০৫:৫২ পি.এম
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর শিশু আবিদা সুলতানা আয়নী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে একমাত্র আসামি রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি জানান, ‘রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, ২১ মার্চ ২০২৩ সন্ধ্যায় আরবি পড়তে বের হয়ে আয়নী ঘরে ফেরেনি। বিস্তৃতভাবে দেখায়, বিড়ালছানার লোভ দেখিয়ে আয়নীকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে ময়লার স্তূপে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। শিশু আয়নী হত্যার ঘটনায় পাহাড়তলী থানার তৎকালীন পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দেয়নি। শিশুটির মা অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হলে, হত্যার আট দিন পর পচেগলে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে পিবিআই।
আরও পড়ুন: মুস্তাফিজ বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন
অ্যাডভোকেট মুরাদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ রিপোর্ট ও ২৪ জন সাক্ষীর অকাট্য প্রমাণে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার রায়ে পরিবার এবং আমরা সন্তুষ্ট।’
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোর রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আব্দুর কাজীর দিঘীরপাড়া এলাকার ডোবা থেকে শিশু আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২১ মার্চ থেকে আয়নী নিখোঁজ ছিল। বিড়ালছানার প্রতি ভয়ানক লোভ ছিল শিশুটির। কেউ বিড়ালছানা দেবে বলে ডাকলেই প্রত্যাশিত আবেগে ছুটে যেত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া শিশু আয়নী। এই সুযোগই কাজে লাগায় ওই এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. রুবেল (৩৫)।
গত ২১ মার্চ বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে আয়নীকে ডেকে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়েছিল রুবেল, যেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গলা টিপে আয়নীকে হত্যা করে তার মরদেহ গভীর পানির একটি ডোবায় ফেলে দেয়।
আরও পড়ুন: আশিয়া কাপ আর্চারির ফাইনালে বাংলাদেশ, কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন