১২:৫৮ পি.এম
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনাটি আড়াই বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দ্বারা উদঘাটিত হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদকে (২২) গাজীপুর জেলা পিবিআই গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোরে সুজন মিয়া (২৫) অনন্যা ক্লাসিক পরিবহণের বাসে হেলপার হিসেবে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে হোটেল এক্স সংলগ্ন ইউটার্ন এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে বাসটি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান দ্রুতগতিতে বাসটির সামনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়।
আরও পড়ুন: দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলে চ্যাপ্টিয়ার হাওরের পানি কমে বিপাকে যাত্রী ও কৃষক, দুশ্চিন্তায় বোরো চাষিরা
এ সময় বাসের বাম পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে বাসের যাত্রীরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় উভয় যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপর উলটে পড়ে। এ সময় কাভার্ডভ্যানচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২৪ জুন জিএমপি সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে সদর থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মো. জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদের অবস্থান শনাক্ত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার সাভার থানাধীন কলমা এলাকার উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে অভিযান চালিয়ে রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন: সাজেকের সমস্যা সমাধানে আলোচনা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার পিপিএম-সেবা বলেন, "নিরাপদ সড়ক ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নাগরিক এবং যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের সচেতনতা প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারো কাম্য নয়। গ্রেফতার চালককে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন