প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি বছর দেশে হৃদরোগের কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘হৃদরোগে মৃত্যুর এই ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, হৃদয়ের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগের কারণে অধিকাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। সুতরাং, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করি না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চিকিৎসকদের সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্রষ্টার পরেই চিকিৎসকরাই মানুষের ভরসাস্থল। মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
উল্লেখ্য, এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব হার্ট দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন।
কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজনে এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আর হৃদরোগীদের চিকিৎসায় নানা রকম উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন