বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১১ এম
সিঙ্গাপুরের একটি জলাধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কুমিরের ভুয়া ছবি তৈরি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দেশটির পুলিশ এক মিয়ানমার নাগরিককে অভিযুক্ত করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইয়ে লিন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং পরে প্রমাণ মুছে ফেলে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট সিঙ্গাপুরের সর্ববৃহৎ পান্ডান জলাধারে কুমির দেখা গেছে—এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জননিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় পানি সংস্থা দুই দিন ধরে সেখানে রোয়িং ও ক্যানু ফেডারেশনের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। সংস্থাটি কর্মকর্তা ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পুরো এলাকা তদন্ত করে, কিন্তু পরে জানা যায় যে কুমিরের ছবিটি আসলে ভুয়া ছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তদন্তে ইয়ে লিনের নাম উঠে আসে।
পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, ইয়ে লিন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুমিরের ছবি তৈরি করে তা তার এক সহকর্মীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য তিনি সেই ছবি এবং ছবিটি তৈরিতে ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি মুছে ফেলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইয়ে লিন আদালতে ইতিমধ্যে নিজের দোষ স্বীকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, মিথ্যা বার্তা ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা হতে পারে। বিচার কাজে বাধা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সাত বছরের কারাদণ্ডেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা । এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সমাজসেবক মাহবুবর রহমান মালেক। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, রাস্তা সংস্কার, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি ইউনিয়ন বাসীর মুখোমুখি আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসছে—ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি,মাদক মুক্ত ইউনিয়ন গড়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে একটি পরিকল্পিত ইউনিয়ন গড়ে তোলার বিষয়।
মাহবুবর রহমান মালেক ও উন্নয়ন ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তার পক্ষ থেকে মাদকমুক্ত সমাজ, আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মাহবুবর রহমান মালেক ইসলড়াশিমলা ইউনিয়নকে শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে নয়, একটি পরিকল্পিত, মাদক মুক্ত, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নবাসীর মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য হবে দল-মত,ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিপেশার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করা। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা,রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার বিষয়ে আমি গুরুত্ব দিতে চাই।তার ভাষ্য, একটি আধুনিক ইউনিয়নের জন্য শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা সহজ করা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। এ লক্ষ্যেই তিনি ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।এদিকে স্থানীয়দের একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের মতে, “ইউনিয়নের উন্নয়ন করতে হলে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি মানুষের কথা শুনবেন, এলাকার সমস্যাগুলো বুঝবেন এবং উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। মাহবুবর রহমান মালেক কে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণও উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা এখনও চলমান। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কারা থাকছেন এবং ভোটাররা কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করবেন—তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।মাহবুবর রহমান মালেক বলেন, “আমি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। ভাড়াশিমলাকে এমন একটি ইউনিয়ন হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে মানুষ নাগরিক সেবা পেতে হয়রানির শিকার হবে না, তরুণরা কর্মমুখী হবে, শিক্ষার্থীরা ভালো পরিবেশ পাবে এবং প্রতিটি এলাকার মানুষ উন্নয়নের সুফল পাবে। মানুষের পাশে থেকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক ভাড়াশিমলা গড়াই আমার প্রত্যয়। স্থানীয়দের ভাষ্য ও প্রার্থীর ঘোষিত পরিকল্পনা ঘিরে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জনমনে আলোচনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কী রূপ নেয় এবং উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা পূরণে ভোটাররা কোন ধরনের নেতৃত্বকে বেছে নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীতেশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা 'রামায়ণ'-এ শ্রীরামের চরিত্রে বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুরের কাস্টিং এবং লুক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে, অভিনেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এটি তার জন্য একটি সাধারণ সিনেমার অফার বা চরিত্র নয়, বরং একটি বিশাল দায়িত্ব।
সম্প্রতি, রণবীর কাপুরের ৪৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সিনেমার প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে ৫ মিনিটের একটি বিশেষ নেপথ্য ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে, তিনি এ চরিত্রটি সম্পর্কে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
রামের চরিত্রে অভিনয় করার প্রসঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্ন উঠছে, রণবীর কাপুর কতটা উপযুক্ত এই চরিত্রের জন্য? আবার কেউ কেউ তার রাম হয়ে ওঠার পেছনের ভাবনাচিন্তা নিয়েও আলোচনা করছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের একটি রোমান্টিক ছবি, যা আবারও আলোচনা সৃষ্টি করেছে তার অভিনীত রাম চরিত্রটি নিয়ে।
তবে, রাম চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে রণবীরের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, রামকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আত্মবিশ্বাসের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই, রণবীরের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি চরিত্রের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠার লক্ষ্য নয়, বরং মানুষের বিশ্বাসের যোগ্য হয়ে উঠার বিষয়টিও তার কাছে একটি বড় দায়িত্ব।
এছাড়া, রণবীরের এই চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি দেখেছেন অভিনেত্রী সাই পল্লবী। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলার রামকে রণবীরের মধ্যে দেখে তার ছোটবেলা জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
উল্লেখ্য, চলতি বছর দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘রামায়ণ পার্ট ১’। দ্বিতীয় পর্ব আসবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে। ঝলক নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন দেখার বিষয় হলো— রাম রূপে সিনেমায় কতটা অনুরাগীদের মন জয় করতে পারেন রণবীর কাপুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন অগ্রগতির চিত্র দেখা যায়, অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি করছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও উপবৃত্তির ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে প্রায় সমতা অর্জিত হয়েছে। তবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে যাওয়ার পর অনেক কন্যাশিশু আর শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে পারছে না।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
অর্থাৎ, প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েরা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও মাধ্যমিকে গিয়ে তাদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বাল্যবিবাহ উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে, শুধু বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।
কন্যাশিশুর শিক্ষা শুধুমাত্র একজন শিশুর ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও জড়িত। তাই মেয়েদের বিদ্যালয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা সংঘটিত ব্যাপক হামলার ঘটনা, ওই অঞ্চলে আদর্শগতভাবে উগ্র একটি নতুন প্রজন্মের উত্থান নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কঠোরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি শিথিলভাবে সংগঠিত আন্দোলন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতার বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে। ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্য তরুণ। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরের বাইরের এলাকার কিছু স্কুলছুট তরুণও রয়েছে।
ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা। এজন্য তারা প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলি বসতিগুলোর বাইরে পাহাড়ের চূড়ায় অনুমোদনহীন নতুন বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গড়ে তোলে। এসব স্থাপনা সাধারণত অস্থায়ী তাঁবু দিয়ে নির্মিত হয়।
১৯৯০-এর দশক থেকেই পশ্চিম তীরে মূলধারার বাইরে বসবাসকারী ইসরাইলিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী বিদ্যমান। তবে নতুন প্রজন্মের এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের সমর্থনকারী ইহুদি কর্মীদের সংগঠন ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম’-এর ডভির ওয়ারশাভস্কি।
মঙ্গলবার ভোরে ১০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি গ্রাম জালুদে হামলা চালায়। এই হামলায় ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন।
ঘটনার সময় ইসরাইলি সেনারা একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সহায়তা করছিল। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিবারটি আগে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর ফলে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলকে ক্ষুব্ধ করেছে।
সম্প্রতি ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, গত ১২ মাসে এই গোষ্ঠী ১৫৮টি ফিলিস্তিনি গ্রামে ৬৩৫টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত এবং ৪৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। তবে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের খুব কম ক্ষেত্রেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘প্রায় ১৫০ জন কিশোর অপরাধীর’ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন।
ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।
ইসরাইলি সরকার প্রায় ১৪০টি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ। ইসরাইলি পর্যবেক্ষক সংগঠন পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আইনেও অবৈধ এমন খামার ও ছোট বসতির সংখ্যা এখন প্রায় ৪০০।
বহু বছর ধরে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা ইসরাইলি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকার ২১টি এবং পশ্চিম তীরের চারটি বসতি ভেঙে দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়।
একতরফাভাবে ওই বসতিগুলো থেকে ইসরাইলিদের সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে বসতি আন্দোলনের পুরোনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। হাজার হাজার ইসরাইলিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আন্দোলনে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করে।
এরপর আরও বেশি আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারী সামনে আসে। তারা বসতি আন্দোলনের পুরোনো কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরোনো কৌশলের মূলনীতি ছিল—আরও বেশি মানুষ নিয়ে আরও বেশি বসতি গড়ে তোলা।
এর বিপরীতে নতুন প্রজন্ম ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছোট ছোট অবৈধ বসতি ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কৌশলকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ জমিতে সর্বনিম্ন মানুষ’।
ভেড়া ও ছাগলের পাল চরানোর মাধ্যমে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অর্থের কিছু অংশ অবৈধ খামার ও বসতিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, অবৈধ হওয়ার কারণে সরকার সরাসরি এসব স্থাপনায় অর্থ দিতে পারে না। তবে ‘বাকি সবকিছুর জন্য তারা অর্থ দেয়’—অর্থাৎ সড়ক, টহল গাড়ি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, সৌর প্যানেল ও ড্রোনের মতো অবকাঠামোতে অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব বসতিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত অনুদান ও অনলাইন গণ-অর্থসংগ্রহের মাধ্যমেও কিছু অর্থ আসে।
সেনাবাহিনীর সুরক্ষার অভিযোগ
ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকজন নেতা ‘হিলটপ ইয়ুথ’ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইসরাইলি স্থানীয় পরিষদের প্রধান যৌথ বিবৃতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই গোষ্ঠী বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলা এবং এরপর গাজা ও অন্যান্য ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি নিয়মিত সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম তীর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বর্তমানে ইসরাইলি বসতিগুলোর আশপাশে টহল দেওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকেই রিজার্ভ সেনা, যারা নিজেরাও বসতি স্থাপনকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সেনাদের তুলনায় এসব রিজার্ভ সেনা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম আগ্রহী।
‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আসলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। তারা তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ