১১:৩৬ এম
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেব্বি রাজ্যে সন্দেহভাজন সশস্ত্র ডাকাতদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১০ পুলিশ সদস্য। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই পুলিশ সদস্য।
সোমবারের দিন, সাকাবা স্থানীয় সরকার এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। মঙ্গলবার নিহত পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, কেব্বি এবং পাশের জামফারা রাজ্যের মধ্যে চলাচল করছিল সন্দেহভাজন একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। যখন তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়, তখন পুলিশের সঙ্গে ওই দলের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
নাইজেরিয়া পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএসপি আনি ইনিয়েদু একটি বিবৃতিতে বলেন, সংঘর্ষের ফলে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরো দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় দুই বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ৯টা ২৫ মিনিটে সাকাবার রাফিন মাকুকু এলাকায় সংঘর্ষটি শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৭ জন সন্দেহভাজন ডাকাত নিহত হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল ধ্বংস করা হয়েছে।
নাইজেরিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক ওলাতুনজি দিসু নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের মৃত্যু পুলিশ বাহিনী ও দেশের জন্য একটি বড় ধরনের ক্ষতি। দিসু আরও মন্তব্য করেছেন যে, নিহত পুলিশ সদস্যরা যাদের রক্ষা করতে শপথ করেছিলেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।
তিনি তাদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। নিহত পুলিশ সদস্যদের মরদেহ কেব্বি রাজ্যের রাজধানী বিরনিন কেব্বিতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পরে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন অপরাধীদের ধরতে এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
দীর্ঘ সময় ধরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কেব্বি এবং জামফারা ছাড়াও সোকোতো ও কাটসিনা রাজ্যে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে। এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় হামলা, অপহরণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রামের এবং প্রত্যন্ত এলাকায় এই গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও নিয়মিত হামলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তার অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত এবং পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে। তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন