১১:১০ এম
স্ত্রীর একটি সাধারণ মন্তব্য থেকেই শুরু হয়েছিল। সেই ভাবনা থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের এক ব্যক্তি একটি খালি উপত্যকাকে পরিণত করেছেন ৮০ হেক্টরের বিশাল ফুলের বাগানে।
ঝোউ শিয়াওলিন এবং তার স্ত্রী ইন জিয়ে এখন সিচুয়ান প্রদেশের ছেংদুতে নিজেদের তৈরি সেই রঙিন ফুলের বাগানে বেশিরভাগ সময় কাটান। বিশাল এই বাগানের দেখাশোনাও তারা নিজেরাই করেন। সম্প্রতি চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে তাদের গল্প উঠে আসার পর সারা দেশে পরিচিত হয়ে ওঠেন এই দম্পতি। অনুষ্ঠানে তাদের ‘স্বপ্নের দম্পতি’ বলা হয়।
তবে এই বাগানের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেদিন ইন তার ছোটবেলার কথা বলছিলেন। বেইজিংয়ে বেড়ে ওঠার সময় হলিহক ফুল তার খুব পছন্দের ছিল। স্ত্রীর মুখে সেই কথা শুনেই ঝোউ ঠিক করেন, তার জন্য একটি ফুলের বাগান তৈরি করবেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব
বাগান করার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না ঝোউর। তবুও স্বপ্ন পূরণে পিছিয়ে যাননি তিনি। নিজের বাড়ি বিক্রি করে ঝুয়ানলং শহরে জমি কেনেন। এরপর নিজেই হলিহক চাষের পদ্ধতি শেখেন।
পরবর্তী ১০ বছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তিনি।
ধীরে ধীরে ছোট সেই স্বপ্ন বড় হতে থাকে। একসময় খালি জমি বদলে যায় বিশাল ফুলের বাগানে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগানটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় হলিহক বাগান হিসেবে পরিচিত। ৩৫ বছর আগে বিয়ে হয় ঝোউ এবং ইনয়ের। তাদের কোনো সন্তান নেই। এখন ফুল এবং পোষা প্রাণীদের ঘিরেই তাদের সংসার। অর্থ-সম্পদ বা প্রচলিত পারিবারিক জীবনের বদলে প্রকৃতির মধ্যেই তারা খুঁজে নিয়েছেন নিজেদের সুখ।
তাদের এই জীবনযাপন চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই প্রশংসা করেছেন দম্পতির জীবনদর্শনের। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'জীবন শুধু টাকা উপার্জন এবং সন্তান মানুষ করার জন্য নয়। ফুল ফোটা এবং নদীর স্রোত দেখার জন্য সময় বের করাও জীবনের অংশ।' আরেকজনের ভাষায়, ‘সত্যিকারের সুখ হলো এমন একজন মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া, যিনি আপনাকে বোঝেন, প্রশংসা করেন এবং আপনাকে ভালোবাসা ও যত্নে আগলে রাখেন।’
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন