মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
সালমান শাহর পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। ২২ জুন সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা একটি অফিস আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের অনুলিপি সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামিরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমরউদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরো উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাল্য বিবাহ এবং মাদকের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে আজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও নাটিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসকের আয়োজনে তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পর্যায়ে আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও নাটিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম, জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুন্সি ফিরোজা সুলতানা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।
‘সোসাল মিডিয়া সমাজকে সংযুক্ত করার চেয়ে বিচ্ছিন্ন করছে’ এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাজার গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজ এবং পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি খন্ডনে বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শিত হয়। অংকুর নাট্য একাডেমির শিল্পীরা নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বাসস’কে জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পথনাটক, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি বছর দেশে হৃদরোগের কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘হৃদরোগে মৃত্যুর এই ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, হৃদয়ের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগের কারণে অধিকাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। সুতরাং, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করি না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চিকিৎসকদের সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্রষ্টার পরেই চিকিৎসকরাই মানুষের ভরসাস্থল। মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
উল্লেখ্য, এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব হার্ট দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন।
কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজনে এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আর হৃদরোগীদের চিকিৎসায় নানা রকম উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে এবং এর অধীনে বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানসমূহে ৮টি পদে মোট ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়, যা চলবে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এসএসসি পাস প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-
পদের বিবরণ
আবেদন শুরু: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে
চাকরির ধরন: স্থায়ী ও অস্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ। তবে প্রার্থীদের অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
কর্মস্থল: নরসিংদী
বয়স: প্রার্থীদের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনপত্রের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি এবং ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ১-৭ নং পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৮নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মালি সেনাবাহিনী এবং রাশিয়ার আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। এই তথ্যটি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
২০২০ ও ২০২১ সালে দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মালির সামরিক জান্তা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রাশিয়ার সহায়তা গ্রহণ করে। এই সময় তারা ওয়াগনার গ্রুপের আধাসামরিক সদস্যদের নিয়োগ করে, যা পরে আফ্রিকা কোরে রূপান্তরিত হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি ডাকার থেকে এ খবরটি জানায়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এর আগে মালিতে অভিযান চলাকালীন সময়ে মালি সেনাবাহিনী ও রুশ আধাসামরিক বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
অ্যামনেস্টির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যাঞ্চলের সেগু ও মপতি এবং উত্তরের টিমবুকটু অঞ্চলের সাতটি স্থানে অন্তত ৩৪ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য তারা নথিবদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতদের কেউই মৃত্যুর সময় সরাসরি কোনো সংঘাতে অংশ নিচ্ছিলেন না।
এতে বলা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার সময় বা গ্রেপ্তারের পর কয়েকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। কারও গলা কেটে দেওয়া হয় এবং কাউকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। কিছু মরদেহও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে টিমবুকটু অঞ্চলের ছোট একটি জনপদ টিন আদান্দার ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের যৌথ টহলের সময় চারজন নিহত হন।
অ্যামনেস্টি একই অঞ্চলে ২০২৫ সালের মার্চ ও নভেম্বরে পরিচালিত দুটি ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করেছে। ওই হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে অন্তত পাঁচটি শিশু ছিল।
সংস্থাটি জানায়, যৌথ সামরিক ও ওয়াগনার বাহিনীর টহলের সময় অথবা লেরে ও নামপালা সামরিক ঘাঁটিতে আটক অবস্থায় নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের শিকার ১৫ জন পুরুষের সাক্ষ্য তারা সংগ্রহ করেছে।
সাক্ষীরা টহল ও সামরিক ঘাঁটিতে ৩০ জনকে নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্যাতন অথবা ঘাঁটির অমানবিক পরিস্থিতির কারণে সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
অ্যামনেস্টির মতে, নিহত ও নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে অধিকাংশই ফুলানি, আরব ও তুয়ারেগ যাযাবর সম্প্রদায়ের সদস্য।
সংস্থাটি বলেছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের সন্দেহে কিছু ব্যক্তিকে তাদের জাতিগত পরিচয় এবং ওই গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় এমন এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ) সহ তিনটি নাগরিক অধিকার সংগঠন মালি সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতে মামলা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ