০৬:৩৬ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণমানুষের নেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পর পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ, তিনি কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, ১ কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর নয়া পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশীদের মৃত্যুতে তিনদিনের শোক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার থেকে আগামী তিনদিন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ সর্ব সাধারণের কালোব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয় ও মরহুমের বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, দিনব্যাপী মরহুমের বাসভবনে কোরআন খতম এবং বাদ জুমা জেলা ও উপজেলার সকল মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশীদ ১৯৩৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার নিজ বাসভবনে বসবাস করতেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মরহুম আব্দুল বারিক মোক্তার।
অত্যন্ত মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে অ্যাডভোকেট হারুন আল রশীদ আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে জাতীয়ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও গণমানুষের নেতা।
আরও পড়ুন: রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, এসআরবি-৮-এর অভিযানে আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে চীফ হুইপ নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট হারুন-আল রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ২০ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা ও মোটরসাইকেল
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় शোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন