০৮:৫৭ পি.এম
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রথম ১৬ দিনেই তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল। এই সময়ে তেলের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.৯০ ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু ছয় মাস পরে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে। যদিও লড়াইয়ের দামামা বাজানো অব্যাহত আছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং সমুদ্রে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর এক অভিনব ‘লুকোচুরি’ খেলা।
পার্সি উপসাগরে ইরানি ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাত একটি দারুণ কৌশল গ্রহণ করেছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো মাঝসমুদ্রে পৌঁছানোর পরে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। এর পরে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় তারা হরমুজ প্রণালি হয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছায়। সেখানে অপেক্ষমাণ অন্যান্য জাহাজে তেল খালাস করে খালি ট্যাংকারগুলো আবার একই পথে ফিরে আসে।
এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘ডার্ক ট্রানজিট’। এর ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর ঝুঁকি কমেছে। বর্তমানে বীমা খরচ এবং নিরাপত্তার পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর এসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই
এই বিষয়ে জাহাজের ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার জানায়, গত মার্চ মাস থেকে পারস্য উপসাগরে দেড় হাজারেরও বেশি ‘অদৃশ্য’ যাতায়াতের ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ের শেষে গ্রিসের মালিকানাধীন ‘কিকু’ নামের বিশাল একটি জাহাজের যাত্রাপথ থেকে এই কৌশলের প্রমাণ মেলে। তেল নিয়ে দুবাই উপকূলের কাছে পৌঁছানোর পর জাহাজটির সংকেত হঠাৎ হারিয়ে যায়। পরদিন হরমুজ প্রণালির অন্য পাশে আবার এর সংকেত ধরা পড়ে।
শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথেও তেল পাঠাচ্ছে। সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ভিন্ন পথে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, গায়ানা, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলের উৎপাদন বাড়িয়েছে। এই সব পদক্ষেপের কারণে সংঘাতের মাঝেও তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন