০৭:২২ পি.এম
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সংযুক্ত রয়েছে এক সাবেক ইউপি সদস্যকেও।
পুলিশ এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যালয় ছুটির পরে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন শিশুটিকে ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের তরফ থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করার পরপরই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং সহযোগী সাবেক ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর দাদা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় ছুটির পর তৃতীয় তলার স্টোর রুমে নিয়ে নাতনিকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য বাচ্চু এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মেম্বার রাতে ভুক্তভোগীর দাদা-দাদির বাড়িতে গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং ওই সময় তারা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
পরদিন সকালে ঘটনার সত্যতা জানতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক তাদের কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। পরে বাচ্চু মেম্বার, ফিরোজ মেম্বার ও নূরউদ্দিনের অনুসারীরা ভুক্তভোগী শিশুর মামা, দাদা ও দাদির ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য, প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তার দাবি এটি বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস চলাকালীন তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন