০৪:৩০ পি.এম
কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের কাশিনাথপুরের দিদার মার্কেট এলাকায় অবস্থিত এই সড়কগুলো প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিধ্বস্ত। শহরের ব্যস্ততম তিনটি সড়ক হলো: কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক, এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক।
এই সড়কগুলি কুমিল্লা শহরের প্রবেশমুখও। যদিও দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এগুলো। ফলে, যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কগুলো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টির সময় খানাখন্দে ভরা এই সড়কে পানি জমে যায়। তখন সড়কগুলোকে মনে হয় একেকটি ছোটখাটো ডোবা। যেখানে পিচের কোনো অস্তিত্বই নেই এবং ইট-পাথরের খোয়া উঠে গেছে।
এছাড়া, বড় গর্তের কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। বিশেষভাবে রোগীরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য খানাখন্দ সড়কের বিভিন্ন অংশে রয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। কোথাও সড়কের অংশ আর কোথাও গর্ত, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট
হালিমানগর ও দৌলতপুর মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কগুলোতে পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছে। গত পাঁচ বছর ধরে এই অবস্থা চলমান। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ফলে, প্রতিদিন হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অ্যাম্বুল্যান্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা সেনানিবাস, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন।
কোটবাড়ি এলাকার সিএনজিচালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, গাড়িতে যাত্রী উঠলে গালাগালি করতে থাকে। কারণ, প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রপাতি কোনো না কোনোভাবে নষ্ট হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাঝে কিছু ভাঙা ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল, अब সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘চোখের সামনে দেখছি হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি। কিন্তু করার কিছু নেই।’ সড়কগুলো এমন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা সংস্কার করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি সড়কে চলাচল করে। কিন্তু সড়কের অবস্থা এত খারাপ যে, বাসগুলো চলাচল করতেও ভয় পায়। তিনি বলেন, ‘মানুষের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না।’
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ এ বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ এলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন