১১:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
গত ২৫ জুলাই পেন্টাগনের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই সংঘাতে অন্তত ৬২৪ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৭ জন আহত সেনার হিসাব যুক্ত করা হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সাথে, আর বাকি ২০৭ জনের আঘাতের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বৈদেশিক অভিযানসমূহকে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল এবং জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে চুক্তি ও সমঝোতার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে হামলা ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পেন্টাগন তাদের হতাহতের পরিসংখ্যানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে সামরিক মহলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’
গত সপ্তাহে পেন্টাগন আহত ও নিহত সেনার পরিসংখ্যানে বড় ধরনের সংশোধনী আনে। তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মৃত্যু তালিকা থেকে চারজন সেনার নাম সরিয়ে নেয় এবং সেই নামগুলো ‘ওভারসিজ অপারেশনস’-এর মৃত সেনার তালিকায় যুক্ত করে।
গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ হতাহত সিস্টেমে অপারেশন এপিক ফিউরিতে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন এবং আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ জন হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু এর পরপরই হুট করে পরিসংখ্যান বদলাতে শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার নাগাদ অপারেশন এপিক ফিউরির মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে ১৪ জনে নামিয়ে আনা হয়।
নতুন এই ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ক্যাটাগরিটিতে বলা হয়েছে যে, এটি চলতি বছরের ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া হতাহতের হিসাব সংরক্ষণ করে। আর এই নতুন ক্যাটাগরিতে নাম ওঠা ওই চারজন সেনাই বর্তমানে ওই তালিকার একমাত্র মৃত ব্যক্তি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন।
পেন্টাগনের এই নীরব ও অস্পষ্ট উপায়ে পরিসংখ্যান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বচ্ছতার চরম ঘাটতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন মার্কিন বাহিনীর কমান্ডের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন কেবল এই যুদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং প্রকৃত তথ্য গোপনের এক কঠিন প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, আমিনুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি এই পুরো ঘটনাকে একটি অবাস্তব ও হাস্যকর কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের পক্ষ থেকে চাপ বৃদ্ধির পর বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জবাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শান পারনেল এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই পরিসংখ্যানের রদবদলকে ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, মিলিটারি সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে বর্তমানে এই সাইটের অসঙ্গতিগুলো সমাধানের কাজ চলছে। তবে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টেও এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি ২১ জুলাই লিখেছিলেন যে ইরান সামরিক সংঘাতে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
এদিকে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইরাকে একটি ড্রোন ধ্বংসের সময় চার মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী তেরো দিন ধরে মার্কিন বাহিনী লাগাতার ইরানি সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতে গিয়ে সংঘাত নতুন রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: মোদির আত্মবিশ্বাসী ভাবমূর্তিতে চিড় ধরাচ্ছে তরুণদের বিক্ষোভ
তবে গত শুক্রবার থেকে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে এবং গত রবিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো উভয় পক্ষের তরফ থেকে কোনো ধরনের হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন