০৮:৫৪ এম
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে, বিয়ের নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড বা অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগটি ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর সংশোধনের অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ-এর কারিগরি সহায়তায় নতুন আইনটির খসড়া তৈরির কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এই সংশোধনের লক্ষ্য হল বিদ্যমান আইনে বিদ্যমান 'বিশেষ পরিস্থিতি' অনুযায়ী বাল্যবিয়ে প্রদানের আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে দেওয়া।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এই পরিকল্পনার একটি মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিয়ের নিবন্ধনের জন্য স্বাভাবিক পদ্ধতির কাগজের সনদের বদলে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহারের প্রথা চালু করা। মূলত, জন্মসনদ জালিয়াতির মাধ্যমে, অপ্রাপ্তবয়স্ক বর-কনের প্রকৃত বয়স লুকানো প্রবণতা বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত এই প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় জানান যে, ইউনিসেফের গ্লোবাল চাইল্ড ম্যারিজ ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার এখনও অনেক বেশি। আইনগত ফাঁকফোকর এবং জন্ম নিবন্ধন রেকর্ডের জালিয়াতির সুযোগ নিয়ে দেশের দূর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের ঘটনা ঘটে।
এই প্রশ্নের জবাবে, প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন যে, ধর্মীয় বিধি মেনে পরিচালিত অনেক বিয়ের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে সঠিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য, বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন