০১:৫৭ পি.এম
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে সবজি, ডিম ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে এবং ডিমও আগের চেয়ে কম দামে মিলছে। তবে মাছের বাজারে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশের দাম এখনো চড়া থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বাজারগুলো ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজিই ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০-৮০ টাকার মধ্যে এবং পটল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, ‘এখন বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি ভালো আসছে। সরবরাহ বাড়ায় দামও কিছুটা কমেছে। সামনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে।’
ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ডিমের দাম। বর্তমানে লাল ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই পাইকারি বাজারে দাম কমেছে এবং খুচরাতে তার প্রভাব পড়েছে।
মুরগির বাজারে অবশ্য সপ্তাহের ব্যবধানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মুরগি বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য থাকার কারণে দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে চাষের মাছের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ইলিশ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে চাষের পাবদা মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের কৈ মাছ ২০০ টাকা এবং পাঙাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
বাজারে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের প্রায় ৩ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা। মাছ বিক্রেতাদের দাবি, বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ এখনো চাহিদার তুলনায় কম। তাই দাম কমানোর সুযোগ নেই।
কারওয়ান বাজারের এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ইলিশ আসছে ঠিকই, কিন্তু বড় মাছের পরিমাণ কম। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। সরবরাহ আরও বাড়লে তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি, ডিম এবং মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও ইলিশ এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ক্রেতা শামসুল আলম জানান, ‘সবজির দাম কমেছে এবং ডিমও একটু কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ইলিশ কিনতে গেলে মনে হয় শুধু দেখে চলে যেতে হবে। তিন হাজার টাকা কেজি দিয়ে ইলিশ কেনা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন