০৬:৪৪ পি.এম
প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তা নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানপত্র দাখিল করতে আসা চারজন ফেস ভেরিফিকেশনে (মুখের অবয়ব পরীক্ষা) ধরা পড়েছেন। শাহবাগ থানায় করা প্রতারণার মামলায় ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আসামিরা হচ্ছেন মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।
সোমবার বিকেলবেলা ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর পর ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে গত ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয় এবং ১৯ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের ছবি ও তথ্য মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন (ফেস ভেরিফিকেশন)।
এতে দেখা যায়, মুখের অবয়বে মারাত্মক অসঙ্গতি রেকর্ড করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামিরা স্বীকার করেন যে, তারা মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তা নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
এই ঘটনার পর রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় থেকে তাদের আটক করা হয় এবং শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরদিন, সোমবার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে উপস্থিত করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষ থেকে আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। আসামী রাসেল রানা লিটন ও আলী হায়দারের পক্ষে তাদের আইনজীবী নাজনীন আক্তার এবং মাসুদ ফকিরের পক্ষে আইনজীবী মো. মনির হোসাইন জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ পরদিন নির্ধারণ করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন