০৬:১৫ এম
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ঝুটের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের সাড়ে তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টার দিকে ছয়টি ইউনিটের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১২ থেকে ১৭টি গোডাউন ও দোকান এবং আশপাশের কয়েকটি বাসাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা
ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অবস্থিত ফ্যান্টাসি কিংডমের ওয়াটার কিংডমের পূর্ব পাসের নূরে মদিনা মাদরাসার সামনে আলাউদ্দিনের ঝুটের গোডাউন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই সময় আগুন দ্রুত আশপাশের অন্যান্য ঝুটের গোডাউন এবং বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি শুরু করে। পরে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস ও জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস থেকে ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ৬টি ইউনিটের টানা সাড়ে ৩ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে আলাউদ্দিন ও বাবুল মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। তবে রাস্তায় যানজট থাকায় সময়মতো ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এ সময় স্থানীয়রা নিজস্ব প্রচেষ্টা দিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আগুন নির্বাপণের চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত আশপাশের আরো কয়েকটি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে নিজেদের উদ্যোগে পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, বাইপাইল থেকে জামগড়া পর্যন্ত পুরো রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে গাড়িগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গোডাউনে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলেও তিনি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিক মো. ইমন জানান, ওই এলাকায় মোট ১৭টি গোডাউন ও দোকান ছিল। এর মধ্যে বাম পাশের ৩-৪টি গোডাউন আংশিক রক্ষা পেলেও বাকি সবকটি গোডাউন ও দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে ঝুট, প্যান্টের কাপড়, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ঝুটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এখনো ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরো বেশকিছু সময় লাগবে। আগুনের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, পানি পেতে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে। মাত্র একটি পাশ দিয়ে পানি নেওয়া গেছে। আগুনের ঘটনায় এখানে ১২/১৩ টি গোডাউন ও গোডাউনে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে পাশের ১০ থেকে ১২টি সেমিপাকা ঘর এবং মালামাল পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখন নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন