বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:০৮ পি.এম
বিশ্বব্যাংক এবং বিএসইসির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশে একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি (এমআরসি) প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা, কাঠামো এবং আবাসন অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকটি বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (১৯ আগস্ট) কমিশনের সভাকক্ষে। বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক, হোসেন সাদাত, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা, এর কাঠামো এবং দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থায় এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বলা হয়, একটি কার্যকর মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি পুনর্থায়ন সুবিধা পেতে পারে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের সক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং প্রাথমিক বন্ধকি ঋণের (প্রাইমারি মর্টগেজ) বাজারও সম্প্রসারিত হবে।
এছাড়াও বৈঠকে বলা হয়, আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে কাজে লাগানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আবাসন অর্থায়নে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিএসইসি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশে একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের আবাসন খাতে অর্থায়ন ব্যবস্থা, পুঁজিবাজারের সক্ষমতা, সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধিদল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার খায়েরহাট বাজারে সরকারি খাসজমি দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামের খায়েরহাট বাজারে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযান পরিচালনা করেন পিরোজপুরের জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোবায়েত ফেরদাউস ও জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়ালিউর রহমান রুবেল। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খায়েরহাট বাজার এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে দোকানঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অপসারণ করা হয়নি। পরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি জমিতে নির্মিত বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে জামাল মোল্লা, মামুন, বাশার আকন, নুরুল ইসলাম, বাশার মৃধা, হাবিবুর রহমান, সোবহান খাঁ ও আনিসসহ কয়েকজন জড়িত। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিরোজপুরের জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোবায়েত ফেরদাউস বলেন, ‘সরকারি খাসজমি দখল করে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে আইন অনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিপিএলের গত দুটি আসরের আয়োজন করেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ফারুক আহমেদ। আর এই দুই আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে সাবেক বোর্ড পরিচালক আফিস আকবর এই হিসাবকে ভুল দাবি করেছেন। সেইসাথে, তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অডিটের সঙ্গে গণশুনানীরও দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবিটি করেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।
পোস্টে তামিমের হিসাবকে ভুল বলার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, বিপিএলের দুই সিজনের ৪০ কোটি টাকা ক্ষতির ঘোষণা কোনোভাবেই সত্যি নয়। তাই তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অডিটের পাশাপাশি গণশুনানীর দাবি রেখেছেন।
এর আগে, এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, বিপিএলের শেষ দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বিসিবির। ফলে যে টুর্নামেন্টে তাঁর ২০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে, সেই টুর্নামেন্টটি তাঁর প্রাধান্য তালিকায় নেই এই মুহূর্তে।
উল্লেখ্য, গত বছর বিসিবির নির্বাচনে পরিচালক পদে বিজয়ী হয়ে আসিফ আকবর দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের এনএসসি আমিনুল ইসলামের বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় আফিস আকবরসহ সকল পরিচালকের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও আসমা উল হুসনা রহমতপুর বাজার, রহমতপুর খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রহমতপুর বাজার এবং এর আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাজারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার অবস্থার পাশাপাশি খাল ও আশপাশের পরিবেশের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন।
এক্ষেত্রে ইউএনও আসমা উল হুসনা সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি রহমতপুর বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী এবং আশপাশে বসবাসরত স্থানীয়দের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করে পরে যথাযথভাবে অপসারণ বা পুড়ে ফেলার বিষয়টি নির্দেশনা দেন। এ সময়ে তিনি সবাইকে সচেতন করে বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজার ও আশপাশের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কেউ নির্দেশনা অমান্য করে যত্রতত্র ময়লা ফেললে কিংবা পরিবেশ নষ্ট করলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল করিম হাওলাদার, রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সুমন সিকদার, ইউপি সদস্য মো. শাহিন হোসেন, রহমতপুর বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলা জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, তিনি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় তার নামে এবং বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি রোডে ‘বন্ধন’ নামের একটি ভবনে সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একই এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনে তার নামে বা বেনামে আরও চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি ফ্ল্যাট ও জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় একজনের কথা থেকে জানা গেছে, সিএন্ডবি রোডের লাইফ কেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পাশে নির্মাণাধীন ওই ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রায় ২০ জন শেয়ার থাকার কথা রয়েছে, তবে মূল দায়িত্বে অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রয়েছেন। এদিকে, জমিটির ‘ক’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগের ভিত্তিতে মালিকানা ও কাগজপত্রের সত্যতা জানতে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সিটি করপোরেশনের বিধিমালা অনুযায়ী ছয় ফুট প্রশস্ত গলির পাশে কীভাবে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ফলে তদন্তের দাবি উঠেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের দপ্তর জানিয়েছে, মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময় এ নিয়ে ৬/৭ ফুট সড়কের পাশে সর্বোচ্চ তিন তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবন সম্পর্কে অবগত নন। তবুও বেআইনি নির্মাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম সরকারী কলেজের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের বায়তুল মাল সম্পাদক হওয়ায় তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আইন অনুযায়ী কি সঙ্গত, তা দেখা উচিত।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে পারে না। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকলে সরকারি আইন অনুযায়ী তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও বরিশাল জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুন্নবীর নির্বাচন পরিচালনায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে সরকারি দপ্তর ও ভূমি কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন স্থানীয়রা।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, 'গত ডিসেম্বর মাসে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিসিসি থেকে ৩ ইউনিটের ৯ তলা ভবনের প্ল্যান পাশ করিয়েছি।' জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক পদে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত, তবে কোনো পদে নেই।' ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহামুদুন্নবীর নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, 'নির্বাচনী সকল কর্মকান্ডে ছিলাম, তবে সরকারি চাকরি করার কারণে দলীয় পদে নেই।' তিনি আরো জানান, নির্মাণাধীন ভবনে তার ভাগ্নের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ