১০:৪১ পি.এম
মহাকাশযাত্রার জন্য প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী অনিল মেনন। মঙ্গলবার কাজাখস্তানের ঐতিহাসিক বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে তিনি রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৭ মিনিটে উৎক্ষেপিত সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের পর তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অভিযানে অনিল মেননের সাথে পাশাপাশি রয়েছেন রুশ মহাকাশচারী পিওতর দুব্রভ ও আনা কিকিনা। উল্লেখ্য, তাদের দুজনের জন্য এটি দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান। এই তিন নভোচারী প্রায় ৮ মাস মহাকাশে অবস্থান করবেন। মহাকাশে অবস্থানের এই সময়কাল তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীর কাজ করবেন। তাদের ২০২৭ সালে পৃথিবীতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণার মধ্যে, অনিল মেনন মহাকাশে কিভাবে মানুষের শরীর খাপ খাইয়ে নেয়, সেটির উপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অংশ নেবেন। গবেষণার মধ্যে অণুমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে রক্তপ্রবাহ, শিরার গঠন এবং রক্তের উপাদানের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হবে। আরো উল্লেখযোগ্য হল, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পানযোগ্য পানি ব্যবহার করে শিরায় প্রয়োগযোগ্য (আইভি) তরল তৈরি করার প্রযুক্তির পরীক্ষায়ও তিনি অংশ নেবেন। ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযান পরিচালনায় এই প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, অনিল মেনন উন্নত চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষারও অংশ নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতির পরীক্ষা। যা ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের চিকিৎসা সহায়তায় কাজে লাগানো হবে। কে এই অনিল মেনন? ৪৯ বছর বয়সী অনিল মেননের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে। তার বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। তিনি নিউরোবায়োলজি, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি একজন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কর্নেল। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় আফগানিস্তানে 'অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম' এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, হিমালয়ান রেসকিউ অ্যাসোসিয়েশন এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাউন্ট এভারেস্টে আরোহীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। একসময় তিনি রোটারি অ্যাম্বাসাডোরিয়াল স্কলার হিসেবে ভারতে এক বছর অবস্থান করে পোলিও টিকাদান কর্মসূচিতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে নাসায় ফ্লাইট সার্জন হিসেবে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত নভোচারীদের চিকিৎসা সহায়তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি স্পেসএক্সে যোগ দেন এবং সেখানকার চিকিৎসা কর্মসূচি গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রথম মানববাহী মহাকাশ মিশনের প্রস্তুতি এবং চাঁদ, মঙ্গল ও আরো দূরের মহাকাশ অভিযানের জন্য স্টারশিপ মহাকাশযানের উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি নাসার নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরের মাসে দুই বছরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেন। অনিল মেননের স্ত্রী আনা ভিলহেল্মও একজন নভোচারী। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেসএক্স পরিচালিত একটি বেসরকারি মানববাহী মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়ে প্রায় ৫ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন