১০:১৭ এম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের অধীনে চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট–সংক্রান্ত দাবির প্রেক্ষাপটে গৃহীত হয়েছে। পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন এবং মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড ও এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড—এই চারটি কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে দেওয়ার দাবি জানাইছিল।
শ্রমিকদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিআইএফই জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে হবে।
এরপর ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সার্ভিস বেনিফিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা শ্রম আইন মেনে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে, বিজ্ঞপ্তিতে দাবী করা হয়েছে, গতকাল শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা আবার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করেও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে কারখানা এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন