ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজপথে নামছে বিরোধী দল


সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজপথে নামছে বিরোধী দল

বর্তমান সরকারের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই জোট।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চের মাধ্যমে দাবি জোরদার করার লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। এটি বর্তমান সরকারের সময় বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় ও প্রথম কর্মসূচি হবে। পর্যায়ক্রমে আরো ৩ বিভাগে রোডমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে সরকারের কাছে দাবি আদায়ের চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

 

জোটনেতাদের মতে, সংসদের পাশাপাশি গত প্রায় ৫ মাস ধরে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ ও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সংস্কারের দাবি আদায়ে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা এই কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সমাধানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলনের আভাসও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার করার কথাও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম।" তিনি জানান, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত না করায় তারা লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, "সরকারই আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।"

তিনি আরো বলেন, "আমরা সরকারকে বলেছিলাম যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও ফয়সালা করা সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে দেবেন না।" কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে রাজপথে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

সূত্রমতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সেখান থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ ৪ বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই দিন সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথের কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণা দেন তিনি।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "সংস্কারের পক্ষে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে বারবার বলা হলেও তাতে কোনো সাড়া দেয়নি সরকার।" তিনি জানান, "তাই জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নেওয়া হচ্ছে।"

তিনি আরো বলেন, "এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হবে এবং দাবি-দাওয়ার বিষয়ে জনমত বাড়বে।" এতে ব্যাপক অংশগ্রহণের সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি ঘোষণা দেন, "দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম বড় কর্মসূচি ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় সমাবেশ শেষে লংমার্চ শুরু হবে। রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে বেশ কয়েকটি স্থানে বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাই উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরো কিছু স্থানে ছোট ছোট পথসভা হবে। এসব সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

জানা গেছে, লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। লংমার্চ রুট-সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াত। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা পরিকল্পনা করছেন। আজ ৩১ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রস্তুতি তুলে ধরবেন জোট নেতারা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সবচেয়ে বড় প্রথম কর্মসূচি হবে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ। তিনি বলেন, "গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ প্রধান ৬ দাবিতে দেওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।" তিনি সরকারি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বন্ধু সংগঠনের কাছে সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা জেলা, উপজেলা ও মহানগরীতে ৩ দফা কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, গোলটেবিল আলোচনা সভা ও প্রচার সম্পন্ন করেছি। চতুর্থ রাউন্ডে এসে ১১ দলের পক্ষ থেকে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তিনি বলেন, "আমরা লংমার্চের প্রধান ৬টি দাবি হিসেবে পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারে স্থান দিয়েছি।" সেগুলো হলোÑগণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও দেশব্যাপী বিরাজমান সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা, ভেঙে পড়া ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণের প্রতিবাদ ও তা বন্ধ করা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, এই লংমার্চে ৬-৭ পয়েন্টে শীর্ষ নেতারা পথসভা করবেন। এতে হাজারের বেশি গাড়ি সংযুক্ত থাকবে এবং পথে পথে স্বতঃস্ফূর্ত সাধারণ মানুষ ও যানবাহন যোগ দেবে। লংমার্চের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বেশ কয়েকটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে। অভ্যর্থনা, মেডিকেল, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, আইটি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, "লংমার্চ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডবল রোডের একটি পথ আমরা ব্যবহার করব এবং অপর পথটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফ্রি রাখব, যেন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।" বিশাল গাড়িবহর ও পথসভার কারণে সাময়িক যে যানজট বা ভোগান্তি হতে পারে, তার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

লংমার্চের কারণ প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, "নির্বাচনে জয়লাভের পর গণভোটের গণরায়কে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার অস্বীকার করছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "তারা একে সংবিধানবিরোধী এবং রাষ্ট্রপতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করছে।" তিনি বলেন, "সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং গণরায়কে এড়িয়ে যাচ্ছে।" সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলের এমপিরা নোটিস দিয়ে বারবার বিতর্ক করছেন; কিন্তু আলোচনা নিষ্ফল হচ্ছে। যতক্ষণ পার্লামেন্টে এর নিষ্পত্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ ৭০ ভাগ জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে সমুন্নত রাখতে রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

সংস্কারের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে লংমার্চ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও তা নেওয়া হবে। পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।

জানা গেছে, লংমার্চে ঢাকা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের গাড়িবহর ছাড়াও পথে পথে স্থানীয় নেতারাও যোগ দেবেন। জোটের প্রত্যেক দল থেকেই সর্বাধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক আযাদ বলেন, "আমাদের নির্দেশনা ছাড়ও সব দল থেকেই ব্যাপক অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "সব মিলিয়ে এটি ঐতিহাসিক একটি লংমার্চ হবে এবং এতে ১১ দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ঢল নামবে।" কারণ, "বিভিন্ন দুর্ভোগের কারণে জনগণের মাঝে ক্ষোভ আছে।"

এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় সংসদে আরো সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল। তারই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশ্নোত্তর চলাকালে বিরোধীদলীয় দুই এমপির তোলা প্রশ্নকে ‘শাহবাগ স্কয়ার’ ও ‘পল্টনের বক্তৃতা’র সঙ্গে তুলনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের জেরে বিরোধী দলের কড়া প্রতিবাদে উত্তাপ ছড়ায়। এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল সংসদে তোলার আগে তাতে আপত্তি জানিয়ে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে দুবার ওয়াকআউট পরিস্থিতি হলেও আমরা কন্টিনিউ করার চেষ্টা করেছি।" তবে তিনি জানান, "শেষদিকে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাসের চেষ্টা করলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওয়াকআউট করেছি।" তিনি আরো বলেন, "এরপরও কোনো বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাসের চেষ্টা করলে আমরা প্রতিবাদ করব।"

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

তিনি বলেন, "আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না।" তিনি জানান, "গণভোট বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের লংমার্চগুলোতে বিএনপির বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়গুলো জনগণকে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে আট দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোটালীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট গৃহবধূ কান্দি ইউনিয়নের বরইভিটা গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ধারাবাশাইল বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছান। তখন পার্শ্ববর্তী গ্রামের জয়নুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাওলাদার (৩১) এবং তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে বাজারের পাশে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বাড়িতে গৃহবধূকে আটকে রেখে নাজমুল হাওলাদার টানা আট দিন ধরে তাকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার খবর প্রকাশিত হলে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করার পর তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় নাজমুল হাওলাদারকে আসামি করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোটালীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মা (ওসি) মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গৃহবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত নাজমুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম প্রায় প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। সে অনুযায়ী, সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশের বাজারে বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত দামে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে দাম নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই দরেই সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।

বাজুসের নির্ধারিত দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা কিনতে ভ্যাটসহ খরচ হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা।

এছাড়া তুলনামূলক কম দামি সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা কিনতে খরচ হবে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকায়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকায়।

বাজুস নতুন করে দাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গহনা এই নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি - মাগুরা ও শ্রীপুরের ভাগ্য বদলাবে ৯৮০ মিটারের গড়াই সেতু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি - মাগুরা ও শ্রীপুরের ভাগ্য বদলাবে ৯৮০ মিটারের গড়াই সেতু
 
 
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ।
 
নারুয়া-গোয়ালদাহ ঘাট এলাকায় প্রায় ৯৮০ মিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত সেতুটির নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও নদীর মাটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
 
সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সেখানে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী এবং চীন থেকে আসা দুই প্রকৌশলী।
 
পরিদর্শনকালে প্রকৌশলীরা প্রস্তাবিত সেতুর স্থান, গড়াই নদীর গতিপথ, নদীর তলদেশ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সেতু নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
 
স্থানীয়রা জানান, গড়াই নদীর কারণে বালিয়াকান্দির নারুয়া ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
 
প্রস্তাবিত প্রায় ৯৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির সঙ্গে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। এছাড়াও পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর জেলা গুলোও সুফল পাবে।
 
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সেতুটি নির্মাণ হলে একদিকে যেমন কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দুই উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এতদিন নৌকায় নদী পারাপার করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং নদীর মাটির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। এখন নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন দুই উপজেলার মানুষ।
 
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে প্রস্তাবিত গড়াই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হোক। তাদের মতে, সেতুটি শুধু দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ করবে না, বরং এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্র্যাড পিটের প্রযোজনায় নতুন সিরিজে কেট উইনস্লেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০০ এম


ব্র্যাড পিটের প্রযোজনায় নতুন সিরিজে কেট উইনস্লেট

লেবানিজ চলচ্চিত্র নির্মাতা মুনিয়া আকল কেট উইনস্লেটকে নিয়ে নেটফ্লিক্সের জন্য একটি পাঁচ পর্বের সিরিজ পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন। এই ড্রামা সিরিজটি জনপ্রিয় এমি বিজয়ী সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’-এর স্রষ্টা জ্যাক থর্নের লেখা এবং এটি কেট উইনস্লেটের নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রথম কাজ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

 

সিরিজটির শুটিং আগামী বছরে শুরু হবে, যা ওয়ার্প ফিল্মস,

এবং স্টিফেন গ্রাহামের ম্যাট্রিয়ার্ক প্রোডাকশনসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে।

‘দ্য আনহার্ড’ সিরিজে কেট উইনস্লেট এবং ম্যাক্সিন পিককে দুই বোনের চরিত্রে দেখা যাবে। গল্পের প্রেক্ষাপট অনুসারে, কর্তৃপক্ষের তাড়া খেয়ে দুই বোন পালিয়ে বেড়ায় এবং তারা নিজেদের জীবনের পুরনো সহিংসতার গোপন রহস্যগুলোর মুখোমুখি হয়। এই কাহিনির বাণিজ্যিক দিকের সঙ্গে রিডলি স্কটের বিখ্যাত সিনেমা ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’-এর তুলনা করা হচ্ছে।

 

মুনিয়া আকল, যিনি তার সুপরিচিত চলচ্চিত্র ‘কোস্টা ব্রাভা, লেবানন’ এবং কান উৎসবে প্রদর্শিত ‘সাবমেরিন’-এর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত, নতুন এই প্রকল্প সম্পর্কে জানান, "বার্তা দেওয়ার চেয়ে চলচ্চিত্রে প্রশ্ন তোলাই আমার মূল উদ্দেশ্য।"

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%