মোঃ শাহিন, (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৯:৩২ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানায় বার্ষিক পরিদর্শন এবং সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপার জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস উক্ত বার্ষিক পরিদর্শনে অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ভোলাহাট থানার সার্বিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের কর্তব্য পালনের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি থানার দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজিস্টার পরীক্ষা করেন। রেজিস্টারসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে থানায় কর্মরত অফিসার ও ফোর্সের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন পুলিশ সুপার। সভায় কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্তব্য পালনে পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।
একই সাথে তিনি সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, দ্রুততম সময়ে গুণগত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার তাগিদ দেন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, ওয়ারেন্ট তামিল, বিচক্ষণতার সাথে মামলা তদন্ত এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশকে আরও তৎপর ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন,
"জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।"
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্বে গোমস্তাপুর সার্কেল) জনাব মোঃ ইয়াসির আরাফাতসহ ভোলাহাট থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী কলেজের এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় সোমবার (১৭ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রভাষক সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বরখাস্তের আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়নি।
সোহেলী আক্তার নন্দনগাছী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক। তিনি গত ১৫ আগস্ট (শনিবার) নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘গভীর শোক’ লেখা একটি ফটো কার্ড পোস্ট করেন, যেখানে শেখ মুজিবের ছবিও ছিল। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’।
পরদিন রবিবার, কলেজে গিয়ে সোহেলী অধ্যক্ষের কাছে মৌখিকভাবে ছুটি নেন। ওইদিন তার ফেসবুক পোস্টটি কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে রাতের মধ্যে নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।
সোমবার সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজে জড়ো হয়ে সোহেলী আক্তারের স্থায়ী বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদুর রহমান সাহেদ বলেন, ‘সোহেলী আক্তার কলেজে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এজন্য আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছি।’
কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাষক সোহেলী আক্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কেউ এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দিতে পারেন না। তাই কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। শোকজ করা হয়নি। তবে এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে প্রভাষক সোহেলী আক্তার বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা কিছুই জানি না। তবে আমার কী দোষ, সেটাও তো জানি না। আমার কিছু বলার নেই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক দুই ছাত্রদল নেতা মো. জাফর ইকবাল ও কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল সুখবর পেলেন। বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও সরকারি গৌরনদী কলেজের ভিপি কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল এবার BNP এর মূল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন পেয়ে গেছেন।
এই তথ্য রোববার (১৬ আগস্ট) বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জানা যায়, জাফর ইকবাল ১৯৮৬ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২-২০০৮ পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩-২০০৮ এই সময়টা বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অপরদিকে, কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং ২০০৫ সালে ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দুই নেতা রাজনীতির দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রাম পেরিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন।
পদ পাওয়া দুই নেতা বলেন, "ছাত্র রাজনীতি সমাপ্ত করে আমরা এতদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম। আমাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে আমাদের দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রহ্মপুত্র নদ পেরিয়ে যেতে হয়। বর্ষার সময় যোগাযোগ আরও কঠিন। চারদিকে নদী আর বালুচর রয়েছে। এমন দুর্গম জনপদে প্রায় ৯ হাজার মানুষের বসবাস। এটি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ফেইচকার চর।
চরের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কৃষি ও পশুপাখি পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিনভর আয়োজিত সমাবেশে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা চরবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়েকোবাদ, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সমাবেশে চরবাসীর জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কৃষি এবং পশুপাখি পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, চরের মানুষের হাতে যে সম্পদ রয়েছে, তার সঠিক পরিচর্যা করা গেলে তা-ই তাঁদের পরিবারের আয় বাড়ানোর বড় মাধ্যম হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ গরু বিভিন্ন চরে পালন করা হয়। জেলায় সাড়ে ৭ লাখ ছাগলের মধ্যে চরে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ।
এছাড়া জেলায় প্রায় ১৬ হাজার মহিষ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মহিষ চরাঞ্চলে পালন করা হয়। হাঁস-মুরগির সংখ্যাও চরে কম নয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, বিপুলসংখ্যক হাঁস-মুরগি চরাঞ্চলের মানুষের পারিবারিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত।
চরের মানুষের এই বিপুল পশুসম্পদকে আরও উৎপাদনশীল করার ওপর গুরুত্ব দেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, শুধু পশু পালন করলেই হবে না, রোগ প্রতিরোধ, খাবার, বাসস্থান এবং নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে চরবাসীকে সচেতন হতে হবে।
সমাবেশে পশুপাখিকে রোগমুক্ত রাখতে সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বলা হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান চরবাসীকে পশুর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়মিত টিকা এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পশুর মৃত্যুহার কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
চরবাসীর অনেকে জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি পালন করে আসছেন। কিন্তু পশুর রোগ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া, টিকা দেওয়া এবং উন্নত পরিচর্যার বিষয়ে তাঁদের অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ নিয়মিত পাওয়া গেলে পশুপালন আরও বাড়াতে চান তাঁরা।
ফেইচকার চরের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটিও হলো শিক্ষা। নদীবিচ্ছিন্ন এই চর থেকে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন। ফলস্বরূপ, অনেক শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।
সমাবেশে চরাঞ্চলের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চরবাসীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রতিকূলতা থাকলেও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে এবং কোনো শিশু যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ
চরের আরেকটি বড় সামাজিক সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ। দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সমাবেশে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে একটি মেয়ের শিক্ষা বন্ধ করে দেয় এবং তার স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনে নানা ঝুঁকি তৈরি করে। পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
চরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সমাবেশে আলোচনা হয়। নদীবেষ্টিত এবং দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার অন্য এলাকার মানুষের মতোই রয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকাদান, পুষ্টি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, চরবাসীকে শুধু সহায়তা দিয়ে নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাঁদের হাতে থাকা জমি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
তিনি বলেন, “চরের মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের শ্রম এবং তাঁদের সম্পদ। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে এগুলোই তাঁদের পরিবারের আয়ের বড় উৎস হতে পারে। সময়মতো ভ্যাকসিন, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করবে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চরবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জীবিকার উন্নয়ন—সবকিছুকে একত্রে দেখতে হবে। শুধুমাত্র একটি সমস্যা সমাধান করে চরবাসীর জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “চরের মানুষ যেন নিজেদের এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় করা হবে।”
দিনভর এই কর্মসূচিকে ঘিরে ফেইচকার চরের মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। তাঁদের প্রত্যাশা, এক দিনের সমাবেশে আলোচনা সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পশুপালন এবং জীবিকার উন্নয়নে নিয়মিত সরকারি সেবা পৌঁছাবে দুর্গম এই চরাঞ্চলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে ১ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এই পরিমাণটি ২০২৫ সালের একই সময়ে আসা ১ দশমিক ২৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের ১৩ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চার দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৪ দশমিক ৬৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৭৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবাহ দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৈদেশিক খাতকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
এছাড়া, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবারের আয় এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এসব পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী গতি বজায় রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এ প্রবণতায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ