০৮:৫৭ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) ব্যবসা থেকে ১ বিলিয়ন ডলারেরও (প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন পাউন্ড) বেশি আয় অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত ৯২৭ পৃষ্ঠার এক ঘোষণাপত্রে ট্রাম্প তার এই বিশাল আয়ের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বিপুল আয়ের একটি বড় অংশ তার নিজস্ব মিম কয়েন ও পারিবারিক ক্রিপ্টো ফার্ম থেকে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোন ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন না। আর্থিক বিবরণী অনুসারে, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে চালু হওয়া একটি ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে তিনি রয়্যালটি বাবদ ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন, যদিও বর্তমানে এর বাজারমূল্য অনেকটাই কমে গেছে।
তদুপরি, তার সন্তান এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ থেকে ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন। যদিও এক সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির তীব্র সমালোচনা করে বিটকয়েনকে প্রতারণা বলেছিলেন, বর্তমানে তার আয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯৯ বার পেছাল
ঐতিহ্যবাহী রিয়েল এস্টেট ও গলফ ক্লাব থেকেও ট্রাম্পের আয় ছিল নজরকাড়া। ফ্লোরিডার ডোরোলে অবস্থিত গলফ ক্লাব থেকে ১২২ মিলিয়ন ডলার এবং মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া নিউ জার্সির বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার ও স্কটল্যান্ডের টার্নবেরির গলফ ক্লাবগুলো থেকে প্রত্যেকটি ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ ডলারও এসেছে। এর মধ্যে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ঘড়ির রয়্যালটি থেকে ৪৭ লক্ষ ডলার এবং ট্রাম্প-থিমযুক্ত বাইবেল, স্নিকার, সুগন্ধি ও গিটার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত আয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার আয়ের হিসাব দিয়েছেন। একজন তথ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে তিনি ১০.৭ মিলিয়ন ডলার এবং অনলাইনে ডিজিটাল ছবি বা এনএফটি বিক্রি করে আরো ৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে করা আইনি মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমেও ট্রাম্পের ঝুলিতে এসেছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এর মধ্যে এবিসি নিউজ থেকে ১৬ মিলিয়ন, সিবিএস থেকে ১৬ মিলিয়ন, মেটা থেকে ২৪.৫ মিলিয়ন, ইউটিউব থেকে ২২ মিলিয়ন এবং এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে ৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, এই অর্থের বড় অংশই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টিয়াল লাইব্রেরি এবং ওয়াশিংটনের পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থায় দান করা হয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের এই আয়ের বৃদ্ধিতে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি মন্তব্য করেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ব্যবসা ছেলেদের পরিচালিত ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী উপহার দিয়েছেন এবং তার সব পদক্ষেপ দেশভর মঙ্গলার্থেই নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন