মোঃআসাদুজ্জামান শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
০৯:৩২ পি.এম
মাদারীপুরের শিবচরে নিখোঁজের দুই দিন পর বাঁশঝাড় থেকে সজিব বেপারী (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রাম থেকে সজিব বেপারী নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সজিব বেপারী একই এলাকার হাফেজ বেপারীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে সজিবের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না তার পরিবারের সদস্যরা। রোববার সকালে বাজিতপুর গ্রামের একটি ঘন ও পরিত্যক্ত বাঁশবাগানের ভেতর গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ ঝুলতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় বজ্রাঘাতে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বারহাট্টা ইউনিয়নের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে তিনি নিহত হন।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম যান এর বাড়ির পেছনের মাঠে গরু আনতে। বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, রবিবারে বৃষ্টির সময় তিনি গরু আনতে গিয়েছিলেন। সেই সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, "খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে।" নিহতের পরিবারকে সরকারি বিধি মোতাবেক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনা সম্পর্কে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চম্পক দাস জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে পরিস্থিতির আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগাছার দাদন কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রাজিয়া সুলতানাকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রবিবার বিকেলে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন ধরে উঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাদন কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকালে রাজিয়া সুলতানা সরকারি ওষুধ বিতরণে অনিয়ম, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা, বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায় এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে অনিয়ম করে আসছিলেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ আত্মসাৎ, রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, গর্ভবতী নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, ভাতার নামে অর্থ আদায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করা এবং দীর্ঘ সময় কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজিয়া সুলতানার দায়ের করা একটি মামলায় গ্রামের ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি সুজন খান অভিযোগ করে বলেন, 'দাদন কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমিসহ নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলাম। এর জের ধরেই আমাদের আসামি করা হয়েছে।'
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মানব উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি স্পষ্ট দর্শন ফুটে উঠেছে।
কিন্তু এই বাজেটের উচ্চাভিলাষী সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, এবং প্রস্তাবিত রাজস্ব কাঠামোতে যেভাবে আছে, সেভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
রবিবার (২১ জুন) গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ ২০২৬’-এ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই গবেষণা সংস্থার ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিভিউ অব বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট’ (আইআরবিডি) বিশ্লেষণটি উপস্থাপন করেন।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছিলেন, সে নিয়ে এই গবেষণা সংস্থা আটটি মূল পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
সিপিডি উল্লেখ করেছে, সরকারের সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ থেকে একটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দাবি প্রকাশ করে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সিপিডি চিহ্নিত করেছে যে, সরকার রাজস্ব সংগ্রহে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিপিডির নিজস্ব প্রাক্কলন অনুযায়ী গত অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আদায় হতে পারে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
গবেষণা সংস্থাটি মানবসম্পদ খাতে সরকারি ব্যয়কে নতুন করে অগ্রাধিকার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২৪ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
কিন্তু তারা সতর্ক করে বলেছে, উভয় খাতেই দীর্ঘস্থায়ী বাজেট ব্যবহারের দুর্বলতা রয়েছে। যেমন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবহারের হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৮০ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সম্পর্কে সিপিডি বলেছে, ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দ (যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি) একটি উচ্চাভিলাষী আর্থিক অবস্থান প্রদর্শন করে। তবে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপির মাত্র ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়েছিল, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিম্ন সক্ষমতারই ইঙ্গিত দেয়।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা ৮টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পও সময়মতো শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ব্যক্তিগত আয়কর কাঠামোর ক্ষেত্রে সিপিডি বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা দেখিয়েছে, বার্ষিক ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর আনুপাতিকভাবে করের বোঝা বেশি বেড়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে (এসএসএনপি) বরাদ্দ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে সিপিডি লক্ষ করেছে যে, পেনশন ব্যবস্থাপনা ও কৃষি ভর্তুকি মিলেই মোট সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ চলে যায়, যা মূলত সরাসরি দরিদ্রদের লক্ষ্য করে নেওয়া কর্মসূচি নয়।
১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে, সে বিষয়ে সিপিডি দেখেছে, কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট প্রধান চারটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অংশ হিসেবে কমেছে বা স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ একেবারে সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ ৯০৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩২৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেটে মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপের অনুপস্থিতিও সিপিডি চিহ্নিত করেছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণের প্রথম বড় সুযোগ এই বাজেট।’ তবে এর সফলতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের গুণগত মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পূর্বে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।
আজকের কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী আরও জানান, শব্দদূষণ লোকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে, এই বিষয়টি সমাজে আরও বেশি করে বুঝানো প্রয়োজন। শব্দদূষণের কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে, যেমন মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের বিঘ্ন এবং অনিদ্রা। শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
মন্ত্রী আরও বলেন, একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার বৃহত্তম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রকল্প নেওয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিন্ন ও নিয়মিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিভিন্ন এলাকা পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতন এলাকা ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, রেল, বিমান, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে শব্দদূষণ কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এছাড়াও বিআরটিএ'র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেবেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্টিক্স টাউন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ