০১:৫৬ পি.এম
গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই দেবে গেছে ৯ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ। এই সড়কটি ধারাবাহিকভাবে সূতি নদীতে ধসে যাচ্ছে। নদীর তীরে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, এখানে ব্যাপক নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) তাদের জামানতের অর্থ দিয়ে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস প্রদান করেছে।
উপজেলাবাসীর জন্য জেলা সদরের সাথে সহজ যাতায়াতের উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি গ্রহণ করে। যদিও ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে ৫ বছর পর ২০২৬ সালে এটি শেষ হয়।
আরও পড়ুন: হাতীবান্ধায় সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
সূতি নদী ঘেঁষে যে সড়কটির নির্মাণ করা হয়েছে, চিনাশুকানিয়া গ্রামের একটি বিশাল অংশ ইতোমধ্যে দেবে যেতে শুরু করেছে। বেশ কিছু স্থানে এখানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিঘ্নের হাত থেকে রক্ষা পেতে বালুর বস্তা দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। দেবে যাওয়া অংশটি মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে সেখানে চলাচল করছে। এলাকাবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে আছেন যে যেকোনো মুহূর্তে সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এবং এর ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক মাস। এই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি দেবে গেছে। নদীর তীর বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি ঠিক মতো না বসানোর কারণে সড়কটি ধসে পড়ছে।’
চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান জানান, ‘কাজের শুরুতেই আমরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলাম। ব্লকগুলো ভিট বালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয়দের হুমকি দেয়। ভয়ের কারণে পরে কেউ কথা বলেনি।’
একজন আরেক বাসিন্দা, হুমায়ুন আজাদ যোগ করেন, ‘৫ বছর ধরে কাজ চলে যদি কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক ধসে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কাজের মধ্যে কত বড় অনিয়ম হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত প্রার্থনা করছি এবং দোষীদের বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: মাগুরায় জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল তুলে নিলেও আমাদের জামানত দুই বছর জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেব, সেখানে সমস্যা কোথায়?’
‘পাকা সড়ক বারবার ভাঙবে আর জোড়াতালি দেবেন, এটা কি যথাযথ পদ্ধতি?’ এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানান, ‘সড়ক দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকালে বর্তমানে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও তাদের জামানতের ১০ শতাংশ (প্রায় ১ কোটি টাকা) আমাদের কাছে জমা রয়েছে। সেই টাকা দিয়ে মেরামত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, যে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, যানবাহন পারাপার বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন