০৫:১৯ পি.এম
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে রাঙ্গামাটির লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ বছর এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৬১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। ফলাফল প্রকাশের পর এই সাফল্যে আনন্দ মুখরিত হয়ে ওঠেন লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীরা একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেন। শিক্ষকেরা এবং অধ্যক্ষও কৃতী শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিশেষ অভিনন্দন জানান। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ১৬১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের প্রত্যেকেই উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, এর মধ্যে ৫৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পেয়েছে সর্বোচ্চ ফলাফল। কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি। তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতভাগ পাসের হার তাকে শীর্ষে নিয়ে এসেছে। তুলনামূলক ফলাফল অনুযায়ী খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শতভাগ হওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। শুধু তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে নয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও লেকার্সের অবস্থান ষষ্ঠ হওয়ায় এবারের এসএসসি ফলাফল রাঙ্গামাটির শিক্ষাঙ্গনে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বিশেষ অর্জন। সাফল্য পাওয়া শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, এই ফলাফল আসতে সময় লেগেছে। নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিজ্ঞাপন আরও পড়ুন ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রীদের সাফল্য বেশি। শিক্ষার্থী জুঁই চাকমা বলেন, আমাদের শিক্ষকরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সবসময় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। পরিবার থেকেও পেয়েছি সর্বোচ্চ সহযোগিতা। নিজেদের পরিশ্রম, শিক্ষক এবং পরিবারের সহযোগিতার ফলেই আজকের এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। শিক্ষক তুষার কান্তি দাশ বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত পাঠদান, একাডেমিক তদারকি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কারণেই ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। অধ্যক্ষ মেজর মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে প্রথম হওয়া এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ষষ্ঠ স্থান অর্জন লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের বিষয়। এই অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাবে। ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের চারপাশে শিক্ষক ও সহপাঠীদের উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে। কেউ সাফল্যের আনন্দে সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ আবার শিক্ষকদের সঙ্গে নিজেদের অর্জনের মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন