০৫:৩৯ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের নেত্রী হান হাক-জাকে ঘুষ প্রদান ও রাজনৈতিক অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, হান হাক-জার নেতৃত্বাধীন চার্চটি দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী এবং সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হিকে দুটি শ্যানেল ব্যাগ ও একটি হীরার নেকলেস উপহার দিয়েছিল।
এই উপহারের মোট মূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ওন, যা ৫৭ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার বা ৪২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সমান।
আরও পড়ুন: ‘পুলিশে ধরার একদিনের মধ্যে ছাড়া পাইতে হুনছি, খরচ হইছে ৩০ লাখ’
চলতি বছরের শুরুতে, কিম কিওন হিকেও চার্চের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ৮৩ বছর বয়সী হান হাক-জা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সান মিয়ং মুনের বিধবা হান বারবার অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।
মামলাটির তদন্তে নিয়োজিত বিশেষ পরামর্শক দল জানিয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কিম কিওন হি ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে চার্চের কাছ থেকে বিলাসবহুল পণ্য গ্রহণ করেছিলেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ইউনিফিকেশন চার্চের অর্থ ও উপহার ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন, হান হাক-জার ব্যক্তিগত সিন্দুক থেকে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার বা ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় ১৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর
কিম কিওন হি শ্যানেল ব্যাগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ব্যাগগুলো ব্যবহার করেননি এবং পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছিলেন।
গত আগস্টে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিম প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত যে আমার মতো একজন নগণ্য ব্যক্তি জনগণের উদ্বেগের কারণ হয়েছেন।’
ইউনিফিকেশন চার্চের আনুষ্ঠানিক নাম ‘দ্য ফ্যামিলি ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড ইউনিফিকেশন’।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তর: আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, নতুন স্থানে বিক্ষোভের নির্দেশনা
১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সান মিয়ং মুন এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেকে মসিহ বা ত্রাণকর্তা হিসেবে দাবি করেছিলেন।
চার্চটি বিশাল আকারের গণবিবাহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এসব অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজার হাজার দম্পতির বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন একটি অনুষ্ঠানে হান হাক-জা ও তার প্রয়াত স্বামী এবং চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সান মিয়ং মুনও হাজার হাজার দম্পতির বিয়ে দিয়েছিলেন।
সমালোচকেরা সংগঠনটিকে ‘কাল্ট-সদৃশ’ বলে বর্ণনা করেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, সংগঠনটি তার অনুসারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করতে চাপ দেয়। চার্চের অনুসারীদের অনেক সময় ‘মুনিজ’ বলা হয়। তবে সমালোচকদের ব্যবহৃত এই শব্দটি অনেক চার্চ সদস্যের কাছে আপত্তিকর।
আরও পড়ুন: দিল্লির আদালত অভিজিৎ দীপকের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকাণ্ডের পর ইউনিফিকেশন চার্চ দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। আবের হত্যাকারী দাবি করেছিলেন যে, এই সংগঠন তার পরিবারকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে দিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি আবের বিরুদ্ধে সংগঠনটির প্রচার করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ইউনিফিকেশন চার্চের দাবি, সিউল, টোকিও এমনকি ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে চার্চের একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে সংগঠনটির নতুন থিংক ট্যাংকে অভিনন্দন জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং সিউল ও বুসানের মেয়ররা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে এটি নিষিদ্ধ। আর জাপানে সংগঠনটিকে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে যুবক ইউসুফ আল-মানাসিফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন