ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
পর্ব-১ কে এই কালা বাদল" পরিচয়?

গরিবের বন্ধুর আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ: আমুয়ার ত্রাস ‘কালা বাদল’


গরিবের বন্ধুর আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ: আমুয়ার ত্রাস ‘কালা বাদল’

গরিব, অসহায় মানুষের কল্যাণের কথা বলে গঠিত ‘গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা’। অথচ এই সংস্থার নাম ভাঙিয়ে দিনের পর দিন অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন কালা বাদল নামে এক ব্যক্তি। সংস্থাটির ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রে যেমন খলনায়কদের অপরাধের দৃশ্য দেখা যেত, বাস্তবে আমুয়ায় ঠিক তেমনই একের পর এক প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই কালা বাদল।

অপরাধের চিত্র ও প্রতারণার বিবরণ:

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

খাদ্য গুদাম থেকে চাল আত্মসাৎ: আমুয়া খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে প্রতি মাসে আনুমানিক ১০০ কেজি চাল অবৈধভাবে আত্মসাৎ করছে কালা বাদল।

উপজেলা কার্যালয় থেকে চাঁদা আদায়: উপজেলা কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে বলে আপনাকে স্যার ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে রাখা হয়েছে আপনি প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। কালা বাদল

অনুদানের টিউবওয়েল আত্মসাৎ: ‘গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ও গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ও বেসরকারি টিউবওয়েল আত্মসাৎ করে নিজের পকেটে ভরছে।

এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে এই চক্র।
সাধারণ মানুষের সহায়তায় বা সংস্থার নামে প্রতি মাসে যে অর্থ সংগৃহীত হয়—যা দিয়ে প্রতি সপ্তাহে গরিবদের অন্তত গরুর মাংস দিয়ে একবেলা ভাত খাওয়ানো সম্ভব—সেই অর্থ দিয়ে কালা বাদল নিজের পকেট ভারী করছে।

আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী

গরিবের বন্ধু নাম দিয়ে এভাবে প্রতারণা ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের বিষয়টিতে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। আমুয়াবাসীর দাবি, অবিলম্বে কালা বাদলের এই চাঁদাবাজি ও প্রতারণা বন্ধে প্রশাসন যেন দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

কুয়েতে ভিজিট ভিসা ও দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এর ফলে ভিসা এবং ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রে আবারও নির্ধারিত আইনগত মেয়াদ এবং স্বাভাবিক নিয়ম কার্যকর হবে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না। একইভাবে, দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা শেষ হবে।

২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ অঞ্চলের বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ছেড়ে যেতে পারেননি। আবার কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারেননি। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করার জন্য এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করে। বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। একইভাবে, কুয়েতের বাইরে অবস্থানরত কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়। অর্থাৎ, এটি কোনো স্থায়ী নতুন ভিসা আইন ছিল না; বরং বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল। স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে হাজার হাজার প্রবাসী ও ভিজিট ভিসাধারী বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন। প্রথমত, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ অবস্থানে পড়ার ঝুঁকি কমেছে। দ্বিতীয়ত, বিমান চলাচলে বিঘ্ন বা অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে যারা নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ফিরতে পারেননি, তারা অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। তৃতীয়ত, ভিসা বা ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে আলাদাভাবে আবেদন করার প্রয়োজন পড়েনি। চতুর্থত, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আটকে পড়া প্রবাসী ও যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ব্যবস্থা প্রবাসীদের অনিচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা কমিয়েছে এবং তাদের কুয়েতে ফিরে আসা বা বৈধ অবস্থান বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীকে তার ভিসার প্রকৃত মেয়াদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে, কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। শুধু আগের বিশেষ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় ধরে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না। কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাই প্রবাসীদের পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা বা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যদি কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না আসেন, তাহলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলেও তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিস্থিতি এবং ব্যক্তির আবাসন বা ভিসার ধরন অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তাই ভিজিট ভিসা, আবাসন অনুমতিপত্র ও ছুটির অনুমতিপত্র প্রতিটি বিষয়কে একই নিয়মে দেখার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা হবে, তা তার ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে তার ওপর নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু, ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু, ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
 
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসা অবহেলা কোনরকম বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা অবহেলা জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে তিন সন্তানের জননী পেটে গজ রেখে সেলাই দেয়ার পর মৃত কনিকা রানীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 
 
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। পরিবারের সহমর্মিতা জানাতে আমি এই বাড়ীতে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্থানীয় বিএনপি নেতারা পাশে থাকবেন, পাশে থাকবে সরকার। গত ১৭ বছর স্বাস্থ্যসেবাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে সেখান থেকে উত্তোরণে আমরা কাজ করছি। আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দৌড়গড়ায় পৌছে দিতে। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সাধারণ জনগন সুফল ভোগ করবে। 
 
এসময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মো: ফারুক হোসেন, উপজেলা অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
প্রসঙ্গত: গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)। পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। সেদিনই অপারেশন করে তা বের করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগষ্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মৃত্যু হয় কনিকার।
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বাহিনীর হয়ে করেছেন গুপ্তচরবৃত্তি, এবার তাকেই বিতাড়িত করছে যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


মার্কিন বাহিনীর হয়ে করেছেন গুপ্তচরবৃত্তি, এবার তাকেই বিতাড়িত করছে যুক্তরাষ্ট্র!

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে বছরের পর বছর ছদ্মবেশে জীবন যাপন করে এবং একাধিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে সহায়তা করা কসোভো বংশোদ্ভূত একজন ব্যক্তিকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই খবরটি এনডিটিভি জানিয়েছে, সিবিএস নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিটির নাম ব্লেয়ারিম স্কোরো (৫৫)। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। গত ৩ আগস্ট নিউ জার্সির একটি অভিবাসন কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন করার সময় মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্কোরোর আইনজীবীরা এখন তার বহিষ্কারাদেশ ঠেকানোর জন্য ইতিমধ্যেই দেশটির ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের যুক্তি হল, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ করার ফলে কসোভোতে তার প্রাণনাশের চরম ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এর আগে আদালত তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন অফিসে গ্রেপ্তারের সময় স্কোরোর পাশে ছিল তার স্ত্রী সুসান স্কোরো। তিনি ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঙ্গে সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘তারা ওর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

ও নিজে সাজা খেটেছে, দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল—কিন্তু এখন কারও কিছু আসে যায় না! ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমার যোগ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওকে বিশ্বের কোথাও নিরাপদে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, আমরা সবসময় জীবনের ঝুঁকিতে থাকি।’

বর্তমানে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছেন স্কোরোর স্ত্রী এবং সন্তানরা আমেরিকান নাগরিক। আইনজীবীদের দাবি, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে তাকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে হেরোইন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্কোরোর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৯৯৪ সালে কসোভো সংঘাত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় চেয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে পারিবারিক সমস্যা সামলাতে না পেরে অপরাধের জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

পেনসিলভানিয়ার একটি ফেডারেল কারাগারে সাজা খাটার সময় স্কোরো উগ্রপন্থীদের সাথে যুক্ত হন। সেখান থেকেই এফবিআই-এর ‘গোপন তথ্যদাতা’ হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সিআইএ তার এই যোগাযোগকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কারাগারে বসেই তিনি লাকাওয়ানা সিক্স, ভার্জিনিয়া জিহাদ নেটওয়ার্ক এবং হিজবুল্লাহর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে দেন।

এমনকি সিবিএস নিউজের হাতে পাওয়া ২০০৪ সালের এফবিআই নথি থেকে জানা গেছে, স্কোরো ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তদন্তেও তথ্যদাতা ছিলেন। তিনি সিরিয়ার এক সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যেগুলি অত্যন্ত নিখুঁত ও কার্যকর ছিল।

২০০৭ সালে সাজা শেষ হওয়ার পর কসোভোতে ফেরত পাঠানো হলেও সিআইএ-এর অনুরোধে বলকান অঞ্চলে আল-কায়েদা নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে যান স্কোরো। আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি ছদ্মবেশে সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, পাকিস্তান এবং মিসর ভ্রমণ করেছেন। এই গোপন মিশন চলেছিল ২০০৯ সাল পর্যন্ত। তিনি সিআইএ, এফবিআই এবং ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) হয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।

২০১৪ সালে কসোভোতে একটি হামলায় পায়ে গুলি লাগার পর নিজের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কানাডা হয়ে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন স্কোরো। পরে ২০১৬ সালে মেয়ের ডিসকাউন্ট কার্ড ব্যবহার করায় নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করলে ওই বিষয়টি আবারও ইমিগ্রেশনের হাতে চলে যায়।

এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের ‘কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার’-এর আওতায় এক আমেরিকান বিচারক রায় দেন যে, কসোভোতে নির্যাতন বা হত্যার আশঙ্কা থাকায় স্কোরোকে সেখানে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এই রায়ে তাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় নতুন করে আইসিই এর হাতে বন্দি হতে হয়েছে স্কোরোক। নিউ জার্সির এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টার থেকে কাতর কণ্ঠে তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি তারা আমার সঙ্গে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমি যদি মারাও যাই, এই দেশেই মরতে চাই যেন আমার সন্তানরা আমাকে এখানেই কবর দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


কাতারের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্সের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে আনুমানিক ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই বিক্রির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী চারটি পর্যন্ত কেসি-৪৬এ বিমান এবং এসব বিমানের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৃহস্পতিবারের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কাতার চারটি পর্যন্ত কেসি-৪৬এ বিমান কেনার জন্য অনুরোধ করেছে, পাশাপাশি আটটি পিডাব্লিউ৪০৬২ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, ১০টি এএন/এএলআর-৬৯এ রাডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ১৫টি গার্ডিয়ান লেজার ট্রান্সমিটার এবং আটটি এলএআইআরসিএম সিস্টেম প্রসেসরও কেনার অনুরোধ করেছে। চুক্তির মধ্যে বিমানের জন্য বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জাম ও সেবা, পরিবহন, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশ করেছে যে, এই বিক্রয় কাতারের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এটি কাতারের সামরিক সমন্বয়ও বৃদ্ধি করবে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে।

এই চুক্তির মাধ্যমে কাতার বর্তমান এবং ভবিষ্যতের নানা নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলার জন্য আরো সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘কৌশলগত আঞ্চলিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির প্রধান মার্কিন ঠিকাদারদের মধ্যে বোয়িং, প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি মিলিটারি ইঞ্জিনস, আরটিএক্স করপোরেশন ও নর্থরপ গ্রুম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কেসি-৪৬এ বিমানটি অন্যান্য বিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। পাশাপাশি, এই বিমানে কার্গো পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তরের সুবিধা রয়েছে। এটি পুরনো কেসি-১৩৫ বিমানের তুলনায় আরো উন্নত সক্ষমতার একটি বিমান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য কাতারের দ্বারা প্রদত্ত একটি বিমান নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্নের মধ্যেই এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ঘোষণা এসেছে। ট্রাম্প জুলাই মাস থেকে ওই নতুন জেটটি ব্যবহার শুরু করেছেন এবং বিমানটি উন্নত করার জন্য এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%