মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:৩২ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মোড়াইল ফ্লাইওভারে একটি প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এবং অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
এ দুর্ঘটনাটি বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর বেলা শহরের মোড়াইল এলাকার ফ্লাইওভারের উপরে ঘটে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শহরের দিক থেকে কাউতলিমুখী একটি প্রাইভেটকার যখন অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি রিকশাও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনায় যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরা হলেন—প্রাইভেটকারের যাত্রী মীর জসিম উদ্দিন, তার স্ত্রী সালেহা বেগম এবং মা কামরুনেছা, মোটরসাইকেল চালক মাইনুল ইসলাম, রিকশাচালক রাসেল এবং অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া।
স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, খবর মিলার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মীর কাশেম আলী ছিলেন আমার বন্ধু। আমাদের একসাথে কাশেমপুর কারাগারে জেল খেটে কাটাতে হয়েছিল। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কেন তিনি দেশে ফেরত আসলেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'আমি ফিরে না আসলে, আমার ছেলেটা ধরে নিয়ে যাবে।'
বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্য আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই আন্দোলনে যারা সামনে ও পেছনে থেকে সমন্বয় করেছেন, তাদের অবদান স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী যদি দীর্ঘদিন নির্বাসনে না থাকতেন, তাহলে হয়তো আরও সুচারুভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব হতো। সে সময় মাঠের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম বা আত্মগোপনে ছিলেন। তবুও, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।
নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আয়নাঘরে তাঁর ৬১ দিন থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখানে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। তিনি মীর কাসেম আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচার কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, পরিবারকেও ধ্বংস করেছে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি এও বলেন, 'যদি আমরা বলতে শুরু করি— জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।'
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বহু জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এটি নিউটনের আপেলের মতো হঠাৎ পড়ে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। তাই, এই অর্জনকে কখনো দলীয়করণ করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান শিক্ষাঙ্গনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি যুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনগণ ধরে নেবে, এসব কর্মকাণ্ডে বিএনপির পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হতো, বর্তমানে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, অধ্যক্ষ হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তাঁর ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উচিত শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
হাসপাতালেও আহতদের ওপর হামলার অভিযোগ উত্থাপন করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আহতদের স্বজনরাও হামলার শিকার হয়েছেন। একজন আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে হামলার শিকারদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে জনগণ সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
আহত আলিফের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁকে দেখতে গেলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো কেউ যাননি। সরকার কোনো দলের নয়, বরং জনগণের—এ বিষয়টি মনে রেখে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াত প্রস্তুত যে কোনো প্রয়োজনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে।
আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চান এবং একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, "খুনি হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এর প্রশ্নে পুরো ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ।"
বুধবার রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, ‘মাফিয়া হাসিনার বিচার সুনিশ্চিত করার জন্য পুরো বাংলাদেশ এক এবং ঐক্যবদ্ধ। জুলাই এর ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সুন্দর প্রতিযোগিতা ও গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত থাকবে।
ভুল বোঝাবুঝি হলে সেগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব। কিন্তু খুনি হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এর প্রশ্নে পুরো ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের কিশোর সাহিত্যপ্রেমী ইয়াহিয়া আহমেদ অল্প বয়সেই কবিতা লেখার মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এই তরুণ লেখক প্রকৃতি, মানবিক অনুভূতি, প্রেম ও জীবনের নানা আবেগকে শব্দের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন।
ইয়াহিয়া আহমেদের পিতা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মাতা শারমিন আক্তার শিরিন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। ব্যস্ততার মাঝেও সাহিত্যচর্চাকে ভালোবেসে নিয়মিত কবিতা লিখে চলেছেন।
সম্প্রতি তার লেখা "চিত্তরঞ্জনের ঘাট" ও "উল্কাপাত" শিরোনামের দুটি কবিতা পাঠকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। "চিত্তরঞ্জনের ঘাট" কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে মানুষের অন্তরের ক্ষুধা ও মানসিক প্রশান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে "উল্কাপাত" কবিতায় এক অপূর্ণ ভালোবাসা, আবেগ, স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের অনুভূতি কাব্যিক ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।
কবিতাগুলোতে শব্দচয়ন, আবেগের গভীরতা এবং কল্পনার প্রকাশ একজন নবীন কবি হিসেবে তার সম্ভাবনার পরিচয় বহন করে।
ইয়াহিয়া আহমেদ বলেন, "সাহিত্য আমার ভালোবাসা। মানুষের হৃদয়ের কথা, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং জীবনের অনুভূতিগুলো কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করতে ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ভালো লেখক হতে চাই এবং পাঠকদের জন্য মানসম্মত সাহিত্য উপহার দিতে চাই।"
স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীরা মনে করেন, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ পেলে ইয়াহিয়া আহমেদ ভবিষ্যতে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চায় তার এই আগ্রহ ও সৃজনশীলতা নতুন প্রজন্মের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ