১১:৪৯ এম
টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা শহরের অনেক সড়ক জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে; এই পরিস্থিতির প্রভাব বাজারেও পড়েছে। বাজারের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমানে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচামরিচের দাম প্রতিকেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে সবজি ও মুরগির বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে; কিন্তু চালের দাম হ্রাস পেয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আশপাশের বাজার পরিদর্শন করে এই চিত্র দেখা গিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, টানা বৃষ্টির জন্য বাজারে আসতে ক্রেতাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। আবার জলাবদ্ধতার মাঝে দোকান বসিয়ে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতা বাজারে এসেছেন ভিজে গেছেন।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
এক্ষেত্রে কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা কমে আসায় দাম বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে।
তবে সবজির বাজারে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। হাতে গোণা দুই-একটি সবজির দাম বেড়েছে; কিন্তু বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি পটোলের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকার দরে, কাঁকরোল এবং করলার দাম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ও পেঁয়াজের দাম যথাক্রমে ২৫ টাকা এবং ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া মন্তব্য করেন, ‘বৃষ্টির কারণে মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্যান্য সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। এজন্য সেগুলোর দামে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’
বাজারে আসা একজন ক্রেতা সেলিম হোসেন জানান, সবজির দাম মোটামুটি সহনীয় আছে। কিন্তু কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিনি সমস্যা অনুভব করছেন। রান্নায় মরিচ প্রতিদিন লাগে, তাই না কিনেও উপায় নেই।
আরও পড়ুন: ঢাকায় নেওয়া রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আর নেই
আরেক ক্রেতা নাসরিন আক্তার জানান, বৃষ্টিতে বাজারে আসতে কষ্ট হয়েছে। মরিচ ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তবে চালের দাম কিছুটা কমানোর ফলে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
এদিকে, ডিমের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, খামার থেকে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারেও ১০ টাকা বেড়ে গেছে।
মুরগির বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং লেয়ারের দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকার কারণে দামে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে, চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। সেদ্ধ চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৪ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায়। তবে পোলাওয়ের চালের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দাম কিছুটা বেড়ে বর্তমানে পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।
আরও পড়ুন: ২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ভুয়া, সতর্কতা জারি
মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে চাষের পাঙাশ ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা, চাষের শিং ৪০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন