০৪:৪৩ পি.এম
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যা কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলায় ১১ আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিলের প্রতিবাদে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এ সংবাদ সম্মেলন আজ বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যাহ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আসামীদের পক্ষ থেকে চার্জশিট দাখিল করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আমার স্বামী হত্যাকান্ডের পর ন্যায় বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত ডালি ও অলির নাম কেটে দিলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান।' স্থানীয় এমপির নির্দেশে মামলার গ্রহণ হলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ১১ জন আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন
তিনি মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবী জানান এবং বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান যে, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ব বিরোধ নিয়ে এবং পথিমধ্যে চাচাতো বোনকে হেনস্থা করার প্রতিবাদ করেন বলে গত ০৭ই জুন প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁর স্বামী নাসিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে একই গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ডালি গংরা। হত্যাকান্ডের দুই দিন আগে তাঁর দেবর জসিমের মোটর সাইকেল আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কবর খুঁড়ে রাখার হুমকি দেয় আসামী অলি। ০৬ই জুন ডালি গংরা তার ভাসুরসহ অনেককে হত্যার চেষ্টা করে।
৭ জুন ডালি ও আনু গংদের সাথে কথা-কাটাকাটির জেরে তার স্বামীকে কিল, ঘুষি, লাথি ও পাইপ দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর এখনো পর্যন্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হলেও মূল আসামী ডালি ও অলি গংরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনার পর তার স্বামী হত্যার বিচারের আশায় ধর্মপাশা থানায় মামলা করতে গেলে দায়িত্বরত ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ডালি ও অলির নাম কেটে দিতে বড় অঙ্কের টাকার অফারও করেন। মামলার আয়ু জহিরুল ইসলাম জোরপূর্বক একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্বাক্ষর না দিতে চাইলে সেখানে তাকে হেনস্তা করা হয়। এবং ওসি সাহেব মহিলা পুলিশ দিয়ে তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসার হুমকিও দেন। বারবার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে চাপ দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ১৮
এদিকে আসামীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে তাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে এসেছে। বিগত সরকারের আমলেও আসামীরা দলের বিভিন্ন এমপি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বর্তমানে খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি’র বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ছবি তোলে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করে এলাকায় দাফটের সাথে চলাফেরা করছে তারা। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস করছে না।
এদিকে ওসির সাথে আসামীদের পরিচিতির কারণে আসামীরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা একটি লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ফলে তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এছাড়া, রূপসা আক্তার জানিয়েছেন, তার স্বামী নাসিম একজন সামান্য চা বিক্রেতা ছিল। তাকে হারানোর পর তিনি, তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ছোট ছোট ৪টি মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আসামীরা প্রতিনিয়ত তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং মূল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বড় ভাই আলামিনসহ অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন