ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পিছু হটলেন ট্রাম্প, ঝুলে গেল ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত সেই তহবিল


পিছু হটলেন ট্রাম্প, ঝুলে গেল ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত সেই তহবিল

তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও আইনি জটিলতার মুখে, অবশেষে ব্যতিক্রমীভাবে বিতর্কিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল পরিকল্পনা থেকে সাময়িকভাবে পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে, এমনটি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে, এই পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হচ্ছে কি না, নাকি সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে এই তহবিল বাতিলের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, প্রশাসন আপাতত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখছে, কিন্তু পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না। দেশটির বিচার বিভাগও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ফেডারেল আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ মেনে চলবে, যা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প নিজে এবিসি নিউজকে এক ফোনালাপে বলেন, "আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অধীন। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি এটাই। আদালত যদি অনুমতি না দেয়, তবে কী-ই বা করার আছে?" তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এখনো এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করেন, এমনটি তার ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে।

হাউজ স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠকের পর, প্রশাসন এই নমনীয় মনোভাব দেখায়। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মৌখিক আশ্বাস ক্ষুব্ধ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এই তহবিলকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের মতো তাদের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোই এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি, সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন সোমবার প্রশাসনকে এই তহবিল অবিলম্বে ‘নিজেদের উদ্যোগে বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন, শত্রুকে তার ভূখণ্ডেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট নিশ্চিত করেছেন যে, হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা তাকে তহবিলটি ‘বাদ দেওয়া’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে, লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিসহ অনেক রিপাবলিকান নেতাই এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। কেনেডি সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসনকে তাদের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে ও চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কেবল আদালতের নির্দেশ মেনে চলার কথা বলে পার পাওয়া যাবে না।

কয়েক বছর আগে ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন ফাঁসের ঘটনায় আইআরএস-এর বিরুদ্ধে করা একটি নজিরবিহীন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই তহবিলটি গঠন করা হয়েছিল। তবে, ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের নিজস্ব দলের নেতারাই এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। অনেকের মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের মিত্রদের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার একটি গোপন ‘স্লাশ ফান্ড’ বা কালো তহবিল। প্রথমে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালেও, দলীয় আইনপ্রণেতাদের অনড় অবস্থানের মুখে তারা সুর নরম করতে বাধ্য হন।

এদিকে, ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালত আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই তহবিলের অর্থ বরাদ্দ বা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ১২ জুনের শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিলের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর পাশাপাশি, ফ্লোরিডার আরেকটি আদালতেও এই তহবিল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে এক বিচারক ট্রাম্প এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই মর্মে জবাবদিহি করতে বলেছেন যে, তারা আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য বিচার বিভাগের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করেছেন কি না। সব মিলিয়ে নিজস্ব দলের প্রবল বিরোধিতা এবং আইনি বেড়াজালে ট্রাম্পের এই ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত তহবিল এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামরিক পদোন্নতিতে বৈচিত্র্য বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


সামরিক পদোন্নতিতে বৈচিত্র্য বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যিনি রয়টার্সের ছবিতে দেখা যাচ্ছে,যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (এক তারা অ্যাডমিরাল) কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তালিকা থেকে ৯ জন কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, বাদ পড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত ৩ জন নারী, ২ জন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং ৪ জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ রয়েছেন।

হেগসেথের নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে মে মাসে প্রকাশিত এক তারা অ্যাডমিরাল পদে মনোনীত কর্মকর্তাদের তালিকায় কোনো নারী কর্মকর্তা স্থান পাননি। যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের প্রায় ২১ শতাংশ নারী। একইভাবে এক তারা অ্যাডমিরাল পদের জন্য চূড়ান্ত ২২ সদস্যরের তালিকায় মাত্র ২ জন অশ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তা রয়েছেন। যেখানে ওই বাহিনীর প্রায় ৩৮ শতাংশ সদস্য জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪ জন বর্তমান ও সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, হেগসেথের এই পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থার প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে অসাম স্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। তাদের মতে, এক তারা অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতির তালিকা থেকে কর্মকর্তাদের এভাবে বাদ দেওয়া ‘অস্বাভাবিক’ ঘটনা।

পেন্টাগনের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি তালিকা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে নৈতিক, মানসিক, শারীরিক বা পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকতে হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবেদনকে ‘বর্ণ ও লিঙ্গকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে উল্লেখ করেন।

পারনেল বলেন, ‘সামরিক পদোন্নতি তাদেরই দেওয়া হয় যারা তা অর্জন করেছেন। কোনো সদস্যের গায়ের রং বা লিঙ্গ কখনোই পদোন্নতির বিবেচ্য বিষয় নয়।’ তিনি আরো দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগে ‘মেধাতন্ত্রই সর্বোচ্চ নীতি’ হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগেও গত মার্চ মাসে হেগসেথ দুই নারী ও দুই কৃষ্ণাঙ্গ সেনা কর্মকর্তার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (এক তারা জেনারেল) পদে পদোন্নতি আটকে দিয়েছিলেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে বৈচিত্র্য, প্রতিনিধিত্ব এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছায়াপথের কেন্দ্রে বিরল দৃশ্য, নতুন রহস্যের সূত্র পেলেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


ছায়াপথের কেন্দ্রে বিরল দৃশ্য, নতুন রহস্যের সূত্র পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি সর্পিল ছায়াপথের কেন্দ্রে বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের বিরল দৃশ্য রেকর্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পর্যবেক্ষণের ফলস্বরূপ দেখা গেছে, কৃষ্ণগহ্বরটি তার চারপাশের গ্যাস ও ধুলিকণাকে টেনে নিচ্ছে এবং ক্রমাগত বড় হয়ে উঠছে। এই আবিষ্কারটি ছায়াপথ এবং কৃষ্ণগহ্বরের উৎপত্তি নিয়ে একটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নতুন সূত্র সরবরাহ করতে পারে।

নাসা তাদের চন্দ্র এক্স-রশ্মি মানমন্দির ও জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে যৌথভাবে এই দৃশ্য নিবন্ধন করেছে। যে কৃষ্ণগহ্বরটির পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তার ভর আমাদের সূর্যের প্রায় ২০ লাখ গুণের সমান। এটি একটি সর্পিল ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এখনও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকাশিত ছবিতে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে অত্যন্ত উত্তপ্ত পদার্থ ঘূর্ণায়মান অবস্থায় রয়েছে বলে দেখা গেছে। শক্তিশালী মহাকর্ষের কারণে গ্যাস এবং ধুলিকণাগুলি ধীরে ধীরে কৃষ্ণগহ্বরের দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। নাসা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তায় জানিয়েছে, এই কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর ভর ২০ লাখ সূর্যের সমান, যা এখনও বৃহৎ আকার নিচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ একটি প্রাচীন প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই প্রশ্নটি হলো—প্রথমে কি ছায়াপথ গঠন হয় এবং পরে কৃষ্ণগহ্বর বড় হয়, নাকি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরটি আগে গঠিত হয়ে পরে তার চারপাশে ছায়াপথের সৃষ্টি হয়? জেমস ওয়েবের নতুন তথ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে, তুলনামূলকভাবে ছোট ছায়াপথে কীভাবে এত বড় কৃষ্ণগহ্বর গড়ে ওঠে, সেই রহস্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি সাহায্য করতে পারে।

ছবির বর্ণনাতে নাসা জানায়, ছায়াপথের কেন্দ্রের অংশে বেগুনি আভা দেখা যাচ্ছে। এর চারপাশে লাল এবং বেগুনি রঙের ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু ছড়িয়ে রয়েছে, এবং ফ্যাকাশে গ্যাস ও ধুলার স্তর কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই যৌথ পর্যবেক্ষণে, চন্দ্র দূরবীক্ষণ যন্ত্র উত্তপ্ত চাকতি থেকে নির্গত উচ্চশক্তির এক্স-রশ্মিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, জেমস ওয়েব অবলোহিত তরঙ্গের মাধ্যমে আশপাশের গঠন বিশ্লেষণ করে কৃষ্ণগহ্বরের পরিবেশের একটি বিস্তারিত চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে উপস্থাপন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


গাইবান্ধায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আব্দুর রশিদ শেখ (৫২) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আব্দুর রশিদ শেখ ওই এলাকার মোজল হক শেখের পুত্র। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। জানা গেছে, রশিদ প্রায় দুই বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বিপ্লব এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুর রশিদ, যিনি পাঁচ সন্তানের জনক, দীর্ঘ দুই বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যেতেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত সোমবার তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি, ফলে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন আব্দুর রশিদকে এলাকার ফেডারেশন ক্লাবের পাশে একটি গাছের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সুরতহাল রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে, আব্দুর রশিদ আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহতের মরদেহ কোন অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবপুরের চিনাদীবিল ঘিরে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


শিবপুরের চিনাদীবিল ঘিরে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

 

নরসিংদীর শিবপুরের ঐতিহ্যবাহী চিনাদী বিল এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঈদ পরবর্তী ভ্রমণপিপাসু বিনোদন প্রেমীরা এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ভিড় করছেন। ঈদের পঞ্চম দিনে চিনাদী বিলপাড়ে হাজারো মানুষের সমাগম দেখা যায়।

নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে দুলালপুর ইউনিয়নে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চিনাদী বিল অবস্থিত। প্রায় ৫৫০ বিঘা আয়তনের বিশাল এই জলরাশি, যার নাম চিনাদী বিল। এই বিল শুধুমাত্র একটা জলাশয় নয়, বরং প্রকৃতির এক অপার ক্যানভাস, যেখানে নীল আকাশ, সবুজ ধানক্ষেত, এবং স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য।

উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের মানিকদী, শিমুলিয়া, দুলালপুর, ভিটি চিনাদী ও দরগাহবন্দ – এই পাঁচ গ্রামের মিলনস্থলে অবস্থিত এই বিল প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক অভয়ারণ্য। বিলের তীরে রয়েছে কৃষকদের দ্বারা আবাদ করা নানা রকম শাকসবজির ক্ষেত। বিলজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার মৎস্যজীবীর বিচরণ।

মঙ্গলবারের মধ্যে বিল এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে হাজির হয়েছেন। এ সময়ে পর্যটকদের ভিড়ে বিলের চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। কেউ নৌকাভ্রমণে গেছেন, আবার কেউ বিলপাড়ে আড্ডা এবং ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের মাঝেও রয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য।

তবে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এলাকাটির সরু সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন যানবাহনের চাপ সামাল দিতে আগতদের হিমশিম খেতে হয়।

অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেছেন, চিনাদী বিলে যাওয়ার রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় এখানে আসতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শিবপুর সদর থেকে এখানে আসতে মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু তবেও যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। একদিকে সরু রাস্তা, অন্যদিকে রাস্তা বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চিনাদী বিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিলপাড়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের পার্কিং এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চিনাদী বিলকে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর চিনাদি বিলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে, এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%