০৯:২৩ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে; এর ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, শুক্রবার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পৌঁছানোর পর সোমবার (১ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫১.৬৫ ডলারে অবস্থান করছে। অপরদিকে, জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ২.৫ শতাংশ কমে ৪,৪৭৯.২০ ডলারে পৌঁছেছে।
ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যখন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পায়, তখন ডলার-মূল্যে নির্ধারিত ধাতু অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করছে। যদি বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি থেমে যায় বা সুদের হার স্থিতিশীল থাকে কিংবা কমতে শুরু করে, তবে এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
এদিকে, সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে, ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মারফত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে, যা তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা নতুনভাবে উসকে দিয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে; এমন প্রত্যাশাও বর্তমানে জোরদার হয়েছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর প্রায় ৫৬ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়
যদিও স্বর্ণ সাধারনত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচিত হয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে তা চাপের মুখে পড়ে, কারণ এতে কোনো সুদ বা মুনাফা জন্যে থাকে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী সময়ে মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের বক্তব্য বাজারের গতিপথ নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল হয় এবং জ্বালানি সংকট কমতে শুরু করে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে আবার মনোযোগ দিবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন করতে পারে। আগামী বছরের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের নিট ক্রেতা হিসাবেও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.৯৬ ডলারে নেমে গেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ১,৯০৮.৯১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪৩.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন