রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০৫:৪০ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল, ডোবা ও নালা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কাউখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান। এ সময় নৌ পুলিশের একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশে জব্দকৃত অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,
“চায়না দুয়ারী জাল দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছসহ জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা অবৈধভাবে এ ধরনের জাল ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
“দেশীয় মাছ রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। কোনোভাবেই নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এর পালন উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হল একটি দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানাতে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে হল প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন স্বাক্ষরযুক্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেয়াল পত্রিকার জন্য উক্ত হলের সকল আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ও স্মৃতিচারণমূলক লেখা আহ্বান করা হচ্ছে। নির্বাচিত এবং বাছাইকৃত লেখায়/প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সেরা তিন জনকে পুরষ্কৃত করা হবে। লেখার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশ’।
লেখার জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলী হলো কবিতা সর্বোচ্চ ১২ লাইন, স্মৃতিচারণ/ছোটগল্প সর্বোচ্চ ২৫০ শব্দ এবং প্রবন্ধ সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে থাকতে হবে। আগ্রহী ছাত্রীদের তাদের লেখা আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে হল অফিসে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির নিয়মানুসারে লেখাগুলো অবশ্যই শিক্ষার্থীর নিজস্ব, সৃজনশীল ও মৌলিক হতে হবে। লেখা এ-ফোর সাইজের কাগজে স্পষ্ট অক্ষরে হাতে লেখা অথবা কম্পিউটারে টাইপ করা থাকতে হবে। যোগসূত্রে লেখার সঙ্গে ছাত্রীর নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, রুম নম্বর এবং মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা আবশ্যক।
এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে নতুন বাংলাদেশের সূচনা সম্ভব হতো না। আজ এটি একটি রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত। এ গণ-অভ্যুত্থানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। সেই গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আমাদের সম্মান জানানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।
তিনি আরও জানান, দেয়াল পত্রিকায় জমা পড়া লেখাগুলো বিষয়বস্তুর গুণমান, সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনা এই তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আমি আশা করি, হলের সকল আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবে এবং নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের বাঘ এবং এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার সম্পূর্ণরূপে বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
আজ বুধবার অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবেশমন্ত্রী এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬ এর মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পাহারাদার। এটি একটি ‘কিস্টোন স্পিসিস’ হিসেবে বনের খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ একটি প্রাণীর রক্ষা সর্ম্পকিত বিষয় নয়; বরং এতে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রাণী, বনজ সম্পদ, খাদ্য, প্রজননক্ষেত্র এবং সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিরসনে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি পুনরুদ্ধার, বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সুন্দরবনে ২০১৫ সালে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘ দেখা গেছে। বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তথা ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সঙ্গে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য কাজ করা হবে। বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ আমাদের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় সংরক্ষিত অঞ্চল আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির সুযোগ বৃদ্ধির জন্য সুন্দরবনে ৮০টি পুকুর খনন করা হয়েছে এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। লোকালয় থেকে বন আলাদা করতে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাঘ এখন আর লোকালয়ে প্রবেশ করছে না।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্য শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা আবশ্যক। এজন্য সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও ভাবার দরকার আছে।
অনুষ্ঠানটি প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইলেট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুধবার, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল।
আজ বুধবার, তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরও জানান, ‘১৭ বছরের নিরন্তর রক্তঝরানো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিপুল শক্তি নিয়ে ছাত্র-জনতার বিস্ফোরণ ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে যে অভিনব প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে, তা ভুলে যাওয়ার নয়; এটি সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি ইতিহাস। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীর আত্মত্যাগ এবং আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু দানবীয় ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে।’
তিনি এও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট পতনের পর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাক্-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্ভয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা। এসব অধিকারের জন্য বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছর ধরে লড়াই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সমাজে আরেকটি আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়। যেটির ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী, জনতা ও শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব গণজাগরণ আমরা দেখতে পেয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। সেদিন অবসান ঘটে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের। সে কারণে আমরা একটি নতুন ধারণাও পেয়েছি। জুলাইয়ের এই বিপ্লবকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মিলিয়ে একটি সংগ্রাম ও রক্তঝরানো গণঅভ্যুত্থানের মাস হিসেবে ঘোষণার কথা আমরা শুনেছি এবং জানতে পেরেছি।
এ উপলক্ষে গত বছর বিএনপি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিল। এবারও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী জানান, দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচিগুলো আরও সুসংগঠিতভাবে পালনের লক্ষ্যে আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি)-এ একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে, তাই এজিয়ান সাগরের গ্রিক পর্যটন দ্বীপ পারোসে বুধবার দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকল কর্মীরা।
কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে জানা গেছে, পরিস্থিতির কারণে কিছু কিছু এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের উপ-মুখপাত্র ইয়ানিস আর্তোপিওস জানান, রাতের মধ্যে দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। এরপর প্রবল বাতাসের কারণে এটা দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঝোপঝাড় ও গুল্মাঞ্চল পুড়ে যায়।
এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি বিষয়টি জানিয়েছে।
আর্তোপিওস রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটিকে বলেছেন, ‘পশ্চিমাঞ্চলের ওই বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্বীপের দক্ষিণাংশে ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি আরো জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১০০ জন দমকল কর্মী, দুটি বিমান এবং পাঁচটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
রাতের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা এ রাতটিকে কঠিন বলে আখ্যা দিয়েছেন, তবে বুধবার সকালে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
পারোস ও প্রতিবেশী আন্টিপারোস দ্বীপের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় কর্মকর্তা ভাজেওস পেত্রোপুলোস জানিয়েছেন, ‘আজ আগুনের তীব্রতা আগের মতো নেই। তবে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় আগুন জ্বলছে। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১০টি গ্রাম খালি করা হয়েছে, কিন্তু কতজন বাসিন্দা ও পর্যটক বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এজিয়ান সাগরের সাইক্লাডিস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত পারোস, গ্রিসের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর близлежащ সান্তোরিনির পাশাপাশি এই দ্বীপেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে আসেন।
দীর্ঘস্থায়ী খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে প্রতি গ্রীষ্মেই গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল ঘটে। এসব পরিস্থিতি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির নানা এলাকায় আরও কিছু বনাঞ্চলে আগুন লেগেছে। তবে দমকলকর্মীরা হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির আগে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
এ পর্যন্ত স্পেন এবং ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরও কিছু দেশে চলতি গ্রীষ্মে যে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানল দেখা গেছে, সে থেকে গ্রিস কিছুটা রক্ষা পেয়েছিল।
গত সপ্তাহে তিন দিনের তাপপ্রবাহে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। গ্রিসের আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর এত দেরিতে মৌসুমে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই তৃতীয়বার। এর আগে ২০১৫ সালের ২০ জুলাই এবং ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ