১১:৪৫ পি.এম
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে না দেওয়ার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল, অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলো সরকার
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সঙ্গে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল রাখা, দর্শনার্থীদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিসর্জনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওয়াদিয়া শাবাব, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যান শাখা, ট্রেজারী শাখা, সাধারণ শাখা, ব্যবসা বানিজ্য শাখা, আইসিটি শাখা, ই-সেবা) শেখ শোয়েব ইবনে রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মুকিত সরকার, কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ১৪ জন: আমিনুল হক
প্রশাসন ও শারদীয় দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, কিশোরগঞ্জে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন