০৫:১৯ পি.এম
এক দশক ধরে চাষের বাইরে রয়েছে দামুড়হুদার কুঠির বিল। জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশনের অভাবে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের কুটির বিলে কৃষি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতিবছর দুইবার ধান চাষ হতো ও পাট হতো। কিন্তু বর্তমানে সেগুলি অতীত হয়ে গেছে। বর্তমানে বিলের বড় অংশজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা দাবি করেছেন যে, একটি স্লুইসগেট হলে আগের অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব। এই স্লুইসগেটের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কুঠির বিলটির অবস্থান চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, কুঠির বিলের কৃষিজমির পরিমাণ হচ্ছে দেড় শ বিঘা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বছরে মাত্র একবার সেখানে ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, আগে বিলের পানি উপজেলা কেশবপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে দামুড়হুদা-বিষুপুর সড়কের খানপাড়া সেতুর নিচ দিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে নেমে যেত। কিন্তু প্রায় ১২ বছর আগে সেতুটির নিচে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, পানি বের হতে না পারায় বিলটি জলাবদ্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিলের খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তদন্তে দেখা যায়, এক সময় ওই বিলে বছরে তিনবার ফসল হতো, কিন্তু বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের অভাবে এক ফসল উৎপাদনও হচ্ছে না। বৃষ্টির সময় সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি জমে যেতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন, কুঠির বিলের খালটি পুনঃখনন করে সেতুর নিচ দিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা উচিত। যদি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়, তবে ওই বিলের প্রায় ১৫০ বিঘা জমিকে তিন ফসলের আওতায় আনা যাবে।
কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেছেন, কুঠির বিল পলি ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি জমে যায়। ফলে আমন ধানের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। বলছেন, চলতি মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ধান রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে এলাকার কৃষকবৃন্দ বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। খালটি পুনঃখনন করে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে, প্রায় দেড় শ বিঘা জমিতে পুনরায় চাষাবাদ সম্ভব হবে।
দুই কৃষক খলিলুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম প্রকাশ করেছেন যে, বর্ষা মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা কৃষিকাজে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দ্রুত কুঠির বিলের খাল পুনঃখনন এবং স্লুইসগেট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তারা।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কুঠির বিলে ৫০ একর (দেড় শ বিঘা) জমি বিদ্যমান। জলাবদ্ধতার কারণে এখানে এক ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, খাল পুনঃখনন করা গেলে তিন ফসলের আওতায় আনা যাবে। তবে, জমির মালিকদের একমত হতে হবে।
আজ (সোমবার) উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বিল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে এখানে চাষাবাদ বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে, পুড়াপাড়া কেশবপুর অংশে পূর্বে যে খালটি ছিল, সেটি পুনঃখনন করে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে জমিগুলি পুনরায় তিন ফসলি অঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। তবে এর জন্য জমির মালিকদের সহমতের প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন