০৭:১২ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মধ্যে বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার একদিন পর আকবরনগর গ্রামে বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে শুরু থেকেই সকালে গ্রামের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, এ ব্যাপারে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় সোমবারই আকবরনগর গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এ সুযোগে জনশূন্য বাড়িগুলোতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপে অতিউৎসাহী কিছু ব্যক্তি আগুন দিচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
তবে দুইজন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, এখনো কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাদ আসর অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে স্বজনরা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।
এর আগে সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শুরুতে ব্যর্থ হয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর নেতৃত্বে রিজার্ভ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের কারণে কয়েক ঘণ্টা ভৈরব–কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল এবং ভৈরব–কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন এবং মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত বাসস্ট্যান্ড বাজারটির নাম ‘আকবরনগর’ নাকি ‘মিরারচর’ হবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
সর্বশেষ উত্তেজনা নিরসনে রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন দিনের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও, পরদিন সোমবার সকালে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুইজন নিহত, অর্ধশতাধিক আহত এবং পরদিন লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নতুন ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন