ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার


আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

আদ-দীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সকলেই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। তিনি এটিকে মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলছেন না।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি আরও সুষ্পষ্টভাবে লিখেছেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে যে হাসপাতালটিকে ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং যা মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিল, আজ তার লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হলো। ফলে এর ক্ষতি শেষ পর্যন্ত জনগণেরই হলো।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে জামায়াতের আমির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে সম্ভবত ৪০০-৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও এখানে চলছে। এ অবস্থায় তাদের গন্তব্য কোথায়? শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যদি কারও কোনো দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে তাকে বন্ধ করে দেয়া কাম্য নয়।

এর আগে, বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত বার্তায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে ওই বার্তাতে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটিকে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্থাপিত বাজেটকে ‘সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ’ বললেন মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


উত্থাপিত বাজেটকে ‘সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ’ বললেন মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৬-২৭ সালে প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন ইনভেস্টমেন্ট ব্যবসা বান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।’

আজ বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনের নিজের চেম্বারে বাজেটের উপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এই কথাগুলি বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদন বান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসা বান্ধব। এ বাজেটে যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে, যে রেয়াত দেয়া হয়েছে, আমরা এর আগে এত বড় ছাড় দেখতে পাইনি।’

শিল্প, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই বাজেটে শিল্পখাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে, তার চিন্তা ভাবনাগুলোকে একত্র করে অর্থমন্ত্রী আমির-খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্র মন্ত্রণালয়ের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং শুধু অর্থনীতি নয়, একই সঙ্গে এই সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।

মাঝখানে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টও দেশকে ঠিক সেইভাবে একটা ট্র্যাকের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, পুরো ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং অর্থনীতির চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে।

বিএনপি সরকার গঠনের পরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব এসে পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি আজ আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বাজেট পেশ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাজেটটাতে প্রতিফলিত হয়েছে যে সরকার কতটা আন্তরিক, দেশের অর্থনীতিকে তারা পুনর্বাসন করতে চায় এবং এটি একটি গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসে বিকেল তিনটায় অর্থমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ দেখার আমন্ত্রণ জানাল মার্কিন দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ দেখার আমন্ত্রণ জানাল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের জনগণকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত মহাযজ্ঞ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতির মাধ্যমে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সেই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি একটি বৈশ্বিক উদ্‌যাপন। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আপনাদের ম্যাচগুলো দেখার, উপভোগ করার এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই বৈশ্বিক আয়োজনের উত্তেজনা অনুভব করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ রাতে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের পর্দা উঠছে। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের পর্দা নামবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহার শাবল ছিল এই ‘সাইকো’ কিলারের অস্ত্র, একাকী নারী ছিল তার টার্গেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


লোহার শাবল ছিল এই ‘সাইকো’ কিলারের অস্ত্র, একাকী নারী ছিল তার টার্গেট

মোস্ট ওয়ান্টেড ‘সাইকো কিলার’ ও আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পুলিশ নওগাঁ জেলা থেকে একটি চৌকস দল গঠন করে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে।

বুধবার (১০ জুন) ভোরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার বাসন থানাধীন শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই সিরিয়াল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার গোলাম মোর্শেদের পৈতৃক গ্রামের নাম দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট। তিনি হইবর রহমানের ছেলে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অন্তত ১৭-১৮ জন নারীর ওপর নৃশংস হামলার কথা স্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, তাদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

পুলিশ জানায়, মোর্শেদের অপরাধ সংঘটনের ধরন ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও সাইকোপ্যাথিক। সে মূলত গভীর রাতে (রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে) একা থাকা বা নারীপ্রধান বাড়িগুলোকে টার্গেট করত। পরে সে দেয়াল টপকে বা জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত নারীদের কপাল ও মাথায় টিউবওয়েলের হাতল, লোহার শাবল বা বাঁশ দিয়ে সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যেত। যদিও চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকলেও নারীদের মাথায় গুরুতর আঘাত করাই ছিল তার অপরাধের মূল প্যাটার্ন।

১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর গ্রামে তিনটি বাড়িতে হামলা চালায় মোর্শেদ। হামলার ফলে, কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবার মাথায় টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে আঘাত করার কারণে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একই উপজেলার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের স্ত্রী সুলতানা বেগমসহ চারজনের ওপর বাঁশ ও টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে হামলা চালায়।

৭ মে ২০২৬ তারিখে বদলগাছি উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকার তিনটি বাড়িতে দেয়াল টপকে ঢুকে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) এবং বাক্‌প্রতিবন্ধী বৃষ্টি (২০)-এর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

৪ জুন ২০২৬ তারিখে পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে দুটি বাড়িতে জানালা ভেঙে ঢুকে রোজি আক্তার (৩৭), আলতা বানু (৪৫) ও আসমা খাতুন (২২)-এর মাথায় লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে জখম করে।

ধামইরহাট, বদলগাছি ও পত্নীতলায় একের পর এক একই ধরনের নৃশংস ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অপরাধীকে ধরতে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইউনিটের সদস্যরা ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেন। ঘটনাসমূহের সঙ্গতি বিশ্লেষণ করে জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলা থেকে একই ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীর মূল প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মোর্শেদকে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদ ধামইরহাটের কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জানা গেছে যে, পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমান সময়ে, তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলা পুলিশ অত্যন্ত নিবিড় ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সিরিয়াল অপরাধীর রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোর্শেদ নওগাঁয় চারটি ঘটনার পাশাপাশি দিনাজপুরে পাঁচটি এবং জয়পুরহাটে একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে তার হামলায় আরও দুজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে নওগাঁর বিভিন্ন থানায় এ-সংক্রান্ত হত্যাসহ মোট চারটি মামলা রুজু রয়েছে। দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্ধার হওয়া নবজাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উধাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


উদ্ধার হওয়া নবজাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উধাও

সুনামগঞ্জের ছাতকে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নবজাতকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যক্তিই তাকে নিয়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ছাতক থানার পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে ব্যক্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধেই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নবজাতক শিশুটির নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত ৮ জুন সন্ধ্যায় ছাতক থেকে বাড়ি ফেরার পথে আইন্দারগাঁও সড়কের পাশে নবজাতক শিশুর কান্নার শব্দ শুনে গাড়ি থামান সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কাওছার আহমেদ। পরে তিনি আনুমানিক সাত দিন বয়সী নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় শিশুটির হাতে ক্যানোলা লাগানো ছিল।

উদ্ধারকারী কাওছার আহমেদ জানিয়েছিলেন, তার বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর (নোয়াগাঁও) গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে।

উদ্ধারের পর তিনিই শিশুটিকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি ও তার স্ত্রী হাসপাতালেই অবস্থান করে শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নবজাতক শিশুটির শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। শিশুটিকে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপযুক্ত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। সন্তানহীন ১৩ জন ব্যক্তি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই চলছিল।

ছাতক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান জানান, শিশুটিকে গ্রহণের জন্য বেশ কয়েকজন আবেদন করেছিলেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই চলছিল। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, "গতকাল বুধবার থেকে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আমরা বলেছি, অভিভাবকহীন শিশুকে সমাজসেবা অফিসের অনুমতি ছাড়া নেওয়া যাবে না। আজ বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালে রোগীর ভিড়ের সময় কাওছার আহমেদ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। পুলিশ বিষয়টি দেখছে।"

ছাতক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাওছার আহমেদ তার স্ত্রীর সহযোগিতায় নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, সেখানে খোঁজ নিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, যে সিএনজিচালক নবজাতকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, তিনিই নাকি গোপনে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য ১৩টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার দেওয়া ঠিকানায় শিশু ও সিএনজিচালককে পাওয়া যায়নি। শান্তিগঞ্জের একটি এলাকায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার অভিভাবক নির্ধারণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%