ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে


প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আমদানি বিকল্প তৈরির পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তির মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য।

বিজনেস টুডে এবং ডেলয়েট ইন্ডিয়ার একটি জরিপ অনুযায়ী, ভারতের তালিকাভুক্ত ২৬টি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফা ২০২১ অর্থবছরের ৭ হাজার ৫০৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২৩ হাজার ১১১ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। পাঁচ বছরে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলে লুলার বিজয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

এসিই ইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে জেন টেকনোলজির নিট মুনাফা ৭ হাজার ৭৫৭ শতাংশ বেড়ে ২১৭ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের (এইচএএল) মুনাফা বেড়ে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের মুনাফা ৬ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়, যার ৯৮ শতাংশ সরবরাহের কথা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। ২০২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত অনুমোদিত প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি।

গত এক দশকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ এবং রপ্তানি ৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি, যা ২০২৭ অর্থবছরে বেড়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন: দলের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি: গুঞ্জন উড়িয়ে জানালো পিটিআই

২০২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি এবং রপ্তানি হয়েছে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপির সরঞ্জাম। উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচি আইডেক্স ও আদিতির মাধ্যমে স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আইডেক্সের আওতায় ৬৭৬টি স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছেন। স্বাক্ষরিত হয়েছে ৫৫১টি নকশা ও উন্নয়ন চুক্তি।

ডেলয়েট ইন্ডিয়ার অংশীদার আলারিক দিনিজের মতে, পরবর্তী পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, রাডার ও অন্যান্য দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য প্রযুক্তি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: তিব্বতের ভূমিকম্পে নতুন হতাহতের ঘটনা নেই: চীনের তথ্য

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের হাতে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের হাতে ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি রুপি ক্রয়াদেশ রয়েছে। তবে দীর্ঘ উৎপাদন সময়, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বড় ক্রয়াদেশ সব সময় দ্রুত মুনাফায় রূপ নেয় না।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ভি রেড্ডির মতে, ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণই ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনা ও দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: নিয়োগকর্তাদের প্রবাসীদের বেতন দিতে দেরি না করার কঠোর বার্তা কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাচ্ছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাচ্ছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক

চার দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার রাত ১২.১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আরও যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মিডিয়া টিম।

সফরের দ্বিতীয় দিন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর), টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির ৩৫ জন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলা ২০২৫ সালে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর পাশাপাশি অভিযুক্তদের মধ্যে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও রয়েছেন, যারা দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

তুরস্কের প্রসিকিউটররা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক রাখা, গুরুতর ডাকাতি, জাহাজ ছিনতাই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। মামলায় ফিলিস্তিনে গণহত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জুলাই মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং আগস্টে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য তুরস্কের অনুরোধের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করে।

গাজামুখী ত্রাণবহরে হামলার অভিযোগ

মামলার মূল বিষয় ২০২৫ সালের গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলোর ওপর ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান। গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে সেখানে আটকে পড়া মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ত্রাণবহর যাত্রা করেছিল।

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ অংশগ্রহণকারী নিয়ে ৫০টির বেশি জাহাজ যাত্রা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, পথে তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলের কাছে বহরটির কয়েকটি নৌযানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী নৌযানগুলো আটক করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বহরে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তাদের অভিযোগ, আটকের পর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অপমানজনক আচরণ এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

১০১ ভুক্তভোগীর পক্ষে বিচার

আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে তুরস্ক মধ্যস্থতা করে। পরে কয়েক শ অংশগ্রহণকারীকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও নোভারা মিডিয়ার এক অবদানকারীও ছিলেন।

ইস্তাম্বুলে তাদের সঙ্গে কাজ করেন আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দল। নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান মামলায় ১০১ জন ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আইনি দল বলেছে, এ বিচার শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নয়, বরং অপরাধের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইনি দলের ভাষ্য, অনাহারে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্র সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করলে, সেই অভিযানের নির্দেশনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিচারিক জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক এখতিয়ারে মামলা

বিদেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার সুযোগ দেয় সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার বা ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন। তুরস্ক এই নীতির আওতায় মামলাটি পরিচালনা করছে।

এ নীতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কোনো দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে সংঘটিত না হলেও করা যেতে পারে। তবে মামলার বিচারিক এখতিয়ার, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং অভিযুক্তদের দায় নির্ধারণ আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে।

ইতালিতেও তদন্তের মুখে ইসরাইলি কর্মকর্তারা

ইস্তাম্বুলে বিচার শুরুর পাশাপাশি ইতালির রোমেও গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ইতালীয় ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে বেন-গভির, কাৎজ, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির এবং আরো ১১ জন রয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অপহরণ, শারীরিক ক্ষতি, ডাকাতি, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জাহাজডুবির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তুরস্ক ও ইতালিতে চলমান এসব আইনি পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগে বাধা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু হওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; তাদের দায় আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্ব পাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর, গেলেন বিমানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্ব পাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর, গেলেন বিমানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে টোকিওর দিকে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সফরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও আংশিক চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বহু প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন এর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা চুক্তি চূড়ান্ত করা, দায়িত্ব বণ্টন এবং অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) কার্যক্রমের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে টার্মিনালটির চালুর সময়সূচি।

সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে এ বিষয়ে দুই দেশের আলোচনায় অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে জাপানি কনসোর্টিয়ামের পরিচালনা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ চুক্তিতে পরিচালনালব্ধ রাজস্বে বাংলাদেশের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনালের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সময়সীমা অর্জনে জাপানের সঙ্গে পরিচালনা চুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে এ সফরের আলোচনা এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেতার বাসায় গিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ পদত্যাগের আগের রাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


বিএনপি নেতার বাসায় গিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ পদত্যাগের আগের রাতে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগের আগের রাতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, বিএনপিতে সুযোগ না পাওয়ার পর আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলম একসঙ্গে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন।

রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা দলটির কাছে আগ্রহী ছিল না। বিএনপির কাছ থেকে আগ্রহ না পাওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, মাহফুজ আলম নৈতিকতা ধরে রেখেছেন, যদিও তিনি বিএনপিতে সুযোগ পাননি।

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা পালন করার কারণে নাহিদ ইসলামের পর আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে অবস্থান থাকা উচিত ছিল। কিন্তু অতীতের বিতর্ক এবং দলটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে তিনি বর্তমানে দলের শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এনসিপির সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা নিয়েও পোস্টে আলোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, বেশি আসনে সমঝোতার জন্য এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়েছিলেন। তবে বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে বেশি আসন ও নির্বাচনি খরচের প্রত্যাশায় এনসিপি জামায়াতের জোটে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন এনসিপির বর্তমান রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপির কর্মসূচি বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হতে পারে। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, এ কর্মসূচি সফল হবে না।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণে তিনি বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। বিএনপি ‘বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি’ করে না, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%