রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০২:২১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেড নামে পরিচিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার একটি অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর আগে তিনি গত বৃহস্পতিবার আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আজিজকে ‘বাচ্চু বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে যখন আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছে কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। তবে এ পরেও তিনি ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অফিসে ঢুকে তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
আব্দুল আজিজ আরও দাবি করেন, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সেই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান। সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেন।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তিনি দাবি করেন, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে বলেও জানান ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আলোচিত জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে, শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকার রামপুরা ও বাড্ডা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুমন উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের রফিকের ছেলে এবং পিয়াস একই গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে। নিহত রাকিব ওই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন।
র্যাব জানায়, উপজেলার খানপুর গ্রামে নিহত রাকিবের বাবা ও চাচা যৌথভাবে নিজেদের জায়গায় একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছিলেন। নির্মাণকাজ চলাকালে আসামিরা রাকিবের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। রাকিব চাঁদার টাকা তার চাচার কাছ থেকে এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে গত শনিবার ৩০ মে রাকিব বাড়িতে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফপুর ইউনিয়নের পাকমুন্সিরহাট এলাকায় তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ার ফলে বাসের এক সুপারভাইজার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সময়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এ দুর্ঘটনায় ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনাটি রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে, যখন নলছিটি উপজেলার ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের রায়াপুর বটতলা এলাকায় বাসটি খাদে পড়ে।
নিহত বাস সুপারভাইজার মনির হোসেন (৪০) নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি নাহিদ সুপার পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে যাত্রা শুরু করা বরিশালগামী নাহিদ সুপার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পথের অপরদিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সাইড দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
এ সময়, আহত সুপারভাইজার মনির হোসেন বাসের নিচে চাপা পড়েন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাসের অন্যান্য যাত্রীরা জানালার কাঁচ ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বাসটি উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব মো. মামুন খন্দকার। আজ রবিবার (০৫ জুলাই ২০২৬) তিনি এই পদাভিষিক্ত হন।
এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. খায়রুল আলম সুমন নবাগত জেলা প্রশাসকের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী জেলা প্রশাসক জনাব মো. খায়রুল আলম সুমন নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর সফল কার্যকাল কামনা করেন। অন্যদিকে, নবাগত জেলা প্রশাসক জনাব মো. মামুন খন্দকারও বিদায়ী জেলা প্রশাসকের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবাগত জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বরিশালের সামগ্রিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি জেলার সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ