ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় কোনও ছাড় নয়, হুঁশিয়ারি ইরানের


যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় কোনও ছাড় নয়, হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা অথবা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার ওপর ওয়াশিংটনকে কোনও ধরনের অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ কিংবা সীমা অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে ইরান সতর্কতা জারি করেছে। দেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের মোকাবিলার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে। প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় এ মন্তব্য করেছেন। রেজায়ী বলেছেন, “প্রতিটি গুলি ও আগ্রাসনের জবাব হবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপক হামলা। ইতিহাসকে পেছনে ফেরানো যাবে না এবং আগ্রাসী পক্ষ দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “আলোচনা কিংবা যুদ্ধবিরতি, কোনও ক্ষেত্রেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সীমা ছাড়াতে বা নিজেদের স্বার্থ চাপিয়ে দিতে দেব না।” বিশ্লেষকদের মতে, রেজায়ীর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের চাপ বা হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তেহরান বারবার বলছে, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা কোনও আপস করবে না। রেজায়ীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেক পর্যবেক্ষক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হলে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষিখাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


কৃষিখাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

কৃষি, কৃষক, ক্ষেতমজুর এবং দেশ রক্ষার লক্ষ্যে উন্নয়ন বাজেটে ৪০ ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দের জন্য বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা, জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের কাজ, খাদ্য ও রেশনিংয়ের নিশ্চয়তা চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে জেলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের ১নং রেলগেটে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সংগঠনের জেলা সভাপতি গোলাম ছাদেক লেবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের জেলা সংগঠক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, ডাক্তার আব্দুল জব্বার, কমরেড আয়নাল হক এবং শাহজালাল তোতা প্রমুখ।

বক্তারা দাবি করেন, বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। গত ৫৪ বছরের শাসনে এই দেশে কৃষি ও কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দিনমজুর এবং ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে।

দেশকে রক্ষা করার জন্য কৃষি এবং কৃষকদের রক্ষা করা প্রয়োজন। সমাবেশের শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আসন্ন বাজেটে ৪০ ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দ দেওয়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উভয়ই পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসময় পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত সুদৃঢ় সম্পর্ক বিরাজমান। তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিযোগ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান।

মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভূমিকা রেখেছে তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

এ্যানি চৌধুরী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাস অতিবাহিত করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা সম্পন্ন হলে অচিরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনুমোদনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্টদূত বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, গণতন্ত্র সুসংহত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভূমিকা রেখেছে, আগামীতেও তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনৈতিক শাখা প্রধান মাইক পেনেল, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা চার্লস বেসনার্ড উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শিশুকে অপহরণচেষ্টায় আটক ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


টেকনাফে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শিশুকে অপহরণচেষ্টায় আটক ৩

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক এক শিশুকে অপহরণ করার চেষ্টা চলাকালীন র‌্যাব তিন অপহরণকারীকে আটক করেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন: টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়ার হাফেজ উল্লাহ’র ছেলে কেফায়েত উল্লাহ (২৪), নতুন পল্লান পাড়ার আব্দুস ছালামের ছেলে শাহাব উদ্দিন (২৮) এবং একই এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুর রজব মিয়া (৩৫)।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা টেকনাফ পৌরসভার নতুন পল্লান পাড়ার আদি বাসিন্দা, যে বর্তমানে মার্কিন নাগরিক। গত মাসখানেক আগে শিশুটি বাবা ও মায়ের সঙ্গে টেকনাফে দাদার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল।

আ. ম. ফারুক জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নতুন পল্লান পাড়ায় ৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক শিশুটিকে একাকী পেয়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত অপহরণ করার চেষ্টা করছিল। এসময় স্থানীয়রা ঘটনাটি লক্ষ্য করে অপহরণকারীদের ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে পশ্চিম গোদারবিল এলাকায় অপহরকারীদের আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা।

পরে স্থানীয়রা বিষয়টি অবহিত করলে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার এবং তিন অপহরণকারীকে আটক করে।

আ. ম. ফারুক জানান, শিশুটিকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘হরমুজ কার্ড’ হতে যাচ্ছে গ্রেট নিকোবর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘হরমুজ কার্ড’ হতে যাচ্ছে গ্রেট নিকোবর?

গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে কেন্দ্র করে ভারত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মূলত ভারত মহাসাগরে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিজেদের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে মোদি সরকার দ্বীপটিকে একটি বিশাল অর্থনৈতিক এবং সামরিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্পের পেছনে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে, পরিবেশবিদদের মধ্যে এবং আদিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের কিছু অংশের মতে, মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপটি ভবিষ্যতে ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে পরিণত হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই দ্বীপটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপ ভৌগোলিকভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের অনেক কাছে অবস্থিত। এটি মালাক্কা প্রণালীর পশ্চিম প্রবেশপথের নিকটে অবস্থিত, যেখানে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই চলে। বিশেষ করে চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং দুই-তৃতীয়াংশ বৈদেশিক বাণিজ্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস চিফ শেখর সিনহা বলেন, “গ্রেট নিকোবর মালাক্কা প্রণালীর মুখে অবস্থান করছে। এখান থেকে প্রণালীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এটি ভারতের সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।”

মোদি সরকারের মেগা প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্রেট নিকোবরে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য নতুন জনপদ নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

সরকারের দাবি, প্রকল্পটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করবে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রকল্পের লক্ষ্য আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের উপস্থিতি শক্তিশালী করা, জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং দ্বীপাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”

তবে প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছে। গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বসবাসকারী শম্পেন ও নিকোবারি আদিবাসীরা তাদের ভূমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

দ্বীপটির মোট আয়তনের প্রায় ১৬ শতাংশ এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক অংশ আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শম্পেন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ জন আন্তর্জাতিক গণহত্যা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এই প্রকল্প শম্পেন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডের সমতুল্য’ হতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার পর্যায়ে পড়তে পারে।

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৬৪ হাজার গাছ কাটা হবে। একই সঙ্গে দ্বীপে আগামী তিন দশকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন বাসিন্দা বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বর্তমানে দ্বীপটির জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। ফলে জনসংখ্যা প্রায় ৪ হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

গ্রেট নিকোবর ভারতের সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। এটি সিসমিক জোন-৫ এর অন্তর্ভুক্ত, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণি। ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সময় দ্বীপটির দক্ষিণাংশ প্রায় ৪ দশমিক ২৫ মিটার নিচে দেবে যায়। ফলে ইন্দিরা পয়েন্ট এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত বাতিঘরটির একটি অংশও সমুদ্রের পানির সাথে আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এত বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প এই ভঙ্গুর দ্বীপের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী গ্রেট নিকোবর সফর করে স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “সরকার একে উন্নয়ন প্রকল্প বলছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এটি উন্নয়নের ভাষায় সাজানো ধ্বংসযজ্ঞ।”

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রকল্পটি ভারতের প্রাকৃতিক এবং আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ও গুরুতর অপরাধগুলোর একটি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত অস্ত্রের সংক্রান্ত বিষয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকদের কিছু অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে গ্রেট নিকোবর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

তবে সাবেক নৌ কর্মকর্তা শেখর সিনহা এই ধারণাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমানের নিয়ন্ত্রণে। একইভাবে মালাক্কা প্রণালী মূলত ইন্দোনেশিয়ার জলসীমার মধ্যে রয়েছে। তাই ভারত চাইলে সহজে এটি অবরুদ্ধ করতে পারবে- এমন একটি ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।”

এছাড়াও, তিনি স্বীকার করেন যে, গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন করা হলে ভারত মালাক্কা অঞ্চলে আরও কার্যকর নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্ট ধারণা পাবে।

সমালোচকদের মতে, প্রকল্পটি মূলত একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ, যাকে এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ মনীশ চান্দি বলেন, “এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প। এর সম্ভাব্য লাভ অনিশ্চিত, কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি ব্যাপক হবে। শেষ পর্যন্ত এটি ভারতের জন্য সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হতে পারে।”

ফলে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প বর্তমানে শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; এটি ভারতীয় অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সামরিক কৌশল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী অধিকার- এ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%