও আরও বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা দাবি জানিয়েছেন যে, সচিব কমিটি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন